কোটা আন্দোলনের ঘটনা প্রবাহ : এ যাবৎ যা যা হলো

ছবির উৎস, Getty Images
দেশ জুড়ে সহিংসতায় একশোরও বেশি মানুষের মৃত্যু, আরও বহু মানুষের আহত হওয়া, গাড়ি-ভবনে অগ্নিসংযোগ, জেল ভেঙ্গে কয়েদি পালানো, রোববার সুপ্রিম কোর্টে কোটা বাতিল নিয়ে হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত রদ - সব মিলিয়ে গত দেড় মাস ধরে যা ঘটেছে, তারই একটা খতিয়ান রইল বিবিসি বাংলার পাঠকদের সামনে :
২২শে জুলাই, সোমবার:
- কমপ্লিট শাটডাউন ৪৮ ঘণ্টার জন্য স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন কোটা আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম। এই সময়ের মধ্যে তারা চার দফা দাবির বাস্তবায়ন দেখার জন্য সরকারকে আলটিমেটাম দিয়েছে।
- সাধারণ ছুটির মেয়াদ মঙ্গলবার পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা করা হয়েছে।
- কারফিউও বাড়ানো হয়েছে এদিন।
- কোটা সংস্কার আন্দোলনের সহিংসতায় এ পর্যন্ত অন্তত ১৩১ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
- সোমবার পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
২১শে জুলাই, রোববার:
- কোটা নিয়ে আপিল বিভাগের শুনানি, কোটা পুনর্বহাল নিয়ে হাইকোর্টের রায় বাতিল। মেধা ৯৩ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৫ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোটা ১ শতাংশ, প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গ কোটা ১ শতাংশ নির্ধারণের আদেশ। তবে সরকার চাইলে বদলানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
- কারফিউ অব্যাহত, সাধারণ ছুটির আওতায় স্বায়ত্বশাসিত, সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-সহ আর্থিক প্রতিষ্ঠান, পোশাক কারখানা-সহ সব কলকারখানা বন্ধ।
End of বিবিসি বাংলায় আরও পড়তে পারেন

ছবির উৎস, Getty Images
২০শে জুলাই, শনিবার:
- কারফিউর মধ্যেও ঢাকা, সাভার, গাজীপুর, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে বিক্ষোভকারীদের সংঘাত। বহু বিক্ষোভকারী হতাহত।
- আইনমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও তথ্য প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কোটা সংস্কার আন্দোলনের তিন সমন্বয়কারীর বৈঠক। আন্দোলনকারীদের আট দফা দাবি পেশ। এই বৈঠক নিয়ে সমন্বয়কদের মধ্যে মতভেদ।
- শনিবার সহিংসতায় ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে ২৬ জন নিহত।
১৯শে জুলাই, শুক্রবার:
- ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক সংঘর্ষ, পরিস্থিতি থমথমে। মেট্রোরেল স্টেশন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের টোল প্লাজা, মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়ামসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ।
- বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে গ্রেফতার। ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ থাকায় সর্বক্ষেত্রে স্থবিরতা। রাত ১২টা থেকে কারফিউ জারি।
- সারা দেশে সংঘর্ষে অন্তত ৫৬ জন নিহত।
১৮ই জুলাই, বৃহস্পতিবার:
- কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত। বিটিভি ভবনে অগ্নিসংযোগ। মেরুল বাড্ডায় পুলিশ অবরুদ্ধ, পরে হেলিকপ্টারে উদ্ধার।
- পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় সংঘাত সংঘর্ষে শিক্ষার্থীসহ বিক্ষোভকারী হতাহত। ৫৬ শতাংশের পরিবর্তে ২০ শতাংশ কোটার প্রস্তাব আওয়ামী লীগের।
- আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনায় বসতে সরকার রাজি বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী। আলোচনার প্রস্তাব নাকচ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের। রাত ৯টা থেকে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ।
- সারা দেশে ব্যাপক সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন নিহত।
এই নিবন্ধে Google YouTubeএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত Google YouTube কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।
End of YouTube post

ছবির উৎস, Getty Images
১৭ই জুলাই, বুধবার:
পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ, জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ। শীর্ষ আদালতের রায় আসা পর্যন্ত ধৈর্য ধারনের আহ্বান।
১৬ই জুলাই, মঙ্গলবার:
আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল দায়ের। সড়ক অবরোধ, সারাদেশে ব্যাপক সহিংসতা, ছয়জন নিহত।
১৫ই জুলাই, সোমবার:
আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘাত।
১৪ই জুলাই, রোববার:
কোটা পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ। এদিন এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক বক্তব্যের জের ধরে রাতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ।
১০ই জুলাই, বুধবার:
কোটা পুনর্বহাল করে হাইকোর্টের আদেশের ওপর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চার সপ্তাহের স্থিতাবস্থা, ৭ই আগস্ট পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য।
৯ই জুলাই, মঙ্গলবার:
আন্দোলনকারীদের সাথে ছাত্রলীগের সংঘাত।
৭ই জুলাই, রোববার:
সারাদেশে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি।
১লা জুলাই, সোমবার:
শিক্ষার্থীদের ব্যাপক আন্দোলন শুরু।

ছবির উৎস, Getty Images
৯ই জুন, রোববার:
হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন।
৬ই জুন, বৃহষ্পতিবার:
কোটা বাতিল করে আদালতের রায়ের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ।
৫ই জুন, বুধবার:
কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়।








