টেক্সাসের একটি খামারে বিস্ফোরণে মারা গেছে ১৮ হাজার গরু

ছবির উৎস, CASTRO COUNTY SHERIFF'S OFFICE
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের একটি দুধের খামারে বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রায় ১৮ হাজার গরু মারা গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
এ সপ্তাহের আরো আগের দিকে ডিমিট শহরের কাছে সাউথ ফর্ক ডেইরিতে এই বিস্ফোরণে এক ব্যক্তি গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
কর্তৃপক্ষ মনে করছে খামারে যেসব যন্ত্রপাতি আছে সেগুলো থেকে মিথেন গ্যাসে আগুন ধরে গেলে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত খামারে বেশ কিছু অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রায় ৩০ লাখ পশুপাখি নিহত হয়েছে।
ক্যাস্ট্রো কাউন্টি শেরিফের অফিস থেকে বলা হয়েছে যে তারা সোমবার স্থানীয় সময় সাড়ে সাতটার দিকে দুধের খামারে এই অগ্নিকাণ্ডের খবর পান।
শেরিফের অফিস থেকে যেসব ছবি পোস্ট করা হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে নিচ থেকে আগুনের বিশাল আকারের কালো ধোঁয়া কুন্ডলি পাঁকিয়ে উপরের দিকে উঠছে।
পুলিশ এবং জরুরি বিভাগের সদস্যরা যখন সেখানে গিয়ে পৌঁছান, তারা দেখতে পান যে ভেতরে এক ব্যক্তি আটকা পড়ে আছেন। পরে তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এই অগ্নিকাণ্ডে আসলেই কতো গরু প্রাণ হারিয়েছে তা পরিষ্কার না হলেও শেরিফের অফিস থেকে বিবিসিকে জানানো হয়েছে যে এই ঘটনায় আনুমানিক ১৮,০০০ গরু মারা গেছেে।
স্থানীয় একটি সংবাদ মাধ্যম কেএফডিএ বলছে, শেরিফ স্যাল রিভেরা বলেছেন খামারের যে জায়গায় গরুগুলো রাখা হয়েছিল সেখানে আগুন ছড়িয়ে পড়লে বেশিরভাগ গরু মারা যায়।
দুধ দোহন করার আগে গরুগুলোকে এই স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
“কিছু গরু বেঁচে গেছে,” শেরিফকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, “কিছু গরু আহত হয়েছে। এবং এসব গরু এমনভাবে পুড়ে গেছে যে সেগুলোকে মেরে ফেলতে হবে।”
কেএফডিএ-কে মি. রিভেরা বলেছেন, তদন্তকারীরা ধারণা করছেন যে “হানি ব্যাজার” নামের একটি যন্ত্র থেকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে। এই মেশিনের সাহায্যে “গোবর থেকে পানি বের করে ফেলা হয়।”
“সম্ভবত এটি অতিরিক্ত গরম হয়ে গিয়েছিল। সেকারণে খামারে জমা হওয়া মিথেন গ্যাস জ্বলে ওঠে এবং পরে সেটা আরো ছড়িয়ে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটেছে,” বলেন তিনি।
ওয়াশিংটন ডিসি থেকে প্রাণী কল্যাণ ইন্সটিটিউট বিবিসিকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেছে- যদি ১৮,০০০ গরু মারা যাওয়ার খবরটি সত্য হয় তাহলে এটাই হবে ২০১৩ সালের পর, যে বছর থেকে সংস্থাটি গবাদি পশু সংক্রান্ত খবর রেকর্ড করে রাখতে শুরু করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো খামারে সবচেয়ে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা।
“আমরা আশা করি গবাদি পশু শিল্প এই বিষয়টির ওপর আরো বেশি নজর দেবে এবং খামারগুলো যাতে অগ্নি-নির্বাপনের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয় সে বিষয়েও আমরা জোর দিচ্ছি,” বলেন প্রাণী কল্যাণ ইন্সটিটিউটের এলি গ্র্যাঞ্জার।
“জীবন্ত পুড়ে যাওয়ার মতো কিছু কল্পনা করাও কঠিন,” বলেন তিনি।
প্রাণী কল্যাণ ইন্সটিটিউটের হিসেবে ২০১৩ সালের পর খামারে আগুন লেগে ৬৫ লাখ পশুপাখি মারা গেছে, যার মধ্যে ৬০ লাখেরও বেশি মুরগি এবং ৭,৩০০ গরু।
যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ৩০ লাখ খামার প্রাণী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মারা গেছে বলে বিভিন্ন পরিসংখ্যানে জানা যায়।








