কঙ্গনা রানাওয়াতে নাকি বিক্রমাদিত্য সিং- মাণ্ডিতে হাওয়া কার দিকে?

ছবির উৎস, KANGANARANAUTTEAM/ANI
- Author, যুগল পুরোহিত
- Role, বিবিসি সংবাদদাতা
- Reporting from, মান্ডি, হিমাচল প্রদেশ
“এবার নির্বাচনি ময়দানে টক্কর রয়েছে... ভোটাররাও বিভ্রান্ত,” ভারতের হিমাচল প্রদেশের মাণ্ডিতে ভোট গ্রহণের আগে যে ভোটারদের সঙ্গেই আমাদের সাক্ষাৎ তাদের প্রায় প্রত্যেকেই এ কথা জানিয়েছেন। পহেলা জুন ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনের শেষ দফায় ওই আসনে ভোট গ্রহণ হতে চলেছে।
চলতি নির্বাচনে টক্করের কথা মেনে নিলেও ব্যক্তিগত মতামতের উপর ভিত্তি করে বিষয়টাকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গিয়ে তাদের মধ্যে অনেকেই জানিয়েছেন, ভোটের লড়াইয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন।
এবার নির্বাচনে এই আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ১০ জন প্রার্থী ভোটে লড়ছেন তবে সবার নজর রয়েছে দুটো জাতীয় দলের প্রার্থীদের দিকে। বিজেপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত এবং কংগ্রেস নেতা তথা রাজ্যের নগর উন্নয়ন মন্ত্রী বিক্রমাদিত্য সিং। হিমাচল প্রদেশের প্রয়াত সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বীরভদ্র সিং এবং সাংসদ তথা ওই রাজ্যের কংগ্রেসের প্রধান প্রতিভা সিংয়ের ছেলে বিক্রমাদিত্য।
গত ২০১৪ ও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে হিমাচল প্রদেশের চারটে লোকসভা আসনেই জিতেছিল বিজেপি।
কংগ্রেসের প্রতিভা সিং ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে জয়ী হন এবং মাণ্ডি লোকসভা আসনটি তার ঝুলিতে আনেন। তবে চলতি লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
হিমাচল প্রদেশ বর্তমানে কংগ্রেস শাসিত। ২০২২ সালে বিজেপিকে হারিয়েছিল কংগ্রেস। চীন, জম্মু ও কাশ্মীরের এবং উত্তরাখণ্ডের সীমান্তবর্তী মাণ্ডির নির্বাচনি এলাকা বিশাল।
বিজেপির টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত এবং কংগ্রেসের বিক্রমাদিত্য সিং -কারো বয়সই কিন্তু ৪০ পেরোয়নি। কিন্তু পরিচয়ের ভিত্তিতে দুই নেতাই সমাবেশে ভিড় জমাতে পারছেন।

ছবির উৎস, KANGANATEAM
কঙ্গনা রানাওয়াতের বিষয়ে জনতা কী বলছে ?
প্রখর রোদে অপেক্ষা করছেন প্রায় ২০-৩০ জন বিজেপি সমর্থক। এখন দুপুর ১২টা আর আমরা মাণ্ডি থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে পাদ্দার গ্রামে এসে পৌঁছেছি।
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
এরই মধ্যে 'ভারত মাতা কি জয়', 'মোদীজিকে জয় শ্রীরাম', 'কঙ্গনাজিকে জয় শ্রীরাম' স্লোগান ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত কনভয়ের সামনে থাকা পুলিশের গাড়ির উপর নজর পড়তেই এই স্লোগান আবারও উঠতে থাকে।
কঙ্গনা রানাওয়াত এসে পড়েছেন।
রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জয়রাম ঠাকুরের সঙ্গে মঞ্চে পৌঁছান কঙ্গনা রানাওয়াত। মঞ্চে দাঁড়িয়ে থাকা বক্তা হাসিমুখে বলেন, "আমাকে তাড়াতাড়ি বক্তব্য শেষ করতে বলা হয়েছে," একথা বলেই নিজের বক্তব্য জারি রাখেন তিনি।
অবশেষে মঞ্চে উঠলেন বলিউড অভিনেত্রী যিনি প্রথমবার বিজেপির হয়ে নির্বাচনে লড়ছেন।
পরের কয়েক মিনিট নিজের বক্তব্য পেশ করেন ৩৭ বছর বয়সী এই প্রার্থী। বিগত এক দশকে কেন্দ্রীয় সরকারের কাজের খতিয়ান থেকে শুরু করে কীভাবে তিনি বলিউডে নিজের স্থান তৈরি করেছিলেন সেই সমস্ত বিষয় উল্লেখ করলেন তার ভাষণে। একই সঙ্গে তিনি যে ওই এলাকারই বাসিন্দাদের মধ্যে একজন সে বিষয়টিও জনসাধারণের মাঝে তুলে ধরেন।
নিজের বক্তব্য শেষ করার পর তিনি বলেন, "যে কোনও কিছু নিয়ে আমার কাছে আসতে পারেন আপনারা। সমস্ত সমস্যার কথা বলতে পারেন। শুধু ভোট দিতে যান। আর যখন যাবেন, তখন সঙ্গে করে আরও ১০-১৫ জনকে নিয়ে যান।"
কঙ্গনা রানাওয়াতের সমাবেশগুলো মূল্যায়ন করলে দেখা যাবে ভোটারদের মধ্যে কিন্তু স্থানীয় এবং জাতীয় দুই ইস্যুই রয়েছে। বিজেপি সমর্থকরা সবচেয়ে বেশি উৎসাহী হয়েছিলেন যে সময় "স্থগিত থাকা প্রকল্পগুলি" আবার চালু করার এবং মাণ্ডিতে রেললাইন আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।
বক্তব্য পাশের সময় বিরোধী দল কংগ্রেসকে আক্রমণ করতে গিয়ে কড়া ভাষাও ব্যবহার করছিলেন কঙ্গনা রানাওয়াত।

