'প্রশাসন আরও মাথাভারী হচ্ছে'

দ্য ডেইলি স্টারের প্রধান শিরোনাম, 'Admin getting even heavier at the top' অর্থাৎ, 'প্রশাসন আরও মাথাভারী হচ্ছে'।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর, বেসামরিক প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের সংখ্যা অনুমোদিত পদের তুলনায় তিনগুণ বেড়ে গেছে।
পদ খালি না থাকা সত্ত্বেও কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়ার ফলে অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব এবং উপসচিবের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অতিরিক্ত পদোন্নতির কারণে প্রশাসনে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে, যা সংশোধন করতে বছর লেগে যাবে। কারণ, একবার দেওয়া পদোন্নতি আর বাতিল করা যায় না।
অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা এতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন, কারণ তারা সাধারণত পদের শূন্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি পান। তাদের অভিযোগ, প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা অন্যায় সুবিধা নিয়ে পদোন্নতি পাচ্ছেন।
অতিরিক্ত সচিবের অনুমোদিত পদ ১৫০টি হলেও বিগত সরকার এই পদে ৩৯৫ জনকে পদোন্নতি দেয়। বর্তমান সরকার আরও ১৩১ জনকে পদোন্নতি দিয়েছে, এতে অতিরিক্ত সচিবের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬৭ জনে।
যুগ্ম সচিবের ২৫০টি পদ থাকলেও, আগের সরকার ৬৫০ জনকে এবং বর্তমান সরকার আরো ২২৬ জনকে পদোন্নতি দিয়েছে, এখন মোট সংখ্যা ৮৬১।
উপসচিবের অনুমোদিত পদ ৪৫০, আগের সরকার এক হাজার ৪৫০ জনকে পদোন্নতি দেয়। বর্তমানে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৫৯৯ জনে।
প্রশাসন, পররাষ্ট্র এবং পুলিশ ক্যাডারে বেশি পদোন্নতি দিতে দেখা যাচ্ছে। অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা শুধুমাত্র পদ খালি থাকলে পদোন্নতি পান। এ কারণে অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা প্রশাসন ক্যাডারের মতো পদোন্নতি দাবি করছেন।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম, 'কমিশনের প্রস্তাবে ফুঁসছে প্রশাসন'।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সাম্প্রতিক প্রস্তাব নিয়ে দেশের প্রশাসনযন্ত্রে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
কমিশন উপসচিব ও যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি প্রশাসন ক্যাডার ও অন্যান্য ক্যাডারের অনুপাত ৫০:৫০ করার প্রস্তাব দিয়েছে। এছাড়া, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্যাডার আলাদা সংস্থা হিসেবে গঠনের সুপারিশ করেছে কমিশন।
এই প্রস্তাবে প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাদের সংগঠন বিএএসএ-সহ চিকিৎসক এবং শিক্ষক ক্যাডারের সংগঠনগুলো তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। জেলা প্রশাসকরা একমত হয়ে কমিশনের প্রস্তাবের বিরোধিতা করে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন।
তারা দাবি করছেন, প্রশাসন ক্যাডারের জন্য ৭৫ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত বজায় রাখা উচিত।
স্বাস্থ্য ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন বলছে, তাদের নীতিনির্ধারণী পদে অনভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের পদায়ন স্বাস্থ্য খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শিক্ষা ক্যাডারের প্রতিনিধিরা বলছেন, প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে শিক্ষা খাতে অস্থিরতা বাড়বে।
কমিশন দাবি করছে, প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে আন্তঃক্যাডার বৈষম্য দূর হবে। তবে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো একে অবিচার হিসেবে দেখছে। প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা বলছেন, মাঠ প্রশাসনে অভিজ্ঞতা থাকার কারণে তারাই সর্বোত্তম পলিসি বাস্তবায়ন করতে সক্ষম।
সংস্কার কমিশনের প্রধানের মতে, এই পরিবর্তন মেধাভিত্তিক প্রশাসনিক ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হবে। তবে প্রস্তাবের বিপক্ষে ক্যাডার সংগঠনগুলোর কঠোর অবস্থান ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক সংস্কারের পথে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

