পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক সময়ের শত্রু নওয়াজ শরীফ আবারো দেশে ফিরছেন

২০১৯ সাল থেকে স্বেচ্ছা নির্বাসনে নওয়াজ শরীফ

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ২০১৯ সাল থেকে স্বেচ্ছা নির্বাসনে নওয়াজ শরীফ
    • Author, তারহাব আসগর ও সাইমন ফ্রেজার
    • Role, দোহা ও লন্ডন থেকে

আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ এ সপ্তাহের শেষে স্বেচ্ছা নির্বাসন থেকে দেশে ফিরছেন। মি. শরীফ তার দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিক্রমায় প্রায় পুরোটা সময় পাকিস্তানের শক্তিশালী সেনাবাহিনীর পথের কাঁটা হয়ে ছিলেন। তার এমন নাটকীয় ফেরার ব্যাপারে খুব কম লোকই ধারণা করতে পেরেছিলেন।

এর আগে শেষবার তিনি যখন পাকিস্তানে ছিলেন তখন দুর্নীতির দায়ে সাজা খাটছিলেন – কিন্তু স্বাস্থ্যগত কারণে ২০১৯ সালের নভেম্বরে জেল থেকে বাইরে আসার সুযোগ পান তিনি।

এখন অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, সেনাবাহিনী একদিন যাকে ক্যু এর মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছিল, তাকেই আবারও স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে – এবং এমনকি তিনি আবারও প্রধানমন্ত্রীও হয়ে যেতে পারেন।

শুধু এখানেই শেষ না – সব চরিত্রেরই যেন বদল ঘটেছে। তার প্রতিপক্ষ ইমরান খান, যিনি ২০১৮ সালে তার জায়গায় প্রধানমন্ত্রী হন, তিনি এখন সেনাবাহিনীর সাথে দ্বন্দ্বে কারাগারে।

আরো পড়তে পারেন:

নওয়াজ পাকিস্তানে আসলে কী হবে?

তিনবারের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী জামিন পাবার পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে মূলত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান এবং গত চার বছর ধরে তিনি সেখানেই ছিলেন।

তিনি আবারও রাজনীতিতে সরব হতে থাকেন ২০২২ সাল থেকে যখন ইমরান খান সংসদের অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হন।

মি. শরীফের দল পিএমএল-এন পার্টি সেই সময় পাকিস্তানের অর্ন্তবর্তীকালীন দায়িত্ব নেয়, যার প্রধান হলেন নওয়াজ শরীফের ছোট ভাই শাহবাজ শরীফ।

তার বড় ভাই যখন দেশে ফিরছে তখন তিনিও দুবাই থেকে ইসলামাবাদের পথে এবং এরপর তার নিজের শহর লাহোরে গিয়ে এক জনসমাবেশে যোগ দেবেন।

যদিও এখনও আদালতে মামলা চলমান, তবে এই মুহূর্তে তার গ্রেফতার হওয়ার ভয় নেই, কারণ তিনি আগামী সপ্তাহের পরবর্তী শুনানির আগ পর্যন্ত জামিনে আছেন।

ইসলামাবাদের আদালত চত্ত্বরের সামনে নওয়াজ শরিফ সমর্থকদের আনন্দ মিছিল

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ইসলামাবাদের আদালত চত্বরের সামনে নওয়াজ শরিফ সমর্থকদের আনন্দ মিছিল

নির্বাসন থেকে মি. শরীফের ফিরে আসার এটাই প্রথম ঘটনা নয়।

২০০৭ সালেও তিনি ফিরে এসেছিলেন, যখন তিনি ও তার প্রতিপক্ষ বেনজীর ভুট্টো সেনাবাহিনীর সাথে এক ঐতিহাসিক চুক্তিতে আসেন। ১৯৯৯ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা হারানোর পর আবারও তাকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ করে দেয়।

তখন অবশ্য সমস্ত বিরোধী দলগুলো একসাথে জোট বাঁধে এবং এক নির্বাচনী সমাবেশে বেনজীর ভুট্টোর হত্যাকান্ডের সপ্তাহখানেক পর তার দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) জয়লাভ করে।

Skip YouTube post, 1
Google YouTube কনটেন্টের জন্য কি অনুমতি দেবেন?

এই নিবন্ধে Google YouTubeএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত Google YouTube কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।

সতর্কবাণী: বিবিসির নয় এমন ওয়েবসাইটের কনটেন্টের জন্য বিবিসি দায়ী না YouTube কনটেন্টে বিজ্ঞাপন থাকতে পারে

End of YouTube post, 1

শরিফ কি আবারও প্রধানমন্ত্রী হবেন?