বিজেপিতে কঙ্গনা রানাওয়াতকে নিয়ে কেন ক্ষোভ রয়েছে?
তবে দেখে মনে হলো না বিজেপির টিকিটে লড়া এই বলিউড অভিনেত্রীকে নিয়ে খুব একটা খুশি বিজেপির অন্দরমহলের একাংশ। কারণ জানতে চাইলে তারা জানিয়েছেন, কঙ্গনা রানাওয়াতের টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সমস্যা হচ্ছে তাদের। এই অভিযোগ সম্পর্কে তার মতামত জানার জন্য মিজ রানাওয়াতের সঙ্গে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করা হয়েছিল বিবিসির পক্ষ থেকে। কিন্তু কোনও সাড়া মেলেনি।
ওই সমাবেশে বলিউড অভিনেত্রী তথা বিজেপি প্রার্থীকে দেখতে এসেছিলেন দুই সন্তানের মা রিনা। একটা নির্মীয়মাণ বাড়ির বারান্দায় বসে আমাদের সঙ্গে কথোপকথনের সময় রিনা জানিয়েছিলেন, তিনি বিজেপি সমর্থক।
রিনার কথায়, "আমি ওনাকে (কঙ্গনা রানাওয়াতকে) দেখতে চেয়েছিলাম। তিনি এখানকার বাসিন্দা এবং একজন নারী। যারা তার বিরোধিতা করছেন, তাদের কঙ্গনার কৃতিত্বের প্রশংসা করা উচিত।"

বিজেপি সমর্থক রিনাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল বিরোধী দল কংগ্রেস সম্পর্কে তিনি কী ভাবছেন।
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, "পাইপ বসানো সত্ত্বেও আমাদের বাড়িতে জল আসছিল না। আমার বাবা সবার কাছে অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু ওদের (কংগ্রেস) সরকারের সময় আমাদের কথা শোনার মতো কেউ ছিল না।"
"তারপর থেকেই আমরা বিজেপিকে ভোট দিয়ে আসছি। এখন কাজ হচ্ছে বলেই আমাদের মনে হয়। বিজেপির সেই প্রকল্পগুলি আমরা পছন্দ করি যেগুলি তারা রাজ্যে ক্ষমতায় থাকাকালীন শুরু করেছিল। এখন অনেক পরিবর্তন ঘটছে।"

কিন্তু এই পরিবর্তনগুলো কি তাদের পক্ষে?
কিছুক্ষণ চিন্তা করার পর রিনা বলেন, "সব ঠিকঠাক ছিল না। নারীরা এখনও অনেক বিরোধিতার সম্মুখীন হন। তাদের সঠিক অর্থে ক্ষমতায়ন এবং আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে হলে এখনও অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে। তবে আমরা আশা রাখছি।
মাণ্ডির প্যাডেল গ্রাউন্ডে ২৪ই মে জনসভা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন, জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপ, এক পদ এক পেনশন (ওআরওপি) ইত্যাদি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি স্থানীয় সরকারকেও আক্রমণ করেছেন।
তার ২৮ মিনিটের দীর্ঘ ভাষণে প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, গত বছর অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরে হিমাচল প্রদেশে কেন্দ্র যে অর্থ পাঠিয়েছিল সেটা কোথায় ব্যবহার করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর সভা ছিল দুপুর ২টা নাগাদ। তবে আমরা এমন অনেক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছি যারা গোটা রাত সফর করে দূরের গ্রাম থেকে এসে পৌঁছেছেন।
তাদেরই একজন রমন শর্মা। পেশায় কৃষক এবং ফটোগ্রাফার তিনি।
তিনি বলেন, "মোদীজি যদি এতদূর মাণ্ডিতে আসতে পারেন, তাহলে আমিও আসতে পারি।"
মি. শর্মা আরও যোগ করেন, "যোগী আদিত্যনাথ বলেছিলেন পাকিস্তানঅধিকৃত কাশ্মীরের এলাকাগুলিকে আমরা ভারতের অন্তর্ভুক্ত করব। আমি তার কথায় বিশ্বাস করি। আগে বলা হতো ৩৭০ ধারা কেউ ছুঁতে পারবে না, কিন্তু দেখুন সরকার কী করেছে!"

