টপ অর্ডারে 'ভয়ঙ্কর' অস্ট্রেলিয়া, 'ভঙ্গুর' বাংলাদেশ - শক্তির যত পার্থক্য

ছবির উৎস, Getty Images
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৪-এর সুপার এইট পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশ। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ছয়টায় এই ম্যাচটি শুরু হবে।
দশ হাজার ধারণক্ষমতার স্যার ভিভ রিচার্ডস স্টেডিয়ামে হবে এই ম্যাচটি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ তো বটেই ক্রিকেট ইতিহাস দেখলে বাংলাদেশের সাথে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দলের তুলনা করাটাই মুশকিল হয়ে যাবে।
কিন্তু ক্রিকেট গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা হিসেবে সুপরিচিত। এই আসরেই টুর্নামেন্ট শুরুর আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের গ্রুপ পর্ব পার হওয়ার আশা অনেক সমর্থক ও বিশ্লেষক করেননি। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল তিন ম্যাচ জিতে সুপার এইটে উঠেছে।
ওদিকে চলতি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া জিতেছে চার ম্যাচের চারটিতেই। সবগুলো ম্যাচেই নিজেদের কর্তৃত্বের প্রমাণ দিয়ে জয় তুলে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
বর্তমানে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ও ওয়ানডে বিশ্বকাপ শিরোপার মালিক অস্ট্রেলিয়াই।
এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে নিলে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে তিন ফরম্যাটে একই সময়ে চ্যাম্পিয়ন হবে, ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়া তিন ফরম্যাটের বিশ্বসেরার ট্রফি জিতেছে, কিন্তু সেটা একই সময়ে না।
তাই মিচেল মার্শের অধীনে এবারের মিশনটা অস্ট্রেলিয়ার জন্য বিশেষ কিছু।

ছবির উৎস, Getty Images
টপ অর্ডারের ব্যাটিং
বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা এবারের বিশ্বকাপে সুপার এইট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এইবারই প্রথম দুইয়ের অধিক ম্যাচ জিতেছে, কিন্তু একটা জায়গায় অনেক সমর্থকদের মন জয় করতে পারেননি।
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
সেটা হলো টপ অর্ডারের ব্যাটিং, বিশেষ করে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ফর্ম সবচেয়ে বাজে অবস্থায় আছে।
গ্রুপ পর্বের চার ম্যাচের একটিতেও শান্ত ২০ রানও স্পর্শ করতে পারেননি, মোট রান করেছেন ২৬, গড় সাড়ে ছয়, স্ট্রাইক রেটের অবস্থা আরও খারাপ- ৫৯।
শান্ত ছাড়া সবাই-ই কোনও না কোনও ম্যাচ জয়ে ভূমিকা রেখেছেন, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে লিটনের ৩৬ ও হৃদয়ের ৪০, নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সাকিব আল হাসানের ৬৪, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ছোট ক্যামিও ইনিংস আছে, নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তানজিদ তামিমও রান পেয়েছিলেন।
যদিও লিটনের সামগ্রিক পারফর্যান্স এখনও সন্তোষজনক না কিন্তু সুপার এইট পর্বে তার দিকে বাড়তি প্রত্যাশা থাকবে সমর্থকদের।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল জনপ্রিয় ক্রিকেট পোর্টাল ইএসপিএন ক্রিকইনফোতে নিজের বিশ্লেষণে বলেন, "এটা সত্যি যে বাংলাদেশ যেসব কন্ডিশনে খেলেছে সেখানে ব্যাটারদের জন্য রান করা কঠিন ছিল। তবে আরও কিছুটা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে হবে, প্রথম ২০ রান বাজে দেখালেও এই রানটা তুলতে হবে আগে।"
তামিমের মতে, "উইকেটে বোলারদের জন্য সুবিধা আছে এটা ব্যাটারদের মাথায় রাখতে হবে এবং মেনে নিতে হবে।"
ইএসপিএন ক্রিকইনফোতে ম্যাচ প্রিভিউতে ভারতের সাবেক অধিনায়ক ও কোচ অনিল কুম্বলে বলেন, "বাংলাদেশের টপ অর্ডার ব্যাটিং নিয়ে আলাদা করে দুশ্চিন্তার কিছু নেই, একই রকমের উইকেটে ভারতের টপ অর্ডারও রান তুলতে পারেনি, দক্ষিণ আফ্রিকার টপ অর্ডারও ব্যর্থ হয়েছে"।
বিশেষত নেপালের বিপক্ষে তানজিদ তামিমের প্রথম বলেই ডাউন দ্য উইকেট খেলতে গিয়ে ক্যাচ তোলার কথা আলাদাভাবে বলেছেন তামিম।

