জামিনে কারামুক্ত হলেন প্রথম আলোর সাংবাদিক শামসুজ্জামান

শামসুজ্জামান শামস

ছবির উৎস, FACEBOOK PROFILE

ছবির ক্যাপশান, প্রথম আলোর সাংবাদিক শামসুজ্জামান শামস

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন প্রথম আলোর সাংবাদিক শামসুজ্জামান শামস।

মি. শামসের আইনজীবী প্রশান্ত কুমার কর্মকার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আসাদুজ্জামান নূর জামিন আবেদনের শুনানি শেষে মি. শামসের জামিন আদেশ মঞ্জুর করেন।

জামিনের সেই কাগজ বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে আদালত থেকে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছায়। এরপর সন্ধ্যার দিকে মি. শামস কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন।

পুলিশের রিপোর্ট দাখিল না হওয়া পর্যন্ত এবং ২০ হাজার টাকা মুচলেকায় তিনি জামিন পেয়েছেন বলে জানান মি. কর্মকার।

গত ২৯ শে মার্চ মি. শামসের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ঢাকার তেজগাঁও ও রমনা থানায় দুটি মামলা হয়েছিল।

এরমধ্যে রমনা মডেল থানার দায়েরকৃত মামলায় মি. শামসকে গ্রেফতার দেখিয়ে গত ৩০শে মার্চ তাকে সিএমএম আদালতে হাজির করা হয়।

ওইদিন মি. শামসের আইনজীবী তার বিরুদ্ধে দায়ের করা দুটি মামলাতে জামিন আবেদন করেছিলেন। কিন্তু মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জামিনের বিরোধিতা করেন।

মি. শামস জামিনে মুক্তি পেলে মামলার তদন্তে বিঘ্ন ঘটতে পারে, এ যুক্তি দেখিয়ে পুলিশের তরফ থেকে মি. শামসকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়েছিল।

সেইবার উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত মি. শামসের জামিন আবেদন খারিজ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিল।

এরপর মি. শামসকে প্রথমে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। পরদিন ঢাকার কাশিমপুর কারাগারে আনা হলেও শনিবার পুনরায় তাকে কেরানীগঞ্জের কারাগারে পাঠানো হয়।

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

রমনা মডেল থানার মামলায় পত্রিকাটির সম্পাদক মতিউর রহমান, ক্যামেরা পারসনসহ, প্রতিবেদনটি প্রচার-প্রকাশে জড়িত অজ্ঞাতদেরও ও আসামী করা হয়েছিল।

মি. রহমানকে রোববার ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আমিনুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

মি. শামসের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে প্রথম মামলা দায়ের হয়েছিল তেজগাঁও থানায়।

তাকে সাভারের নিজ বাসা থেকে সিআইডি পরিচয়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর এই মামলার কথা জানা যায়।

মি. শামসকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর প্রায় ত্রিশ ঘণ্টা কেউ তার কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। পর ৩০শে মার্চ সকালে তাকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়।

মি. শামসের আইনজীবী বলেছেন, তাকে রমনা থানায় করা মামলার বাইরে অন্য কোন মামলায় গ্রেফতার দেখানো না হলে তার জামিনে মুক্তি পেতে কোন বাধা নেই।

গত ২৬শে মার্চ দৈনিক প্রথম আলোয় শামসুজ্জামান শামসের লেখা একটি প্রতিবেদন প্রকাশ পায়। খবরটি 'মিথ্যা' ও 'রাষ্ট্রবিরোধী' অভিযোগ এনে মামলা দুটি দায়ের হয়।

ওই প্রতিবেদনে একজন দিনমজুরের বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছিল, যেখানে উদ্বৃত করা হয়, ‘’পেটে ভাত না জুটলে স্বাধীনতা দিয়া কী করুম। বাজারে গেলে ঘাম ছুটে যায়। আমাগো মাছ, মাংস আর চাইলের স্বাধীনতা লাগব’’।

এই উদ্ধৃতির সঙ্গে একটি শিশুর ছবি ছিল, যে গ্রিলের ফাঁক দিয়ে স্মৃতিসৌধের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। এ সংক্রান্ত ফেসবুক ফটোকার্ড ও খবরের স্ক্রিনশট বেশ ভাইরাল হয়।

প্রতিবেদনে ওই উক্তিটি আরেক ব্যক্তির হলেও শিশুটির ছবির কারণে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে বলে অভিযোগ ওঠে।

পরে প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ সেই অসংগতির বিষয়টি আমলে নিয়ে অনলাইন পোস্টটি সংশোধন করে এবং সংশোধনীর বিষয়টি উল্লেখ করে।