পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আজ, উচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি

করাচিতে একিউএম-পি এর ঘুড়ি মার্কা এবং জামায়াত-ই-ইসলামির দাঁড়িপাল্লা মার্কা পোস্টার দেখা যায়।

ছবির উৎস, EPA

ছবির ক্যাপশান, করাচিতে একিউএম-পি এর ঘুড়ি মার্কা এবং জামায়াত-ই-ইসলামির দাঁড়িপাল্লা মার্কা পোস্টার দেখা যাচ্ছে।

পাকিস্তানের ষোড়শ সাধারণ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দেশটির প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটার আজ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

পাকিস্তান ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির ২৬৫টি আসন ছাড়াও প্রাদেশিক পরিষদের ৫৯০টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে আজ। এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির একটি আসন এবং তিনটি প্রাদেশিক আসনের ভোট স্থগিত করা হয়েছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিকান্দার সুলতান রাজা চারটি প্রদেশের কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি, বাড়তি সহিংসতা এবং সম্ভাব্য জালিয়াতির অভিযোগের মধ্যেই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের প্রায় দুই বছর পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মি. খানকে পরে দুর্নীতির অভিযোগে কারাদণ্ড দেয়া হয় এবং নির্বাচনে তার প্রার্থিতার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়।

নির্বাচন নিয়ে খবর সংগ্রহের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে প্রার্থী, প্রচারণা এবং মতামত জরিপের বিষয়ে কী বলা যাবে আর কী বলা যাবে না তা নিয়ে কঠোর নিয়ম-নীতি রয়েছে। স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে এবং এসব নিয়ম-নীতি কার্যকর থাকবে। নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।

নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া ১২ কোটির বেশি ভোটারের মধ্যে অর্ধেকেরই বয়স ৩৫ বছরের নিচে।

তারা প্রায় পাঁচ হাজার প্রার্থীর মধ্য থেকে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করবেন। প্রার্থীদের মধ্যে নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৩১৩ জন।

নওয়াজ শরীফের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান মুসলিম লীগ এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টি- পিপিপি নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রধান দুটি দল।

ইমরান খানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রার্থী খুঁজে বের করাটাই মুশকিল হয়ে পড়েছে কারণ তাদের প্রতীক ক্রিকেট ব্যাট ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত দলটির সব প্রার্থীই এই প্রতীকটি ব্যবহার করে এসেছে। যে দেশে ৪০ শতাংশ মানুষ পড়াশোনা জানেন না তাদের কাছে প্রতীক একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

নওয়াজ শরীফ (বামে) এবং বিলাওয়াল ভুট্টো নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। কিন্তু ইমরান খান কারাগারে রয়েছেন এবং তিনি অংশ নিতে পারবেন না।

ছবির উৎস, EPA

ছবির ক্যাপশান, নওয়াজ শরীফ (বাম থেকে) এবং বিলাওয়াল ভুট্টো নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। কিন্তু ইমরান খান কারাগারে রয়েছেন এবং তিনি অংশ নিতে পারবেন না।
স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

পিটিআই অভিযোগ করেছে,তাদের প্রার্থীরা যাতে কোনো আসনে জয় না পায় তা নিশ্চিত করতে আরো নানা ধরনের কৌশল নেয়া হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে প্রার্থীদের জেলে পাঠানো, কোনো ধরনের প্রচারণা চালাতে না দেয়া এবং গা ঢাকা দিতে বাধ্য করার মতো কৌশল।

গত সপ্তাহে পাঁচ দিনের ব্যবধানে তিনটি আলাদা মামলায় কমপক্ষে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে মি. খানকে এবং তিনি এখন জেলেই রয়েছেন। তার আইনজীবী জানিয়েছেন, বিভিন্ন মামলায় তার বিরুদ্ধে এখনো ১৭০টি অভিযোগ রয়েছে। পিটিআই এতে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ তুলেছে। সামরিক বাহিনীর সাথে ক্ষমতায় থাকার সময় থেকেই সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না ইমরান খানের।