সমকালের প্রধান শিরোনাম, 'ইজতেমার মাঠ দখল নিয়ে সংঘর্ষ, ঝরল ৪ প্রাণ'
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের সংঘাতে টঙ্গীর তুরাগ তীরের বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে ব্যাপক সংঘাত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার গভীর রাতে মাওলানা সাদ কান্ধলভি ও মাওলানা জুবায়ের আহমেদের অনুসারীদের পুরোনো বিরোধ সংঘাতে রূপ নেয়। এতে চারজন নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন।
আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহত ৩৩ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানা গিয়েছে।
জুবায়েরপন্থিরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সংঘর্ষের জন্য উভয় পক্ষ একে অপরকে দোষারোপ করছে।
পরে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ইজতেমা ময়দান খালি করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। দুপুরের পর সবাইকে সরিয়ে দিয়ে মাঠের নিয়ন্ত্রণ নেয় সেনা, পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি সদস্যরা।
অন্যদিকে সাদপন্থীরা ইজতেমার মাঠে জমায়েতের প্রস্তুতি নিলে জুবায়েরপন্থীরা তাদের বাধা দেয়। সংঘর্ষের পর সরকার ইজতেমা মাঠ খালি করার নির্দেশ দেয়।
এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে সমকালের খবরে বলা হয়। দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধের কারণে ইজতেমার আয়োজনে বিভক্তি সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত করতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে।
২০১৭ সালে মোহাম্মদ সাদ কান্ধলভির একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজক তাবলিগ জামাতের নেতা ও অনুসারীদের মধে বিভেদ সৃষ্টি হয়েছিল। এরপর থেকে দুই পক্ষ আলাদা হয়ে দুই পর্বে ইজতেমার আয়োজন করছে।

নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম, 'বাবরসহ ৬ জন খালাস'।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের আলোচিত ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় হাইকোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছয়জনের সাজা কমিয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ছয়জনকে খালাস দেয়া হয়েছে।
খালাসপ্রাপ্তদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপকসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা রয়েছেন।
মামলায় ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার সাবেক নেতা পরেশ বড়ুয়ার মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।
রায়ে বলা হয়, প্রসিকিউশন অনেক অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে, তাই লুৎফুজ্জামান বাবরসহ কয়েকজনকে খালাস দেয়া হয়।
তবে বাবর অন্য মামলায় দণ্ডের কারণে এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না। মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ইতোমধ্যে মৃত্যুবরণ করায় তার আপিল মুলতবি করা হয় এবং জরিমানা মওকুফ করা হয়।
অপরদিকে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছয়জন এনএসআই কর্মকর্তা ও চোরাচালানি সদস্যদের ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং জরিমানা কমিয়ে ১০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
আদালত জানান, পরেশ বড়ুয়ার বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রমাণ থাকায় তাকে যাবজ্জীবন সাজা দেয়া হয়েছে।
আইনজীবীদের মতে, এই রায়ের মাধ্যমে বেশ কিছু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিচারের বিষয় সামনে এসেছে। নিজামীর পরিবার দাবি করেছে, তার মৃত্যুদণ্ড ছিল রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত।

প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম, 'বেওয়ারিশ' হিসেবে দাফন, পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা কম।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধের পাশে অবস্থিত কবরস্থানে অনেক 'বেওয়ারিশ' লাশ দাফন করা হয়েছে, যেগুলোর কোনো নামফলক নেই।
