'পিতার অঢেল সম্পদে পুত্রের বিলাসী জীবন'

ছবির উৎস, BBC BANGLA
পিতার অঢেল সম্পদে পুত্রের বিলাসী জীবন—এটি সমকাল পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। এখানে বলা হয়েছে, ছাগলকাণ্ডে আলোচিত তরুণ মুশফিকুর রহমান ইফাত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য মতিউর রহমানেরই ছেলে।
যদিও গত বুধবার এই পরিচয় পুরোপুরি অস্বীকার করেন তিনি। মতিউর রহমানের দাবি ছিল, ইফাত তার ছেলে নন, এই নামে কাউকে চেনেনও না। তবে পরবর্তীতে জানা গেছে যে মতিউর রহমানের দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর ছেলে ইফাত।
সমকালের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বাবার অঢেল সম্পদে বিলাসী জীবনযাপন করেন এই তরুণ। ১৯ বছরের ইফাত মোবাইল ফোনে যে সিমকার্ড ব্যবহার করছেন, সেটি তার বাবার জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে তোলা। ইফাতের স্বজনও বলছেন, মতিউর রহমান তার বাবা। মতিউর রহমান সম্পর্কে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর মামাতো বোন জামাই।
নিজাম হাজারী বলেন, “ইফাত এনবিআর কর্মকর্তা মতিউর রহমানের ছেলে, এটাই সত্য। কেন নিজের সন্তানকে অস্বীকার করছেন, সেটা তিনিই ভালো বলতে পারবেন। আমার মামাতো বোন শাম্মী আখতার শিবলীর সঙ্গে মতিউরের বৈবাহিক বিচ্ছেদও হয়নি।”
সমকালের দ্বিতীয় প্রধান শিরোনামে সিলেটে বন্যার বিষয়টি এসেছে। এই বন্যা পরিস্থিতি আরও অনেক পত্রিকার প্রধান বা দ্বিতীয় শিরোনাম হয়েছে। যেমন- নিউ এজ, প্রথম আলো, নয়া দিগন্ত, মানবজমিন, আজকের পত্রিকা, দ্য ডেইলি স্টার ইত্যাদি।
End of বিবিসি বাংলার সাম্প্রতিক খবর:

ছবির উৎস, BBC BANGLA
তবে মানবজমিনের প্রধান শিরোনাম হল সিলেটে দীর্ঘস্থায়ী বিপর্যয়ের শঙ্কা। এতে বলা হয়েছে, ভারতের মেঘালয় ও আসাম রাজ্যে টানা বৃষ্টিপাত হলেই ডুবে যায় ওই দুই রাজ্যের পানির বেসিন সিলেট। এ দু’রাজ্যের পানি অপসারণের বিকল্প কোনো পথ নেই। ফলে বছর বছর বৃষ্টির মৌসুমে ডুবছেই সিলেট।
এবার সিলেট অঞ্চলে প্রথম দফা উজানের ঢল আঘাত হেনেছিল ২৭শে মে। এই ঢলে তলিয়ে গিয়েছিল সিলেট। নতুন করে ১৭ই জুন থেকে ঢল এসেছে। এই ঢলে দ্বিতীয় দফা বিপর্যয় ঘটেছে। এখন সিলেট জেলার অর্ধেক পানির নিচে।
প্রায় ১২ লাখ লোক পানিবন্দি। এবারের বিপর্যয় সহসাই কাটার সম্ভাবনা নেই। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য মতে; সিলেট ও মেঘালয়ের উপরে মেঘমালা রয়েছে। আরও কয়েকদিন বৃষ্টি ঝরবে এ অঞ্চলে। আর বৃষ্টি ঝরলেই পানি বাড়বে।
আবহাওয়াবিদদের মতে; উজানের ঢলই মূলত সিলেটের বিপর্যয়ের কারণ। পরিবেশবাদীরা জানিয়েছেন- সিলেট অঞ্চল দিয়ে যেসব নদী প্রবাহিত হয়েছে তার উৎপত্তি পাহাড়ি অঞ্চল থেকে। এসব নদ-নদীর মুখে বাঁধ বা ড্যাম আছে। বৃষ্টির মৌসুমে সেগুলো খুলে দেওয়া হলে প্রবল বেগে সিলেটে পানি ঢুকে। এটি এবারও ঘটেছে।