কিন্তু ভোটাররা পিএমএল-এন নেতা নওয়াজ শরীফকে ভোট দিতে পারবেন যিনি গত নির্বাচনের সময় দুর্নীতির দায়ে দেয়া কারাদণ্ড ভোগ করতে শুরু করেছিলেন।

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে ১৯৯৯ সালে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল এবং তার তৃতীয় মেয়াদের সময় সীমা কমিয়ে আনা হয়েছিল ২০১৭ সালে।

কিন্তু সম্প্রতি তিনি স্ব-ঘোষিত নির্বাসন থেকে ফিরেছেন এবং গত বছর তার বিরুদ্ধে দেয়া ক্ষমতায় আসতে আজীবন নিষেধাজ্ঞা বাতিল এবং তার সব অপরাধের রেকর্ড সরিয়ে ফেলা হয়। যার কারণে তিনি চতুর্থ বারের মতো ক্ষমতায় আসার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারছেন।

কিন্তু ৩৩৬ আসনের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে কোন দল সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ১৬৯ টি আসনে জয়ী হতে পারবে তা এখনো বলা যাচ্ছে না।

লাখ লাখ মানুষ দেশটির অর্থনৈতিক খারাপ অবস্থার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন যা আরো বেড়েছে ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া বন্যার কারণে। মূল্যস্ফীতি বাড়ছে এবং মানুষ তাদের দৈনন্দিন বিল দিতেও অপারগ হয়ে যাচ্ছে।

এছাড়া সারা দেশে বেড়ে চলা সহিংসতাও উদ্বেগের একটি প্রধান কারণ।

ইসলামাবাদ ভিত্তিক একটি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর রিসার্চ এন্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে পাকিস্তানে টানা তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ২০১৭ সালের পর থেকে এই বছর সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে যার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, জঙ্গি এবং বেসামরিক নাগরিকও রয়েছে।

অর্থনৈতিক খারাপ অবস্থার জন্য কারা দায়ী, সেটি এই নির্বাচনের জয়ী হওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।

ছবির উৎস, REUTERS

ছবির ক্যাপশান, অর্থনৈতিক খারাপ অবস্থার জন্য কারা দায়ী, সেটি এই নির্বাচনের জয়ী হওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।

রাজনীতিতে যুক্ত হওয়াটাই এখন বিপজ্জনক। বুধবার নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার ২৪ ঘণ্টা আগে বেলুচিস্তান প্রদেশে প্রার্থীদের অফিসের বাইরে দুটি আলাদা হামলায় কমপক্ষে ২৮ জন নিহত হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ মনে করছে, নির্বাচনের দিন সহিংসতা আরো বাড়তে পারে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ভোট গ্রহণের দিন “পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে” পায়ে হেঁটে চলাচল ও মাল বহনসহ সব ধরনের যাতায়াতের জন্য আফগানিস্তান ও ইরানের সাথে সীমান্ত পারাপার বন্ধ থাকবে। দেশ জুড়ে ভোটকেন্দ্রগুলোতে লাখ লাখ সামরিক সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন ৯০ হাজার ৬৭৫টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে অর্ধেক কেন্দ্রকেই “ঝুঁকিপূর্ণ” ঘোষণা করেছে। তার মানে হচ্ছে এই সব কেন্দ্রগুলোতে সহিসংতা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর “অতি ঝুঁকিপূর্ণ” মানে হচ্ছে এসব কেন্দ্রে হামলার আশঙ্কা আরো বেশি। বিভিন্ন প্রদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নির্বাচনের সময়ের আগের সহিংসতার ইতিহাস বিবেচনায় নিয়ে এই শ্রেণিবিভাগ করা হয়েছে।

অনেক বিশ্লেষক বলছেন, ভোটার উপস্থিতি বেশি হলে পিটিআই এর জেতার সম্ভাবনা বাড়বে।তবে দেশটির অর্থনৈতিক সংকট কীভাবে সামলানো যায় এবং এর দায় কার, সে বিষয়গুলো ভোটারদের মাথায় থাকবে।