প্রিয়ন্তা শর্মাও বিজেপির সদস্য। প্রধানমন্ত্রী মোদীর সমাবেশে তিনি এসেছিলেন।
আমি তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব জাতীয় ইস্যুগুলি তার মতো সদস্যদের ক্ষতি করছে কি না। এর উত্তরে তিনি না বলেছিলেন।
তিনি বলেন, "দেশের অগ্রগতিতে মানুষ খুশি এবং যখন আমরা বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হয়ে উঠতে চলেছি, তখন এই ধরনের সমস্যাগুলো নেই। নারীদের সংরক্ষণসহ আমাদের অন্যান্য পরিকল্পনাগুলো দেখুন। আমরা আগামী কয়েক বছরে নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে আরও অনেক পদক্ষেপ নিতে চাই।"
বিজেপি বা এনডিএ-র সদস্য ব্রিজভূষণ শরণ সিং বা প্রজ্বল রেভান্নার মতো নেতা যাদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তোলা হয়েছে তাদের বিষয়েও জানতে চেয়েছিলাম প্রিয়ন্তা শর্মার কাছে।
এর উত্তরে তিনি বলেছিলেন তাকে অন্য কাজে যেতে হবে।

ছবির উৎস, Getty Images
বিক্রমাদিত্য সিংয়ের দাবি
এরপর গিয়েছিলাম পাঞ্জাবের সমতল সংলগ্ন কনায়েদ গ্রামে। সেখানে ৩৪ বছর বয়সী কংগ্রেস প্রার্থী বিক্রমাদিত্য সিং পথসভা করছিলেন।
ঘটনাচক্রে, বিক্রমাদিত্য সিংয়ের বাবা এবং হিমাচল প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বীরভদ্র সিং ২০০৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে কংগ্রেসের হয়ে রাজ্য থেকে একমাত্র আসন জিতেছিলেন। এবং সেই আসনটি ছিল মাণ্ডি।
বিক্রমাদিত্য সিংয়ের নির্বাচনি প্রচার হিমঘর প্ল্যান্ট, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট স্থাপনের মতো স্থানীয় ইস্যুগুলির পাশাপাশি কংগ্রেসের ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির উপর ভিত্তি করে। মন্ত্রী পদে থাকা অবস্থায় উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ানও জনগণের সামনে তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে তার বাবা মুখ্যমন্ত্রী থাকালীন যে সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন সেই সমস্ত কথাও উল্লেখ করেন।
তার প্রচারে দুটো বিষয় স্পষ্ট হয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিরুদ্ধে সংযত আক্রমণ করছিলেন এবং তার ভাষা নীতিন গডকড়ীর মতো কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রীদের প্রতিও আন্তরিক ছিল।

ছবির উৎস, Getty Images
আমি তাকে এর কারণটা জিজ্ঞেস করলাম।
তার উত্তরে বিক্রমাদিত্য সিং আমাকে বলেন, "আমরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারি কিন্তু আমাদের বক্তব্যকে সভ্য রাখতে হবে। আমি মনে করি এখানে আমার বিরোধী (কঙ্গনা রানাওয়াত) একজন অভিনেত্রী কম এবং কৌতুকাভিনেতা বেশি।"
"হাস্যকর কাজের জন্য তিনি পরিচিত।"
"আমার মনে হয় তার প্রথমে এইটা স্পষ্ট করা উচিত যে তার অগ্রাধিকার কোনটা -বলিউড না কি মাণ্ডি? দু'টোর প্রতি একসঙ্গে সুবিচার করা যায় না। যদি আপনি তার সঙ্গে তুলনা করে দেখেন তাহলে, আমি সবসময় এখানেই থাকব।"