এই কবরগুলোর অধিকাংশ আন্দোলনে নিহত ব্যক্তিদের, যাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। জুলাই-অগাস্ট মাসে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম নামে একটি সংস্থা ১১৪টি বেওয়ারিশ মরদেহ দাফন করে।
নিহতদের পরিবারের অনেকেই নিজেদের উদ্যোগে শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছেন, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা কবরটি চিহ্নিত করতে পারছেন না।
এদের মধ্যে আছেন মাহিন মিয়া ও সোহেল রানার পরিবার। মাহিনের ভাই আবদুল জব্বার অনেক চেষ্টার পর জানতে পারেন, তার ভাই আন্দোলনের সময় গুলিতে নিহত হয়েছেন এবং রায়েরবাজারে দাফন করা হয়েছে।
একইভাবে, সোহেল রানার পরিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও দেখে মরদেহ শনাক্ত করে। তবে তারা কবর চিহ্নিত করতে পারেননি।
ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে লাশ শনাক্ত করা সম্ভব হলেও এটি সময়সাপেক্ষ ও জটিল। সরকার 'গণ–অভ্যুত্থানসংক্রান্ত বিশেষ সেল' গঠন করলেও কার্যকর পদক্ষেপ এখনো নেওয়া হয়নি।
মানবাধিকারকর্মীরা দাবি করছেন, এই প্রক্রিয়ায় গতি আনতে হবে এবং পরিবারগুলোর জন্য পর্যাপ্ত তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া, কবর সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদও দেওয়া হয়েছে।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রধান শিরোনাম, 'Strategic plan afoot to enhance local treatment to curb medical tourism for complex diseases' অর্থাৎ 'স্থানীয় চিকিৎসার উন্নয়ন ও চিকিৎসা পর্যটন রোধে কৌশলগত পরিকল্পনা'।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ সরকার ক্যান্সার, হৃদরোগ, বন্ধ্যাত্ব এবং কিডনি সমস্যার মতো জটিল রোগের স্থানীয় চিকিৎসা উন্নয়নে কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।
এর উদ্দেশ্য হলো চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী রোগীর সংখ্যা কমানো। সরকার জনস্বাস্থ্য ও বেসরকারি হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
১৫ই ডিসেম্বর এক বৈঠকে বিশেষজ্ঞ ও সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে এই উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষত ভারতের ভিসা সীমাবদ্ধতার কারণে রোগীদের চিকিৎসা প্রাপ্তিতে তৈরি হওয়া চ্যালেঞ্জগুলোর উপর আলোকপাত করা হয়।
ডা. সায়েদুর রহমান জানান, ক্যান্সার ও প্রতিস্থাপন চিকিৎসায় প্রধান সমস্যা হলো সরঞ্জামের অভাব। দেশে প্রতি ১০ লাখ মানুষের জন্য একটি রেডিওথেরাপি মেশিন প্রয়োজন হলেও, বর্তমানে মাত্র ৩৭টি মেশিন রয়েছে।
সরকার আটটি বিভাগে ১০০ শয্যার ক্যান্সার হাসপাতাল ও ডায়ালাইসিস কেন্দ্র স্থাপন, পাশাপাশি বিশেষায়িত হাসপাতালের কার্যক্রম বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এছাড়া কিডনি প্রতিস্থাপন সহজ করতে আইন সংশোধনের কথা ভাবা হচ্ছে।
জনসাধারণের আস্থা ফেরাতে প্রশিক্ষণ ও বিদেশি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আসার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ছয় মাস নন-প্রফিট ভিত্তিতে পরিচালনার অনুরোধ করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সঠিক উদ্যোগ নিলে বিদেশে চিকিৎসার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম, 'সর্বোচ্চ ঋণ মোচনের অর্থবছর ২০২৪-২৫'।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে সাম্প্রতিক মূল্যায়নে দেখা যাচ্ছে, সরকারকে ঋণ ও ঋণের সুদ পরিশোধে সর্বোচ্চ ব্যয় করতে হচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই ব্যয় অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে প্রায় চার লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ ও সুদ পরিশোধ করতে হবে।
রাজস্ব আয় লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থতার কারণে সরকার ঋণ নির্ভর বাজেট পরিচালনা করছে, যা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ বাড়িয়েছে। আইএমএফ প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাজস্ব বৃদ্ধির তাগিদ দিয়েছেন।
