চীনা ভ্রমণকারীদের জন্য অনেক দেশের বিমানবন্দরে বিধিনিষেধ আরোপ

চীনের গণপরিবহনে মাস্ক পরা কয়েকজন যাত্রী

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, চীনে সম্প্রতি কোভিড বিধিনিষেধ শিথিল করার পর থেকেই সংক্রমণ ব্যাপকভাবে বাড়ছে

চীনে কোভিড সংক্রমণ বাড়তে থাকার ফলে আবার নতুন করে বিশ্বে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে - এ আশংকায় বিভিন্ন দেশ চীন থেকে আসা ভ্রমণকারীদের জন্য টেস্টিংএর নিয়ম চালু করেছে।

এসব দেশের মধ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, ফ্রান্স, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, ইতালি, জাপান এবং তাইওয়ান।

সবশেষ ইংল্যান্ডের মন্ত্রীরাও নিশ্চিত করেছেন যে চীন থেকে যে যাত্রীরা আসবেন তাদেরকে বিমানে ওঠার আগেই একটি কোভিড নেগেটিভ টেস্টের প্রমাণ দেখাতে হবে।

চীনে যেসব কঠোর কোভিড বিধিনিষেধ ছিল তার অনেকগুলোই গত কয়েক সপ্তাহে তুলে নেয়া হয়েছে। কিন্তু দেশটিতে এখন কেসের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবার পর থেকেই বেশ কিছু দেশ চীন থেকে আসা ভ্রমণকারীদের স্ক্রিনিং করতে শুরু করেছে।

অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে যে চীনের কর্মকর্তাদেরকে অবশ্যই কোভিড সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য আরো বেশি করে জানাতে হবে।

বিবিসি বাংলায় সম্পর্কিত খবর:
চীনা ভ্রমণকারীদের জন্য বিভিন্ন বিমানবন্দরে বিধিনিষেধ আরোপ

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, কোভিড সংক্রমণ বাড়তে থাকার কারণে চীন থেকে আসা যাত্রীদের জন্য কোভিড নেগেটিভ টেস্ট বাধ্যতামূলক করেছে বেশ কিছু দেশ

সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, কত লোক হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে, কতজন ইনটেনসিভ কেয়ারে আছে এবং কতজনের মৃত্যু হচ্ছে – এসব ব্যাপারে তারা তারো বেশি উপাত্ত দেখতে চান।

 এ ছাড়া বিশেষ করে ৬০ বছরের বেশি বয়স্ক এবং ঝুঁকিসম্পন্নদের টিকাদান সংক্রান্ত তথ্যও চেয়েছে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা।

চীনা কর্মকর্তাদের সাথে এক বৈঠকের পর দেয়া বিবৃতিতে বিশ্বস্বা্স্থ্য সংস্থা বলেছে, মহামারির পরিস্থিতির ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট এবং তাৎক্ষণিক উপাত্ত চাওয়া হয়েছে।

চীনের একটি হাসপাতালে কোভিড রোগী

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, কিছু রিপোর্টে বলা হয়েছে চীনের অনেক হাসপাতাল কোভিড রোগীতে ভরে গেছে

চীনে এখন লকডাউন ও কোয়ারেন্টিনএর নিয়ম বাতিল করা হয়েছে এবং মানুষজন এক জায়গা থেকে অন্যত্র ভ্রমণ করতে পারছে।

তবে এর পর থেকেই কোভিড সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। চীনা সরকারি হিসেবে প্রতিদিন প্রায় ৫,০০০ সংক্রমণের কথা বলা হয়। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন প্রকৃত সংখ্য এর অনেকগুণ বেশি হবে।

পুরো ডিসেম্বর মাস জুড়ে চীনে কোভিডে মাত্র ১৩ জনের মৃত্যুর কথা সরকারিভাবে বলা হয়েছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নতুন বছর উপলক্ষে দেয়া তার ভাষণে বলেছেন, ক্রমবর্ধমান কোভিড সংক্রমণের বিরুদ্ধে দেশের লড়াইয়ের ক্ষেত্রে সামনে 'শক্ত চ্যালেঞ্জ' রয়েছে।

দেশটিতে কোভিড নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্তের পর এই প্রথম চীনা নেতার মুখ থেকে এ বিষয়ে কোন বক্তব্য শোনা গেল।

চীনা অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব

কোভিডের কারণে চীনের অর্থনীতি যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তার আভাস পাওয়া যাচ্ছে চীনের সবশেষ অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানে।

এতে দেখা যায়, পর পর তৃতীয় মাসের মত ডিসেম্বরে চীনা কারখানাগুলোর কর্মকান্ড সংকুচিত হয়েছে । ম্যানুফ্যাকচারিংএ খাতে যে পতন হয়েছে তার পরিমাণ ছিল প্রায় তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

আগামী কয়েক মাসের জন্য চীনা অর্থনীতির পূর্বাভাসও ভালো নয় ।

কোভিড সংকটের ফলে শ্রমিক সংকট ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন দেখা দিতে পারে এমন সম্ভাবনার কথাও বলা হচ্ছে।