ছবির উৎস, BBC BANGLA
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের অর্ধেক আইসিইউ নষ্ট— এটি প্রথম আলো’র প্রথম পাতার খবর। এখানে বলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অর্ধেকের বেশি আইসিইউ শুধু নষ্ট-ই না, আইসিইউ চালাতে জনবলেরও সংকট রয়েছে।
বিএসএমএমইউর উপাচার্যের থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে আইসিইউ শয্যা আছে ১০১টি। এর মধ্যে নবজাতকের আইসিইউ ২০টি ও শিশুদের আইসিইউ ২০টি। মোট আইসিইউ’র মধ্যে ৪২টিই নষ্ট। আর ২০টি আইসিইউ কোনও দিন চালু করা হয়নি। এ নিয়ে ৬২টি আইসিইউ অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। মাসের পর মাস ধরে এসব আইসিইউ কাজে আসছে না।
এই পরিস্থিতিতে জরুরি মুহূর্তের চিকিৎসাসেবা ‘নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র বা ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট’ (আইসিইউ) থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিশু ও বয়স্ক রোগীরা। দেশে হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ’র সংকট আছে এবং রোগীর স্বজনদের এ নিয়ে নিয়মিত দৌড়াদৌড়ি করতে হয়। তবে বিএসএমএমইউ’র আইসিইউতে খরচ তুলনামূলকভাবে কম। এখানে সাধারণ আইসিইউর দৈনিক ভাড়া দুই হাজার ১০০ টাকা।
লাইফ সাপোর্ট যন্ত্র ও মনিটরের ব্যবহার হলে আরও ৯৬০ টাকা দরকার হয়। অর্থাৎ, দৈনিক খরচ তিন হাজার ১০ টাকার বেশি নয়। আর নবজাতকের জন্য দৈনিক খরচ দেড় হাজার টাকা। অন্যদিকে ঢাকার যেকোনো মাঝারি মানের বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে খরচ দৈনিক ১৫ হাজার টাকা।

ছবির উৎস, BBC BANGLA
Primary students drop by over eight lakh— দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার প্রথম পাতার খবর এটি। একটি সরকারি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এখানে বলা হয়েছে, দেশের সকল প্রাথমিক স্কুলে ২০২৩ সালে আট লাখেরও বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী কমেছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) করা ‘বার্ষিক প্রাথমিক বিদ্যালয় শুমারি (এপিএসসি) ২০২৩’ অনুযায়ী, শুধুমাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ লাখেরও বেশি কমেছে। কিন্তু কিন্ডারগার্টেন ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীর সংখ্যা যথাক্রমে প্রায় আড়াই লাখ এবং ৩৬ হাজার বেড়েছে।
তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহমেদ বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রধান দুই কারণ হল- দেশের জন্মহার হ্রাস এবং ডিপিই’র নতুন সফ্টওয়্যার (যা নকল শিক্ষার্থীদের ডেটা সরিয়ে দেয়)। আর্থিক অসুবিধার কারণে কোভিডের পর কিছু শিক্ষার্থীর মাদ্রাসায় চলে যাওয়াো প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা হ্রাসের আরেকটি কারণ, তিনি যোগ করেন।

ছবির উৎস, BBC BANGLA
ছুটির দিনে অনুমোদন ৫০ কোটির দরপত্র— আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম এটি। এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবার ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হয় ১৬ জুন, রোববার। এর ঠিক আগের দুই দিন ১৪ ও ১৫ জুন (শুক্র ও শনিবার) ছিল সাপ্তাহিক ছুটি।
ফলে সচিবালয়ে কর্মরত বেশিরভাগ কর্মকর্তাই ১৪ জুন বা তার আগেই নির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করেন। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রায় ৫০ কোটি টাকার একটি দরপত্রের ব্যয় মঞ্জুরি দিতে শুক্র ও শনিবার কোনও কোনও কর্মকর্তাকে অফিস করতে হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ঈদের আগে শুক্রবার অফিসে থেকে ব্যয় মঞ্জুরির নথি প্রস্তুত করান। পরদিন শনিবার সেই নথি অনুমোদনও করা হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন শনিবার ওই নথি অনুমোদন করলেও পরে তা আবার স্থগিত করার নির্দেশনা দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী ফোনে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ছবির উৎস, BBC BANGLA
দুই দেশে ২০ কোটি টাকার লেনদেন!— এটি ইত্তেফাক পত্রিকার প্রধান খবর। এখানে বলা হয়েছে, এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যাকাণ্ডে ভারত ও বাংলাদেশে অন্তত ২০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। খুনিদের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী টাকা না দেওয়ায় বিষয়টি সামনে এসেছে।
ঝিনাইদহের আওয়ামী লীগ নেতা সাইদুল করিম মিন্টুর দেওয়ার কথা ছিল দুই কোটি টাকা। কিন্তু তিনি খুনিদের সেই টাকা দেননি। দক্ষিণাঞ্চলের একজন নবনির্বাচিত এমপির ওই টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি টাকা না দেওয়ায় মিন্টু খুনিদের টাকা দিতে পারেননি। শিমুল ভূঁইয়া গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এসব কথা স্বীকার করেছেন।
এদিকে মিন্টুকে গ্রেফতারের পর তাকে ছাড়িয়ে নিতে দুইজন প্রভাবশালী এমপি ব্যাপক তদবির করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একজন এবারই প্রথম এমপি হয়েছেন। যার সঙ্গে মিন্টুর পারিবারিক সখ্য রয়েছে। আবার অবৈধ কিছু ব্যবসার অংশীদারও তারা। ডিবি পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, চাপের মুখেও তারা পিছু হটেনি।