কর সংস্কার, করছাড় হ্রাস, এবং রাজস্ব নীতি ও প্রশাসনের পৃথকীকরণসহ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, মুদ্রানীতির কঠোরতা ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ঋণের উচ্চ সুদ ও ট্রেজারি বিলের সুদহার বৃদ্ধির কারণে সরকার ঋণের দুষ্টচক্রে পড়েছে। রাজস্ব আয় কম হওয়ায় ঋণ পরিশোধে চ্যালেঞ্জ আরও বাড়ছে।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারের আয় বৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দিতে হবে বলে তারা মনে করেন।
উন্নয়ন ব্যয়ে ঘাটতির পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও কম বরাদ্দ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। জরুরি সংস্কার ছাড়া এই সংকট উত্তরণের সম্ভাবনা কম।

দ্য নিউ এইজের প্রথম পাতার খবর, '3 Bangladesh nationals found dead near Indian border' অর্থাৎ, 'ভারতীয় সীমান্তের কাছে ৩ বাংলাদেশি নাগরিকের মরদেহ উদ্ধার'।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বুধবার যশোরের শার্শা ও বেনাপোল পোর্ট থানাধীন ইছামতি নদীর কাছে ভারত সীমান্তবর্তী তিনটি পৃথক স্থান থেকে তিন বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ।
স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ, নিহতদের ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী নির্যাতন করে হত্যা করার পর তারা লাশগুলো বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ফেলে গেছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের ২১ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার নিউ এইজের প্রতিবেদককে ভারতীয় সীমান্তে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তবে কীভাবে তাদের হত্যা করা হয়েছে বা তৃতীয় ব্যক্তির মৃত্যু সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
যশোরের সহকারী পুলিশ সুপার নিউ এইজের প্রতিবেদককে জানিয়েছেন তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি আরও বলেন, 'আমরা তাদের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করছি।
স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ নিউ এইজের প্রতিবেদককে জানায়, বুধবার ভোর ৩টা, সকাল ৭টা ৪০ মিনিট ও বিকেল ৩টার দিকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়।
লাশ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে নিউ এইজের প্রতিবেদককে জানিয়েছে পুলিশ।

দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর, 'পুষ্টিহীনতার শঙ্কা এখন মধ্যবিত্তও'।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, গত তিন বছরে বাংলাদেশে গড় মজুরির তুলনায় গড় মূল্যস্ফীতি বেশি থাকায় মানুষের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে বৈষম্য তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার বৃদ্ধি মানুষের জীবনযাত্রায় গভীর প্রভাব ফেলছে। মূল্যস্ফীতি ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা মজুরি বৃদ্ধির তুলনায় অনেক বেশি।
ফলে খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ কমাতে বাধ্য হচ্ছে মানুষ। নিম্ন আয়ের মানুষের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত শ্রেণিও এই সংকটে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ অবস্থায় পুষ্টিহীনতার ঝুঁকি বেড়েছে, বিশেষত শিশুদের মধ্যে। শাকসবজি দিয়ে পুষ্টি ঘাটতি পূরণ সম্ভব হলেও উচ্চমূল্যের কারণে অনেকেই পর্যাপ্ত কিনতে পারছেন না।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুসারে, গ্রাম ও শহরের মানুষের দৈনিক গড় ক্যালরি গ্রহণে পার্থক্য রয়েছে। তবে আয় বৈষম্যের কারণে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের সক্ষমতা কমছে।
একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৪ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে। খাদ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ মধ্যম আয়ের মানুষকে কঠোরভাবে প্রভাবিত করছে। অনেকেই মাছ-মাংস বাদ দিয়ে শাকসবজির দিকে ঝুঁকছেন।
এই অবস্থা দীর্ঘায়িত হলে মানুষের কর্মক্ষমতা এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে। ফলে দেশের জনগণের জন্য একটি গভীর অর্থনৈতিক ও পুষ্টি সংকট তৈরি হচ্ছে।








