ইসকন, আইনজীবী নিহত এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে যা হয়েছে হাইকোর্টে

হাইকোর্টের এনেক্স ভবন

ছবির উৎস, JANNATUL TANVEE

চট্টগ্রামে সংঘর্ষে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ নিহত এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে হাইকোর্টকে অবহিত করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। এতে সন্তোষ প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট।

এদিন রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে জানিয়েছে আইনজীবী নিহতের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে । তিনটি মামলায় ৭৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। একইসাথে শুধু চট্টগ্রাম না এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে সারাদেশে তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

হাইকোর্ট বলেছে, রাষ্ট্র সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি দেখছে, তাতে আমরা সন্তুষ্ট। এটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তারা এখানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে, আদালতের আর কিছু করার নাই।

তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এদিন ইসকনের বিষয়ে সরকারের কী পদক্ষেপ বা ভাবনা সে বিষয়ে কোনো কিছু জানাননি।

পরে আদালত এ বিষয়ে কোনো আদেশ দেয়নি।

বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চে এ শুনানি হয়েছে।

নিহত আইনজীবী সাইফুল

ছবির উৎস, SAIFUL ISLAM ALIF/FACEBOOK

‘সরকার টপ মোস্ট প্রায়োরিটি দিয়েছে’

সকাল এগারোটায় শুনানিতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদ উদ্দিন আদালতকে জানান সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এ বিষয়গুলো দেখছে। একইসাথে হত্যার ঘটনার ইস্যু ধরে ব্যবস্থা নিয়েছে।

তিনি বলেন, “পুলিশ তিনটি মামলা করেছে। একটিতে ১৩ জন, আরেকটিতে ১৪ জন এবং অপরটিতে ৪৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”

আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার ঘটনার কথা উল্লেখ করে মি. উদ্দিন বলেন, “পুলিশ সিসিটিভির ফুটেজ দেখে ছয় জনকে শনাক্ত করেছে। ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত ছিল তারা। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে নিশ্চয়ই আরও তথ্য বের হয়ে আসবে।”

রাষ্ট্রপক্ষের এই কর্মকর্তা আদালতকে জানান “পুলিশ ও সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছেন। একইসাথে শুধু চট্টগ্রামেই নয়, সারা দেশের যেখানে এসব ঘটনার কথা এসেছে সেসব স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। সরকার টপমোস্ট প্রায়োরিটি দিয়ে বিষয়টিকে অ্যাড্রেস করেছে।”

‘আমরা খুবই সন্তুষ্ট’

এ সময় হাইকোর্ট ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমরা শুনে আশ্বস্ত হলাম আপনারা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছেন। দেশের জনগণের জানমাল, কারো কোনো ক্ষতি যেন না হয় এটাই সবার চাওয়া। আদালত আশ্বস্ত হয়েছে আপনারা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছেন শুনে।”

“আমরা খুবই সন্তুষ্ট” বলে সন্তোষ প্রকাশ করে হাইকোর্ট।

আদালত রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তাকে বলেন, “কর্তৃপক্ষকে জানাবেন উনাদের তৎপরতা যেন জারি থাকে। আইন অনুসারে জারি রাখতে হবে যাতে কোনো কর্নার থেকে কেউ কথা বলতে না পারে এ বিষয়ে।”

চট্টগ্রামের আদালতে লাঠিচার্জ

ছবির উৎস, KAMOL DAS

ছবির ক্যাপশান, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিনকে ঘিরে সংঘর্ষে চট্টগ্রামের আদালতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ

আবেদনকারী আইনজীবীর উদ্বেগ

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

এক পর্যায়ে ইসকন নিষিদ্ধ চেয়ে স্বতঃপ্রণোদিত আদেশ চাওয়া আইনজীবী মনির উদ্দিন আদালতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “বিশ্বের ১০ দেশে ইসকন নিষিদ্ধ। অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের উপর হামলা, গ্রেফতার করা এমনকি মাথা পর্যন্ত ফাটিয়ে দেয়া হয়েছিল, কিন্তু ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তখন কোনো বিবৃতি দেয়নি।”

তিনি চট্টগ্রামে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন না দেয়াকে ঘিরে ভারত থেকে দেয়া বিবৃতি ও আইনজীবী হত্যার ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, “ইসকনের কার্যক্রম খুবই উচ্ছৃঙ্খল ও বিশৃঙ্খল। তাই এদের এখনই যদি নিষিদ্ধ করা না হয় তবে ...।”

পরে আদালত তাকে আবারও আশ্বস্ত করে বলেন, “রাষ্ট্র সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি দিয়ে দেখছে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন। এটা উনাদের দায়িত্ব। এখানে আদালতের কিছু করার নেই। রাষ্ট্র কাজ করে যাচ্ছে। আমরা আছি, জনগণের সাথে আছি।”

এ সময় অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতকে বলেন, “এই মুহূর্তে কোনো আদেশ দেয়া সমীচীন হবে না। রাষ্ট্র সব পদক্ষেপ নিয়েছে। যদি কোনো ঘাটতি থাকে তখন ভিন্ন বিষয়।”

হাইকোর্ট এ সময় আরো বলে, “আমরা সংবিধানের অভিভাবক। তাই আমরা কাজ করবো যাতে সংবিধান সমুন্নত রাখা হয়। আইনের ভেতরে যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু আপনাদের সাথে নিয়ে আমরা কাজ করব। আমরা খুবই সন্তুষ্ট।”

'অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর আস্থা আছে'

এ পর্যায়ে আইনজীবী মনির উদ্দিন আবারও ইসকনকে নিষিদ্ধ চেয়ে স্বতঃপ্রণোদিত আদেশ চাইলে আদালত বলে, “এটা ওনাদেরই ( সরকারের) দায়িত্ব। রাষ্ট্রের নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারের। রাষ্ট্র যন্ত্র কাজ করছে, আমাদেরও আস্থা আছে, অন্তর্বর্তী সরকার এখানে কাজ করছে।”

রিটকারী আইনজীবী এ সময় আবারো ইসকনের বিষয়ে আদেশ দেয়ার আবেদন করলে আদালত বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত সৌহার্দপূর্ণ। মুসলিম,হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সবাই মিলেমিশে সৌহার্দপূর্ণ, বন্ধুত্বপূর্ণ, পরিবেশে থাকে। একজনের প্রতি আরেকজনের যে ভালোবাসা তা কখনো ভাঙবে না।”

আবারও আদালত আইনজীবী মনিরকে “দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই আমরা আশা করি” বলে আশ্বস্ত করেন।

এর আগে বুধবার এই আইনজীবী গণমাধ্যমের বেশ কিছু সংবাদ নজরে এনে ইসকনকে নিষিদ্ধ, আইনজীবী হত্যা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আদালতের স্বতঃপ্রণোদিত আদেশ চান। পরে রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবীকে এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ জানাতে নির্দেশ দেয়া হয়।

এদিকে, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান ইসকনকে নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া আইনজীবী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা এখন সময়ের দাবি বলে উল্লেখ করেছেন।

এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তিনি।

একইসাথে আইনজীবী হত্যার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানানো হয়েছে।