ছবির উৎস, BBC BANGLA
ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে রূপ নিচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ সংযোগ করিডোরে— বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম এটি। এখানে বলা হয়েছে, ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়েতে যুক্ত হতে ২০০৭ সালে চুক্তি করে বাংলাদেশ। এ নেটওয়ার্কের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো ভারত, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, চীন, মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলোর মধ্যে সহজেই পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। রেল নেটওয়ার্কটিতে যোগ দিতে পদ্মা সেতু, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ।
দেশের বিদ্যমান রেল অবকাঠামোও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে । যদিও মিয়ানমারের সঙ্গে নিকট ভবিষ্যতে কোনও রেল সংযোগ তৈরির সম্ভাবনা না থাকায় উদ্যোগটি এখন শুধু বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যেই সীমিত হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশের স্থল সীমানার সিংহভাগই প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে। কিছু সীমান্ত মিয়ানমারের সঙ্গেও রয়েছে। ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মিয়ানমারের সঙ্গে যুক্ত হতে দোহাজারী থেকে সীমান্ত সংলগ্ন ঘুনধুম পর্যন্ত নতুন একটি রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেও পরে প্রকল্পটি থেকে সরে এসেছে বাংলাদেশ।

ছবির উৎস, BBC BANGLA
১৩টি চুক্তি-এমওইউ সই হতে পারে- যুগান্তর পত্রিকার দ্বিতীয় প্রধান শিরোনাম এটি। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর বিষয়ক এই খবরটি কালের কণ্ঠ পত্রিকার প্রধান শিরোনাম।
যুগান্তরের খবরটিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরে যাচ্ছেন আজ ২১ শে জুন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে দুই দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরে দুই দেশের মধ্যে ১০ থেকে ১৩টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হতে পারে। এর মধ্যে কয়েকটি আগের চুক্তির নবায়ন হওয়ার কথা রয়েছে। যেসব বিষয়ে সই হবে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- জ্বালানি, যোগাযোগ, অর্থনীতিসহ সহযোগিতার নানা খাত।

ছবির উৎস, BBC BANGLA
তবে এই পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ছাগলে ধরা ‘কালো বিড়াল’, যেখানে রাজস্ব কর্মকর্তা মতিউর রহমান সম্বন্ধে বলা হয়েছে। তবে ওই খবরেরই আরেকটি অংশ মতিউরের যত সম্পদ। এখানে উঠে এসেছে, মতিউর রহমান সরকারি চাকরি করে দুই স্ত্রী, পাঁচ সন্তান ও আত্মীয়স্বজনের নামে কয়েক হাজার কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ গড়েছেন।
এরই মধ্যে দেশেই প্রায় ৫০০ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদের হদিস মিলেছে। ঢাকা, গাজীপুর, সাভার, নরসিংদী ও বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বাড়ি, জমি, ফ্ল্যাট ও প্লট রয়েছে। এছাড়াও সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকে নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের নামে এফডিআর ও শেয়ারবাজারে নিজ নামে অর্ধশত কোটি টাকা বিনিয়োগ আছে।
এমনকি ছাগলকাণ্ডে আলোচিত তরুণকেও কিনে দিয়েছিলেন প্রাডো, প্রিমিও ও ক্রাউনের মতো ৪টি বিলাসবহুল গাড়ি। এসব গাড়ি তার বিভিন্ন কোম্পানির নামের রেজিস্ট্রেশন করা। কিনে দিয়েছেন দামি দামি পাখিও।
তার পরিচিত কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, বেনামে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য মতিউর রহমানের হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকাতেই অন্তত দুই ডজন বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে মতিউর রহমানের স্ত্রী-সন্তান ও ঘনিষ্ঠদের নামে।








