'কমপ্লিট শাটডাউন' এর শুরুতে ঢাকার যে পরিস্থিতি দেখা গেছে, ২২৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

ছবির উৎস, Getty Images
কোটা সংস্কারের দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার সারাদেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির ঘোষণা করেছে আন্দোলনকারীরা।
দিনের শুরুতে ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে স্বল্প সংখ্যক যানবাহনের উপস্থিতি দেখা গেছে।
সকালে সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, কমপ্লিট শাটডাউনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঢাকাসহ সারাদেশে ২২৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন।
এদিকে, বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার শনির আখড়ায় নতুন করে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ। সেখানে বুধবার মধ্যরাত পর্যন্ত পুলিশের সাথে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলেছে।
যাত্রাবাড়ী ও শনির আখড়া এলাকায় সেসময় পুলিশের সাথে স্থানীয়দের ব্যাপক সংঘর্ষ হয় এবং হানিফ ফ্লাইওভারের টোল প্লাজাসহ শনির আখড়ার অন্তত ২০টি জায়গায় আন্দোলনকারীরা আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন বলে বলছে পুলিশ।
বুধবার রাতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার সারাদেশে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করে।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ বুধবার এক ফেসবুক পোস্টে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাতে তিনি শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধারণ করার পরামর্শ দিয়েছেন।
End of বিবিসি বাংলায় সর্বশেষ খবর

কমপ্লিট শাটডাউন এ কী পরিস্থিতি
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
বুধবার মধ্যরাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক টিম, শাটডাউনে দেশের সকল অফিস আদালত সব বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এদিন সড়কপথ, রেলপথ অবরোধ করা হবে, তবে অ্যাম্বুলেন্স, ইমার্জেন্সি ও গণমাধ্যম পরিবহন এই শাটডাউনের আওতামুক্ত থাকবে।
এদিকে, বিবিসি’র সংবাদদাতারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার দিনের শুরু থেকেই বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন সড়কে যানচলাচল খুবই সীমিত ছিল।
সাধারণ দিনে ঢাকার অফিস আদালত খোলা থাকলে সকাল সাড়ে সাতটা থেকেই সড়কগুলোতে যানজট শুরু হয়। কিন্তু আজ সড়কে তেমন কোনও ব্যস্ততা লক্ষ করা যায়নি। বরং, রাস্তায় যানবাহন ও মানুষ, উভয়ের উপস্থিতিই লক্ষ্যনীয় মাত্রায় কম ছিল।
এর আগে বুধবারই দেশের সকল স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণা এসেছে। তার মাঝে, ঢাকার অনেক বেসরকারি অফিসও ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ পদ্ধতিতে অফিস করছেন বলে জানা গেছে।
তবে শাটডাউনের সময় জরুরি পরিবহন ছাড়া সকল ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখার কথা বলা হলেও, গতকাল রাতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ও মালিক সমিতি জানিয়েছে যে বৃহস্পতিবার গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক রাখার নির্দেশ আছে তাদের প্রতি।
যদিও সকাল নয়টায়ও রাস্তাঘাটে বাসের আধিক্য চোখে পড়েনি। রাজধানীর বিভিন্ন সড়কের মোড়ে মোড়ে কিছু ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল, কিছু সংখ্যক সিএনজি এবং ব্যক্তিগত গাড়ি দেখা দেছে।
বিবিসি সংবাদদাতা শাহনেওয়াজ রকি জানিয়েছেন, বনানী, নতুন বাজার, প্রগতি সরণী, কুড়িল, বনানীতে যান চলাচল স্বাভাবিক দিনের তুলনায় খুবই কম এবং ব্যক্তিগত গাড়িও নেই বললেই চলে।
রাস্তাঘাটে দুই একটা বাস চলতে দেখা গেলেও যাত্রীরা তাতে উঠতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন।
অ্যামেরিকান অ্যাম্বাসি ও রাস্তার গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে বাড়তি পুলিশ দেখা গেছে।
এছাড়া, ঢাকার আজিমপুর, নীলক্ষেত, শ্যামলী, মহাখালী, গুলশান এলাকায়ও একই দৃশ্য দেখা গেছে। বিবিসি সংবাদদাতারা জানিয়েছেন, নীলক্ষেতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারে পুলিশের অবস্থান আছে।

ছবির উৎস, PID
বিবিসি সংবাদদাতা তানহা তাসনিম জানিয়েছেন, মিরপুর থেকে বনানী - এই পুরো পথে তিনি “মাত্র তিনটি লোকাল বাস” দেখেছেন এবং বাসের জন্য অপেক্ষমান যাত্রী সংখ্যাও ছিল কম।
শিক্ষার্থীদের দাবীর সাথে একাত্মতা
চলমান আন্দোলনে এখন পর্যন্ত সারাদেশে ছয়জন নিহত হয়েছেন এবং আহতের সংখ্যা শতাধিক।
আন্দোলনের শুরুতে এটি শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের মাঝে সীমিত থাকলেও ক্রমে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এতে সমর্থন দেয়। এর মধ্যে বিএনপি, জাতীয় পার্টি,এবং হেফাজতে ইসলামসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল রয়েছে।
হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মওলানা মীর ইদ্রিস বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে বিকেল পাঁচটায় কোটা সংস্কারের দাবীতে সমর্থন জানিয়ে সমাবেশ করবে তারা।
এর আগে, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বুধবার সন্ধ্যায় হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করে।
বুধবার যা যা হয়েছে
কোটা সংস্কারের দাবিতে মঙ্গলবার ছয়জন নিহত হয়, তাদের স্মরণে বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গায়েবানা জানাজা ও কফিন মিছিল বের করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
নিহত ছয় জনের উদ্দেশে পৃথকভবে গায়েবানা জানাজার আয়োজন করে বিরোধী দল বিএনপি। দলের নেতাকর্মীরা গতকাল বায়তুল মোকাররমে গায়েবানা জানাজা পড়েন। এসময় ওই এলাকায় নেতাকর্মীদের সাথে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

তবে বুধবার দিনের শুরুতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনির্দষ্টকালের জন্য বন্ধ করার ঘোষণা আসে এবং শিক্ষার্থীদেরকে হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
অনেকে সেই সিদ্ধান্ত মেনে বাড়ি চলে গেলেও কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তকে মেনে নেয়নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনভর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে শিক্ষার্থী, পুলিশ এবং ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের কর্মীদের মধ্যে নানামুখী উত্তেজনা চলে।
এক পর্যায়ে পুলিশ টিয়ার শেল ছোড়ে।
এদিকে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সিন্ডিকেট সভায় হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার পর রেজিস্ট্রার ভবনে হামলার ঘটনা ঘটে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভের এক পর্যায়ের হল প্রভোস্ট ও হাউজ টিউটরদেরকে তালাবন্দী করে রাখে এবং কর্তৃপক্ষ পরে হল বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেয়।
তবে পরিস্থিতির অবনতি হওয়া শুরু করে বুধবার বিকেল থেকে, ওইদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্দোলনকারীদেরকে সরাতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছোঁড়ে।
ওইদিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় কোটা আন্দোলন প্রসঙ্গে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান এবং বলেন যে শিক্ষার্থীরা আদালত থেকে ন্যায়বিচার পাবেন। নিহতের হত্যার বিচারের কথাও বলেন তিনি।
এর বাইরে, গতকাল দিনভর যেসব সংঘর্ষ হয়েছে, তাতে শিক্ষার্থী, সাংবাদিকসহ অনেকে আহত হয়েছেন। তাদের অনেকে এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা নিয়েছেন।








