যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে গুলিতে দুই শিশু নিহত, 'ক্যাথলিক-বিদ্বেষ' থেকেই হামলা কি না খতিয়ে দেখছে এফবিআই

ছবির উৎস, The Minnesota Star Tribune via Getty Images
যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপলিসে একটি স্কুলে গুলিবর্ষণে দুই শিশু নিহত এবং ১৭ জন আহত হওয়ার ঘটনাকে 'ক্যাথলিক-বিদ্বেষী' অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত শুরুর কথা জানিয়েছে এফবিআই।
এফবিআই পরিচালক ক্যাশ প্যাটেল সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে বলেছেন, "এফবিআই এই ঘটনাকে ক্যাথলিকদের লক্ষ্য করে অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদ এবং ঘৃণামূলক অপরাধের ঘটনা হিসেবে তদন্ত করছে।"
মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপলিস শহরের অ্যানানসিয়েশন চার্চের জানালা দিয়ে বুধবার সকালে গুলি চালায় এক হামলাকারী। এসময় প্রার্থনারত অবস্থায় আট এবং দশ বছর বয়সী দুই শিশু নিহত হয়।
ক্যাথলিক চার্চটিতে শিশুদের লেখাপড়া করানো হয় এবং নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে প্রার্থনার জন্য সেখানে জড়ো হয়েছিল শিক্ষার্থীরা।
পুলিশ জানিয়েছে, আত্মঘাতী গুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন রবিন ওয়েস্টম্যান নামে একজন হামলাকারীও।
তরুণ ভুক্তভোগীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রথম আমেরিকান পোপ, পোপ লিও চতুর্দশ। এসময় তিনি বলেন, এই হামলায় তিনি "গভীরভাবে শোকাহত"।
এই ঘটনাকে সাধারণ মানুষের ওপর ইচ্ছাকৃত সহিংসতা হিসেবে বর্ণনা করেছে পুলিশ। পুলিশ প্রধান ব্রায়ান ও'হারা সাংবাদিকদের বলেছেন, "এটি নিষ্পাপ শিশু এবং উপাসনারত অন্যান্য মানুষের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে সহিংসতার একটি ঘটনা।"
"শিশুভর্তি একটি গির্জায় গুলি চালানোর নিষ্ঠুরতা এবং কাপুরুষতা একেবারেই বোধগম্য নয়," তিনি বলেন।
প্যাটেলের মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফেডারেল সংস্থাগুলোর সহায়তায় মিনিয়াপলিস পুলিশ বিভাগ তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং যেখানেই এটি নিয়ে যাবে সে পর্যন্তই এই অনুসন্ধান কাজ চলবে।
তবে, হামলার উদ্দেশ্য কী ছিল সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

ছবির উৎস, The Minnesota Star Tribune via Getty Images
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
বুধবার স্থানীয় সময় সকাল আটটার আগে থেকেই গুলি চালানোর খবর পেতে শুরু করে পুলিশ।
হামলাকারী গির্জার পাশ দিয়ে সামনের এগিয়ে যায়, যেখানে একটি স্কুলও রয়েছে। তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র - একটি রাইফেল, একটি শটগান এবং একটি পিস্তল ব্যবহার করে জানালা দিয়ে কয়েক ডজন গুলি চালায় হামলাকারী।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি স্মোক বম্ব, বা ধোঁয়া ছড়ায় সেরকম একটি বোমা উদ্ধার করেছে।
কর্মকর্তারা তদন্ত করছেন যে হামিলাকারী ভবনের ভেতর থেকেও গুলি চালিয়েছেন নাকি সব গুলি গির্জার বাইরে থেকেই এসেছে। যদিও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভেতর থেকে কোনো গুলির খোসা পাওয়া যায়নি।
বুধবার সকালে বাড়ি থেকেই কাজ করছিলেন চার্চের পাশেই বসবাস করা পিজে মাড নামের এক ব্যক্তি। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে তিনি বলেন, "আমি 'বুম, বুম, বুম' শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম, হঠাৎ আমার মনে হলো - গুলি চলছে।"
এরপর গির্জার দিকে দৌড়ে গেলে, সেখানে মাটিতে তিনটি ম্যাগাজিনের কার্তুজ দেখতে পান তিনি।
হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ১০ বছর বয়সী এক শিশু সিবিএস নিউজের সহযোগী ডব্লিউসিসিওকে জানিয়েছে যে, তার বন্ধু তার ওপর শুয়ে গুলি থেকে বাঁচিয়েছে।
"আমি রঙিন কাচের জানালা থেকে দুই সিটের দূরত্বে ছিলাম,"সে বলল। "আমার বন্ধু, ভিক্টর, আমাকে বাঁচিয়েছিল, কারণ সে আমার উপরে শুয়ে পড়েছিল, কিন্তু সে আঘাত পেয়েছিল।"
"আমার বন্ধুর পিঠে আঘাত লেগেছে, সে হাসপাতালে গেছে, আমি তার জন্য খুব ভয় পেয়েছিলাম কিন্তু আমার মনে হয় এখন সে ঠিক আছে," তিনি বলেন।

ছবির উৎস, The Minnesota Star Tribune via Getty Images
দক্ষিণ মিনিয়াপোলিসের একটি আবাসিক এলাকায় অবস্থিত অ্যানানসিয়েশন চার্চ পাঁচ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া করায়।
২০১৬ সালের একটি স্কুল নিউজলেটার অনুসারে, আক্রমণকারীর মা, ম্যারি গ্রেস ওয়েস্টম্যান, আগে ওই স্কুলেই কাজ করতেন। ফেসবুকে একটি পোস্টে বলা হয়েছে যে তিনি ২০২১ সালে এই পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
এই ঘটনার একটি নোট খুঁজে পেয়েছে পুলিশ। যেখানে গুলি চালানোর সময় হামলার ভিডিও অনলাইনে প্রকাশ করার কথা উল্লেখ করেছিল হামলাকারি ওয়েস্টম্যান। যদিও তদন্তকারীরা সেখান থেকে ওই পোস্টটি সরিয়ে নিয়েছেন।
গভর্নর টিম ওয়ালজ বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার দল এই ঘটনায় "গভীর সমবেদনা" প্রকাশ করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন।
তিনি বলেন, "শুধু মিনেসোটাতেই নয়, সারা দেশেই পরিস্থিতি একরকম", তিনি আশা প্রকাশ করেন যে কোনো সম্প্রদায় বা স্কুলকে আর কখনো যেন এমন দিনের মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।
নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হোয়াইট হাউসে মার্কিন পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প।