নওয়াজ শরীফের দল পরিষ্কার করে বলেছে যে চলতি বছর যে নির্বানের অনুষ্ঠানের কথা ছিল, যেটি পিছিয়ে আগামী বছরে গিয়েছে, সেখানে তাদের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী তিনিই হবেন।

কিন্তু ৭৩ বছর বয়সী মি. শরীফের সামনে অনেকগুলো ইস্যু আছে – আর সেটা শুধুমাত্র চলমান অর্থনৈতিক সঙ্কটই নয়। এই সংকটের জন্য তার দলকে বেশি দায়ী করা হয়। আরেকটা বড় ইস্যু হচ্ছে - তার প্রধান প্রতিপক্ষ ইমরান খান জেলে থাকায় নির্বাচন সুষ্ঠ হবেনা বলেও মনে করেন অনেকে।

এছাড়া সেনাবাহিনীর ব্যাপার তো আছেই। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান কীভাবে চলবে তার অনেকটাই যে তাদের উপর নির্ভরশীল।

দেশের বাইরে থাকার সময় এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রায়শই সামরিক শক্তির সমালোচনা করেছেন।

বিশেষ করে পাকিস্তানের রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য তিনি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর এক সাবেক প্রধান ও সাবেক এক আর্মি চিফ অফ স্টাফকেই দায়ী করেছেন। এসব অভিযোগ তারা অস্বীকারও করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীত্ব হারিয়ে এখন কারাগারে ইমরান খান

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, প্রধানমন্ত্রীত্ব হারিয়ে এখন কারাগারে ইমরান খান
স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

মি. শরিফ দাবি করেন, তিনি ‘মিথ্যা মামলার’ শিকার এবং একই সাথে দেশের বিচারকরাও যোগসাজশে কাজ করেন বলে অভিযোগ আনেন।

যার জন্য পাকিস্তানের গণতন্ত্র পঙ্গু হয়ে পড়েছে এবং তিনি মনে করেন এসব কারণেই পাকিস্তানের কোন প্রধানমন্ত্রী তার মেয়াদ শেষ করতে পারেন না।

তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা মনে করে সেনাবাহিনীর সাথে তার একটা বোঝাপড়া হয়েছে যাতে তিনি দেশে ফিরতে পারেন। কিন্তু তারাও বলছেন যে এতে নিশ্চিত নয় নওয়াজ শরিফই নির্বাচনে জয়লাভ করবেন।

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) জুলফি বুখারী বিবিসিকে বলেন, “আমি তো তার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কোন রাস্তা দেখিনা, কারণ তার বিরুদ্ধে মামলা চলছে এবং আদালতের আদেশেই তিনি রাজনীতিতে আজীবনের জন্য অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন।”

তবে অনেক পর্যবেক্ষকই মনে করেন, ভবিষ্যতে সবকিছুই মি. শরীফের পক্ষে ঘুরে যাবে।

“আমাদের রাজনীতির চেহারা ও চিত্রনাট্য কোনটাই বদলায়নি। শুধুমাত্র রাজনৈতিক চরিত্রের পরিবর্তন ঘটছে,” বিবিসিকে বলেন পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ওয়াজাহাত মাসুদ।

“২০১৮ সালের নির্বাচনে ইমরান খান সামরিক বাহিনীর সহায়তায় ক্ষমতায় আসে। আর এখন তারা ব্যস্ত নওয়াজ শরীফের জন্য নির্বাচন করতে।”

তবে সেনাবাহিনীর কাছ থেকে এ ব্যাপারে কিছুই জানা যায়নি যে তারা মি. শরিফকে চায় কী-না। একই সাথে সেনাবাহিনী ও ইমরান খান - কোন পক্ষই নিজেদের মধ্যে কখনো বোঝাপড়া ছিল বলে স্বীকার করেনি।

ইমরান খান গ্রেফতারের পর তার সমর্থকরা রাস্তায় বেরিয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ করে

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, ইমরান খান গ্রেফতারের পর তার সমর্থকরা রাস্তায় বেরিয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ করে

নির্বাচন কি সুষ্ঠ হবে?

ইমরান খান একদিকে কারাগারে, আর অন্যদিকে গত মে মাসে তার গ্রেফতারের প্রতিবাদে হওয়া ব্যাপক বিক্ষোভের পর ধরপাকড়ে তার দলও যখন অনেকটাই দুর্বল অবস্থানে। এমন অবস্থায় বেশিরভাগ মানুষেরই ধারণা নির্বাচন সুষ্ঠ হবেনা।

ইমরান খান গ্রেফতার হওয়ার আগ পর্যন্ত নির্বাচনের মাঠে পিটিআই এগিয়ে ছিল। কিন্তু জুলফি বুখারী বলছেন, এখন আর নির্বাচনের মাঠে সবাইকে সমান সুযোগ দেয়া হচ্ছে না – একই মত অন্যান্য দলেরও।

“আপনি কীভাবে নির্বাচনের আগে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতাকে কারাগারে দিতে পারেন,” প্রশ্ন করেন মি. বুখারী।

“আপনি যদি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করেন, তাহলে দেখবেন ইমরান খানের ভোট ব্যাংক কত শক্তিশালী।”

