আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
‘আক্রমণের ঘোষণা’ দিয়েই ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামছে ইংল্যান্ড
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আজ আর কিছুক্ষণ পর মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও ইংল্যান্ড।
অ্যাডেলেইডে বাংলাদেশ সময় দুপুর দুইটায় শুরু হবে এই ম্যাচটি।
ভারতের বিপক্ষে এই ম্যাচের আগে তেঁতে আছেন ইংল্যান্ডের বেন স্টোকস।
দলটির সিনিয়র এই ক্রিকেটার বলছেন, “মাঠে আমরা কোনও ক্ষেত্রেই পিছপা হবো না। হয় কিছু একটা করবো অথবা মরবো। এছাড়া কোনও অপশনের দিকে আমরা তাকাবো না।”
“আমাদের যা পরিকল্পনা আছে সেটির কাছাকাছিও যদি আমরা তা বাস্তবায়ন করতে পারি, তবে আমাদের হারানো হবে সবচেয়ে কঠিন কাজ।”
এর আগে ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ও ভারত মুখোমুখি হয়েছিল, আর সেই ম্যাচে ইংল্যান্ড জয় পেয়েছিল।
বেন স্টোকস কেন এটাকে ‘বাঁচা-মরার লড়াই’ মনে করছেন
স্টোকস আরও যোগ করেন: “গ্রুপ পর্বে কিছু ম্যাচ আমাদের খারাপ গেছে, কিছু ম্যাচ ছিল ভালো। কিন্তু সেসব পুরনো কথা। এখন আমাদের পিছনে তাকানোর সময় নেই। আমরা অনেক কথা বলি - ইতিবাচক খেলা বিষয়ে। কিন্তু এখন সেটি করে দেখানোর পালা।”
বেন স্টোকসের কথায় বাড়তি ঝাঁজ ছিল - ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ইংল্যান্ড দলের শারীরিক ভাষায় বাড়তি আক্রমণ লক্ষ্য করা গেছে।
মঙ্গলবার অ্যাডেলেইডে দীর্ঘ ব্যাটিং অনুশীলন করেন স্টোকস। নেটে সব বল মাঠের বাইরে ফেলার লক্ষ্য নিয়ে অনুশীলন করতে দেখা গেছে তাকে।
তবে এই সেমিফাইনালের গুরুত্ব বোঝাতে মঈন আলী বলেছেন, “ইংল্যান্ড যদি আসলেই বড় দল হতে চায়, তাহলে এখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিততে হবে।”
ইংল্যান্ড অবশ্য ২০১০ সালেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল।
কিন্তু বর্তমানে যে ইংল্যান্ড আধুনিক ক্রিকেটের দৃশ্যপট বদলে দেয়ার মতো ক্রিকেট খেলছে, টেস্টে শেষ দিনে রান তাড়ার কৌশল বদলে দিয়েছে, ওয়ানডে ক্রিকেটে চারশোে' রান করাকে ডালভাত বানিয়ে ফেলেছে, তাতে এখন একটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না পেলে ব্যাপারটা ঠিক জমে না বলে মনে করছেন ইংল্যান্ডের ভাইস ক্যাপ্টেন মঈন আলী।
বর্তমান ওয়ানডে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নও ইংল্যান্ড। ২০১৬ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছে ইংল্যান্ড। গত বছরও সেমিফাইনাল খেলেছিল দলটি।
তাই মঈন আলী বলছেন, “বিশ্বকাপ জিতলে আমরা নিজেদের শীর্ষ দল বলে দাবি করতে পারবো। আমরা ভালো দল আমরা লম্বা সময় ধরে ভালো ক্রিকেট খেলছি। আমাদের আরও ট্রফি জিততে হবে।”
তবে ইংল্যান্ডের বর্তমান বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলাটা সহজ ছিল না। সুপার টুয়েলভ পর্বে আয়ারল্যান্ডের সাথে হেরেছে ইংল্যান্ড, আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে রান তাড়া করতে গিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছিল।
কোনও মতে নেট রান রেটের হিসেবে এগিয়ে থেকে সেমিফাইনালে এসেছে ইংল্যান্ড।
অ্যাডেলেইডে মাঠের ধরন কেমন
এরই মধ্যে ভারত অ্যাডেলেইডে একটি জমজমাট ম্যাচ খেলেছে - বাংলাদেশের বিপক্ষে বৃষ্টি সংক্রান্ত আইনে পাঁচ রানের জয় পেয়েছিল দলটি।
