ঢাকার প্রবেশমুখে কড়াকড়ি, নয়াপল্টন কার্যালয় এখনও তালাবদ্ধ

ছবির উৎস, Getty Images
ঢাকায় ১০ই ডিসেম্বর বিএনপির বিভাগীয় গণ-সমাবেশকে কেন্দ্র করে শহরের মূল প্রবেশ পথগুলোয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বেশ কড়া অবস্থানে দেখা গিয়েছে।
প্রবেশ মুখে তল্লাশি
মোড়ে মোড়ে চৌকি স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি মহাসড়কেও রাখা হয়েছে কড়া নজরদারি।
ঢাকায় যে কোনও ধরনের নাশকতা এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ঠেকাতেই এই কড় নিরাপত্তা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শহরের প্রবেশ মুখে বিশেষ করে গাবতলি ও আমিনবাজার এলাকায় কিছুদূর পর পর চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।
এদিকে মহাসড়কেও তুলনামূলকভাবে গাড়ির সংখ্যা কম। বিশেষ করে ঢাকামুখী গণপরিবহন তেমন একটা দেখা যায়নি।
বিবিসির সংবাদদাতা আকবর হোসেন ঢাকার গাবতলি বাস-স্ট্যান্ড ঘুরে দেখেছেন শুক্রবার যানবাহনের যে চাপ থাকে আজ তা একদমই নেই।
অর্থাৎ ঢাকা থেকে গাড়ি ছেড়ে যাচ্ছে কম। আবার ঢাকায় গাড়ি আসছেও কম।
অথচ এই গাবতলি বাসস্ট্যান্ডের সাথে দেশটির অন্তত ২২টি জেলার সংযোগ রয়েছে।
সেখানকার পরিবহন কর্মীরাও জানিয়েছেন যে অন্যবারের তুলনায় এই শুক্রবার তাদের যাত্রী চলাচল খুবই কম।
ঈগল পরিবহনের কাউন্টারে খোঁজ নিয়ে যায় যে প্রতি শুক্রবার তাদের এই কাউন্টার থেকে গড়ে অন্তত ১৫টি গাড়ি ছেড়ে যায়।
কিন্তু আজ সারাদিনে ৫টি গাড়ি ছেড়ে যাবে কিনা সন্দেহ।

ছবির উৎস, Getty Images
যাত্রী হয়রানি
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
যাত্রী কমার কারণ হিসেবে পরিবহন কর্মীরা বলছেন যে, বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক রয়েছে যে ঢাকায় গেলে ধরপাকড় হয় কিনা।
অন্যদিকে সকাল থেকে ঢাকার আমিনবাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায় মহাসড়কে চেকপোস্ট এবং যথেষ্ট সংখ্যক পুলিশের উপস্থিতি রয়েছে।
প্রবেশ মুখে পর পর কয়েকটি তল্লাশি চৌকি দেখা যায়। সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ দূরপাল্লার বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি, পিকআপ, মোটরসাইকেল তল্লাশি করছে।
যাত্রীদের সঙ্গে থাকা ব্যাগ, বস্তা, মোবাইল ফোন চেক করা হচ্ছে।
যাত্রীদের কাছে ঢাকায় আসার কারণ জানতে চাওয়া হচ্ছে। দূর থেকে আসা যাত্রীরা কে, কোথায় যাচ্ছে, কেন যাচ্ছেন এসব নিয়েও চলছে জিজ্ঞাসাবাদ।
বিশেষ করে ঢাকামুখী কোন বাসে দলবদ্ধ হয়ে উঠলেই এমন প্রশ্নের মুখে বেশি পড়তে হচ্ছে।
পুলিশের দাবি, সমাবেশকে কেন্দ্র করে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা বাড়তি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে । যার ধারাবাহিকতায় চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।
তল্লাশি কাজে নিয়োজিত এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, তাদের কাছে নির্দেশ আছে যে এই সমাবেশ থেকে বিএনপির কেউ ঢাকা অভিমুখে আসছে কিনা সেটা যাচাই করা। কেউ বিস্ফোরক বা বিপদজনক বস্তু বহন করছে কিনা সেদিকে নজর রাখা।
এই তল্লাশির কারণে যাত্রীরা হয়রানির মুখে পড়লেও পুলিশের দাবি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার স্বার্থে এটি কোন হয়রানি নয়। যাত্রী ভোগান্তি এড়াতে তারা খুব দ্রুততার সাথে কাজ করছেন।

ছবির উৎস, Getty Images
নয়াপল্টনের কার্যালয় তালাবদ্ধ
এদিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের রাস্তা এবং আশেপাশের অলিগলিতে শত শত পুলিশ মোতায়েন থাকতে দেখা গিয়েছে।
দলীয় কার্যালয়ের সামনের রাস্তা নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত ব্যারিকেড দিয়ে দুই পাশ বন্ধ রেখেছে পুলিশ।
ওই এলাকায় আশেপাশে যত অলিগলি আছে, সেখানেও মানুষের চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
এছাড়া বিএনপির কার্যালয় এখনও তালাবদ্ধ অবস্থায় আছে।
পুলিশ শুধুমাত্র সাংবাদিক, ওই এলাকার বাসিন্দা ও জরুরি সেবা প্রদানকারীদের ব্যারিকেডের ভেতরে ঢোকার অনুমতি দিচ্ছে।
সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্যই এতো কড়াকড়ি বলে দাবি করছে পুলিশ।
এদিকে বিএনপির কার্যালয়ের আশেপাশে বিশেষ করে কাকরাইল ও পল্টন মোড়ে মিছিল করছে যুবলীগ ছাত্রলীগের মতো ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনগুলো।
মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বলছেন, বিএনপি যেন কোন অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে এজন্য তারা দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশে রাজপথে আছেন।

ছবির উৎস, Getty Images
আবাসিক হোটেলে তল্লাশি
একইভাবে ঢাকার কয়েকটি আবাসিক হোটেলে খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, সেখানে গত কয়েকদিনের ধারাবাহিকতায় আজও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।
এগুলো মূলত কম বাজেটের হোটেল।
তেমনই এক হোটেল ম্যানেজারের সাথে কথা বলে জানা গিয়েছে, পুলিশের তরফ থেকে হোটেলগুলোকে বার বার নির্দেশ দেয়া হয়েছে তারা যেন যাচাই বাছাই করে হোটেল রুম ভাড়া দেন।
বিশেষ করে একসাথে যদি তরুণ বয়সী কয়েকজন আসেন তাহলে তাদেরকে যেন রুম ভাড়া দেয়া না হয়-এমন নির্দেশনাও দেওয়া আছে।
ঢাকায় বিএনপির সমাবেশের আর বাকি মাত্র এক দিন বাকি। সময় যত ঘনিয়ে আসছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা তত বাড়ছে। যেন কোনও ধরনের নাশকতা এড়াতেই পুলিশের এই তৎপরতা বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।