নওয়াজ শরিফের দলও অনেকটা একই কথা বলেছিল যখন ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে তিনি কারাগারে যান।

তাই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে শুধু এবার পিটিআইয়ের জায়গায় সুবিধা পাচ্ছে পিএমএল-এন।

প্রধান ফ্যাক্টর এখানে অর্থনীতি – দুই দলই এই সংকটের জন্য একে অন্যকে দায়ী করছে। আকাশ ছোঁয়া মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধিই হবে ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে ভোটারদের ভাবনার বিষয়।

যদিও পিএমএল-এন দাবি করছে যে নওয়াজ শরীফ আগেও ক্ষমতায় ছিল এবং তিনি জানেন কীভাবে সব ‘আবারও ঠিক করতে হবে’। তবে অনেকেই নিশ্চিত না যে কীভাবে তিনি এটা করবেন।

বেশিরভাগ পাকিস্তানি এখন ভীষণ হতাশ দেশের এই নষ্ট হয়ে যাওয়া গণতন্ত্র দেখে। তরুণ প্রজন্ম এখন খোলাখুলিভাবেই রাজনীতিবিদ ও রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কথা বলছে।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:
১৬ বছর আগে এক নির্বাচনে বেনজীর ভুট্টোর সঙ্গে নওয়াজ শরিফ

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ১৬ বছর আগে এক নির্বাচনে বেনজীর ভুট্টোর সঙ্গে নওয়াজ শরিফ

সেনাবাহিনী নওয়াজকে ভরসা করতে পারে?

সেনাবাহিনী পাকিস্তানের রাজনীতিতে সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে এবং কয়েকবারই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণ করেছে। নওয়াজ শরীফের সাথেও তাদের দীর্ঘ টানাপোড়েনের ইতিহাস আছে।

কিন্তু তারপরও আর কোন উপযুক্ত কেউ না থাকায়, সেনাবাহিনী হয়তো তাকেই আরেকটা সুযোগ দেবে বলে মনে করছেন ওয়াজাহাত মাসুদ।

“প্রথমে মিলিটারি ইমরান খানকে বেছে নেয়, কারণ তারা মনে করেছিল এটা তাদের জন্য নিরাপদ ও ভালো পছন্দ, কিন্তু যখন তারা দেখলো তাদের কর্তৃত্ব হুমকির মুখে তারা তাকে সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিল,” বলেন মি. মাসুদ।

“আর এখন মনে হচ্ছে নওয়াজ শরীফের সময়।”

তিনি ও অন্য পর্যবেক্ষকরা কিছু সংকেত দেখতে পাচ্ছেন যেটা বলছে যে লন্ডনে থাকার সময় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মি. শরীফের সমালোচনার পরও, তাদের মধ্যে একটা বোঝাপড়া হয়েছে।

তারা মনে করিয়ে দেন যে মি. শরীফও তার রাজনীতির শুরুর দিকে সেনাবাহিনীর সহায়তা পেয়েছেন এবং তিনিও এনিয়ে ইমরান খানের মতোই তার বিরুদ্ধে সমালোচনাগুলোকে অস্বীকার করেছেন।

তবে এরপর তার ক্যারিয়ার জুড়ে বেশিরভাগ সময় মি. শরীফের সাথে সেনাবাহিনীর সম্পর্ক জটিল থেকেছে, এবং এখন এসে সেটা ঠিক কেমন রূপ নেবে?

“তিনি ‘ইয়েস স্যার’ ধরণের মানুষ হবেন না’- বলেন সাবেক এমপি নাদিম আফজাল চান।

তিনি সেনাবাহিনীর সাথে মি. শরিফের মতানৈক্যের ইতিহাসের কথা মনে করেন।

“তবে তিনি তার সীমানা ভালো করেই জানেন যে কখন সেটা অতিক্রম করা যাবে আর কখন যাবে না,” বলেন মি. চান, যিনি ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় তার মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেছেন।

তবে মি. চান ও অন্য পর্যবেক্ষরাও মনে করেন, কোন এক পর্যায়ে ঠিকই আবার দু পক্ষের মধ্যে বিবাদ হবে – এটা শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র।

তবে এসব কিছুর আগে নির্বাচনের জন্য একটা তারিখ ঠিক করতে হবে এবং অর্থনীতিকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে হবে যা আসন্ন রাজনৈতিক প্রচারণার মূল বিষয় হয়ে উঠবে।

Skip YouTube post, 2
Google YouTube কনটেন্টের জন্য কি অনুমতি দেবেন?

এই নিবন্ধে Google YouTubeএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত Google YouTube কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।

সতর্কবাণী: বিবিসির নয় এমন ওয়েবসাইটের কনটেন্টের জন্য বিবিসি দায়ী না YouTube কনটেন্টে বিজ্ঞাপন থাকতে পারে

End of YouTube post, 2