তাই এই মাঠ নিয়ে ভারত ক্রিকেটে দলের সাম্প্রতিক ধারনা আছে।
অ্যাডেলেইডে মাঠের দুই পাশের বাউন্ডারি ছোট - মাত্র ৬০ থেকে ৬৫ মিটারেই ছক্কা পেতে পারেন একজন ব্যাটসম্যান।
তবে সোজা সামনে বা পেছনে বাউন্ডারি পেতে বল পার করতে হবে আশি মিটার বা তারও বেশি।
চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শুরুতে ব্যাট করে অ্যাডেলেইডে গড়ে ১৫৭ রান নিয়েছে দলগুলো।
আগে ব্যাট করা দল ছয় ম্যাচের চারটিতেই জয় পেয়েছে।
এখনও পর্যন্ত স্পিনাররা ফাস্ট বোলারদের চেয়ে রান কম দিয়েছেন গড়ে।
ভারতের ব্যাটিং হবে মূল শক্তির জায়গা
অ্যাডেলেইড যেন ভিরাট কোহলির জন্য স্বর্গ- এই মাঠে কোহলি চলতি বিশ্বকাপেই ৬৪ রানের অপরাজিত একটি ইনিংস খেলেছেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে কোহলি বলেন, “এই মাঠে খেলতে আমি ভালোবাসি। নেটে প্র্যাকটিস থেকে শুরু করে মাঠে ঢোকার সময় আমার এটাকে ঘরের মাঠ বলেই মনে হয়।”
অ্যাডেলেইড ওভালের এই মাঠে কোহলি এখনও পর্যন্ত ১৪টি আন্তর্জাতিক ইনিংস খেলে নয়শো'র ওপর রান তুলেছেন।
এই মাঠে কোহলির গড় ৭৫।
চলতি বিশ্বকাপের আগে কোহলি ২০১৬ সালে অ্যাডেলেইডে একটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছিলেন, যেখানে তিনি ৯০ রান তুলেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।
ব্যাপারটা এমন হয়ে গেছে যে কোহলি অ্যাডেলেইডে মাঠে নামলেই রান আসে।
ভারতের হয়ে খেলেন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি র্যাংকিংয়ের এক নম্বর ব্যাটসম্যান সুরিয়াকুমার ইয়াদাভ।
চমৎকার ফর্মে আছেন তিনি - পাঁচ ইনিংসে ২২৫ রান করেছেন ১৯৩ স্ট্রাইক রেটে।
এই বিশ্বকাপের শুরুতে ব্যাট হাতে ভালো করছিলেন না লোকেশ রাহুল, তবে তিনিও দুটি অর্ধশতক তুলে নিয়েছেন।
এখনও পর্যন্ত ভারতের দুশ্চিন্তার জায়গা লোয়ার মিডল অর্ডার। এখানে হার্দিক পান্ডিয়া জ্বলে উঠলেই চাপ কমবে বোলারদের ওপর থেকে।
ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মা মঙ্গলবার অনুশীলনের সময় চোট পেয়েছেন, তবে ক্রিকেট সাংবাদিক বোরিয়া মজুমদার টুইটারে জানিয়েছেন যে তেমন গুরুতর নয় এই চোট।
এই ম্যাচে আরও কিছু ফ্যাক্টর বড় ব্যাপার হয়ে দাঁড়াতে পারে।
যেমন ভুবনেশ্বর কুমার ও জস বাটলারের দ্বৈরথ।
এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ভুবনেশ্বর ইংল্যান্ড অধিনায়ককে ৩২ বল করে পাঁচবার আউট করেছেন।
ইংল্যান্ডের ওপেনিং জুটি অবশ্য এই টুর্নামেন্টে ফর্মে আছে।
শেষ দুই ম্যাচে তারা যথাক্রমে ৮১ ও ৭৫ রান তুলেছে।
ইংল্যান্ডের ভাবনার বিষয় দু'টি ইনজুরি
বৃহস্পতিবার মাঠে নামার আগে ইংল্যান্ড মার্ক উড ও ডাউইড মালানের চোট নিয়ে ভাবনায় আছে।
মালানের কুচকির চোটের কারণে তিনি মাঠে নামতে পারবেন কি-না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচেই ফিল্ডিং করার সময় খোঁড়াতে খোঁড়াতে মাঠ ছাড়তে দেখা গিয়েছিল তাকে।
ওদিকে মঙ্গলবারের অনুশীলনে ফাস্ট বোলার মার্ক উড শারীরিক জড়তার কারণে পুরোপুরি অংশ নেননি।
অধিনায়ক জস বাটলার বিবিসিকে বলেন, “এখনই নিশ্চিত কোন সিদ্ধান্ত আমরা নিইনি। আমরা তাদের যতটা সম্ভব সময় দিতে চাই।”
বিবিসি স্পোর্ট মনে করছে, উড খেললেও মালান হয়তো শেষ পর্যন্ত খেলবেন না।
এখন মালানের জায়গায় ব্যাটসম্যান ফিল সল্টকে নেবেন নাকি বোলার নেয়া হবে, এই সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় কোচ ম্যাথু মট।