তার কনভয় এগিয়ে যেতেই আমরা পৌঁছে গেলাম কাতেরু নামে আরেকটা গ্রামে।
এখানে রুতভিজ যোশীর সঙ্গে আমার দেখা হয়। তিনি গুজরাটের কংগ্রেস নেতা। দলের পর্যবেক্ষক হিসেবে এখানে কাজ করছেন। তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল তার দল বিজেপির 'জয়রথ' থামানোর জন্য কী পরিকল্পনা করছে।
"হিমাচল প্রদেশে যেখানে শিক্ষার হার কেরালার সমান সেখানে মানুষ বিভেদমূলক ইস্যুতে আটকা পড়বে না।"
"দশ বছর সব আসনে বিজেপি সাংসদ থাকার পর এবার মানুষ তাদের সমস্যার সমাধান চায়। যে সমস্যাগুলোর কথা আমাদের প্রার্থীরা সফলভাবে তুলে ধরতে পেরেছেন। ফলাফল আমাদের পক্ষে আসবে।"
উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন মীনাক্ষী ঠাকুর, যিনি এইবার প্রথম ভোট দেবেন। তিনি জানিয়েছিলেন কংগ্রেসকেই তিনি ভোট দেবেন। তার কারণ বিজেপির তরফে, "কৃষকদের জন্য কিছুই করা হয়নি।"
মীনাক্ষী ঠাকুর বলেন, "আমার বাবা একজন কৃষক। আমরা আমাদের ফসলের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করি, কিন্তু যখন ফসল নিয়ে বাজারে যাওয়া হয়, তখন কী হয়?"
"আমরা খুব কম দাম পাই। এটা বদলাতে হবে।"
তিনি জানিয়েছেন, গত বর্ষায় যখন অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও ভূমিধসের জেরে রাজ্যে বিপর্যয় দেখা গিয়েছিল, তখনও বিজেপি কিছুই করেনি।
এটা এমন এক বিষয় যা আমরা বারবার শুনেছি।

কেন বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ?
যোগিন্দর ওয়ালিয়া ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) এর একজন নেতা। তিনি বিজেপি-বিরোধী 'ইন্ডিয়া' জোটের শরিক দল কংগ্রেসের প্রার্থী বিক্রমাদিত্য সিংকে সমর্থন করতে এখানে এসেছিলেন।
"গত বছরের চরম বৃষ্টিপাত মানবসৃষ্ট কারণে আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল। সড়ক নির্মাণ সংস্থাগুলি যেখানে ধ্বংসাবশেষ ফেলা উচিত ছিল সেখানে তা ফেলেনি। ধ্বংসস্তূপ রাস্তার ধারে ফেলে রাখা হয়েছিল।"
"এর ফলে বৃষ্টি হলে ধ্বংসাবশেষ নদীতে গিয়ে পড়ে, যার জল আগে থেকেই উপচে পড়েছিল। বন্যায় অনেক কৃষি জমি ভেসে গেছে। এমনকি আমার নিজের ছয় বিঘা জমিও সেই সময় থেকে থেকে অকেজো পড়ে আছে। আগে আমরা প্রায় ২০ লক্ষ টাকার টমেটো চাষ করতাম।"
কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের কারণে তারা যথাযথ ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মিছিলের মঞ্চ সরানোর সময় লেখরাজের সঙ্গে দেখা হয়। ওই যুবক একটি গ্রামের প্রধান এবং কংগ্রেসের সদস্য।
বিজেপির বিরুদ্ধে তার সবচেয়ে বড় অভিযোগ জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি আইনের (এনআরইজিএ) অব্যবস্থাপনা।
তিনি বলেন, "ওরা (বিজেপি) এটা (এনআরইজিএ) শেষ করে দিতে উঠেপড়ে লেগেছে। প্রত্যেক গরীব মানুষ ইউপিএ সরকারের আনা এই আইনের সঙ্গে যুক্ত এবং আমরা দেখছি কীভাবে এই সরকার (বিজেপি) এই আইনকে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা কঠিন করে তুলেছে।
"মানুষ এসে আমাদের (রাজ্য সরকারকে) এ বিষয়ে নিয়ে প্রশ্ন করে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে না।"
একদিকে বিজেপি সমর্থকরা কঙ্গনা রানাওয়াত প্রার্থী হওয়ার চেয়ে 'মোদী ফ্যাক্টর' তাদের দলের পক্ষে কাজে করবে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। অন্যদিকে, কংগ্রেস কর্মী ও সমর্থকদের দাবি, মাণ্ডিতে 'পরিবর্তন' এসেছে।
তাদের মতে 'টিকা সাহেবের' (হিমাচল প্রদেশে বিক্রমাদিত্য সিং এই নামে পরিচিত) উত্তরাধিকার এবং বিশ্বাসযোগ্যতা রয়েছে যা তার পক্ষে কাজ করছে।