ছবির উৎস, Getty Images
ওদিকে অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডার দুর্দান্ত ফর্মে আছে, সাম্প্রতিক সময়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল ও ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের নায়ক ট্রাভিস হেড টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও শীর্ষ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় আছেন। চার ম্যাচে ১৪৮ রান তুলেছেন ট্রাভিস হেড।
সম্প্রতি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের হয়ে পাওয়ারপ্লেতে একের পর এক ঝড়ো ইনিংস খেলে হেড টুর্নামেন্ট মাতিয়ে তুলেছিলেন।
তার সাথে যোগ হয়েছেন মার্কাস স্টইনিস। তিনি এবারের আসরে অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ রান রানের মালিক এখনও পর্যন্ত।
স্টইনিস এখন টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক র্যাংকিং-এর এক নম্বর অলরাউন্ডার। সাম্প্রতিক সময়ে ফর্ম হারানো সাকিব আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি র্যাংকিং-এর শীর্ষস্থান হারিয়ে এখন আছেন তিন নম্বরে।
তবে এই বিশ্বকাপে তৌহিদ হৃদয় ও সাকিবই বাংলাদেশের এক নম্বর ব্যাটার। হৃদয়ের রান ৪ ম্যাচে ৯৫, সাকিব আল হাসানের সমান ম্যাচে ৯২ রান। বাংলাদেশের হয়ে এবারের আসরে একমাত্র ৫০'ও করেছেন সাকিব।
বোলিং লাইন আপ
বাংলাদেশের স্পেশালিষ্ট বোলার কারো বয়সই ৩০ এর বেশি না, সবচেয়ে অভিজ্ঞ তাসকিন ২৯ বছর বয়সী।
চলতি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের দুই ম্যাচ উইনার বোলার রিশাদ হোসেন ও তানজিম সাকিবের বয়স ২২ এর কম।
বাংলাদেশের লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া দলে চলছে আলোচনা, ম্যাচের আগে অজি হার্ড হিটার টিম ডেভিড বলেছেন, "রিশাদ ভালো করছে তাকে এর আগে আমাদের কেউই খেলেনি, আমরা তার বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলবো"।
রিশাদ হোসেনের দিকে তাকিয়ে থাকবেন বাংলাদেশের সমর্থকরা, বাংলাদেশের কোনও লেগ স্পিনার বিশ্ব আসরে পারফর্ম করছেন এর আগে কখনোই এমন দৃশ্য দেখা যায়নি।
রিশাদ বল হাতে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেখিয়েছেন।
তানজিম সাকিবও গতি ও সুইং-এর মিশেলে এবার তাক লাগিয়েছেন, তানজিম সাকিব ৯ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারিদের তালিকায় যৌথভাবে ৩ নম্বরে আছেন।
তবে গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ছিল বোলার বান্ধব উইকেটে, তাই নর্থ সাউন্ডের এই ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তাদের নতুন করে পরীক্ষা হবে।
ওদিকে অস্ট্রেলিয়া পরীক্ষিত এবং অভিজ্ঞ একটি বোলিং লাইন আপ নিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামবে।
প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউড, মিচেল স্টার্ক তো আছেনই, সাথে আছেন লেগ স্পিনার অ্যাডাম জ্যাম্পা তিনিও তানজিমের সাথে আছেন উইকেট শিকারিদের তালিকায় যৌথভাবে তিন নম্বরে।
অলরাউন্ডার মার্কাস স্টইনিস ৬ উইকেট নিয়েছেন এবারের আসরে।

ছবির উৎস, Getty Images
মুখোমুখি দেখায় অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশ
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের মুখোমুখি দেখায় সাম্প্রতিক ইতিহাস বাংলাদেশের পক্ষে।
২০২১ সালে ঢাকায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে জয় পেয়েছিল। তবে মিরপুরের কন্ডিশনে এই সিরিজ জয় বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে খুব বেশি ইতিবাচকতা আনতে পারেনি।
পরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই বাংলাদেশ মূলপর্বে সব ম্যাচে হেরে বাদ পড়েছিল। আর সেই বিশ্বকাপেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া।
বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয়েছে পাঁচ বার এবং পাঁচটিতেই স্পষ্ট ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ।
বিশ্বকাপ কিংবা দ্বিপাক্ষিক সিরিজ যে কোনও ফরম্যাটের ক্রিকেটেই অনেক বিশ্লেষকই বাংলাদেশের সাথে অস্ট্রেলিয়ার তুলনা দিতে চাইবেন না। তবে বাংলাদেশের ৩ ফরম্যাটেই অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে।
ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক মিচেল মার্শ বলেন, "সুপার এইটে কোনও দলকেই ছোট করে দেখার কিছু নেই। তারা এই পর্যন্ত নিজেদের যোগ্যতায় এসেছে, এখানে আমাদের সেরা ক্রিকেট খেলতে হবে"।








