আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
গাজা শান্তি আলোচনা শুরু হচ্ছে, মধ্যস্থতাকারীদের 'দ্রুত অগ্রসর' হওয়ার আহবান ট্রাম্পের
- Author, রুশদি আবুআলৌফ,গাজা সংবাদদাতা এবং ম্যালোরি মোয়েঞ্চ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা যুদ্ধ অবসানের প্রচেষ্টায় যারা জড়িত তাদের 'দ্রুত অগ্রসর' হওয়ার আহবান জানিয়েছেন।
হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যকার পরোক্ষ শান্তি আলোচনার মধ্যস্থতাকারীদের আজ সোমবারই মিশরে বৈঠকে বসার কথা।
যুক্তরাষ্ট্রের ২০-দফার শান্তি পরিকল্পনার মধ্যে জিম্মিদের মুক্তি ও গাজার শাসন ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটদের হাতে ছেড়ে দেয়ার মতো কিছু অংশ হামাস গ্রহণ করার পর এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
তবে হামাসের প্রতিক্রিয়ায় তাদের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা শাসনে ভবিষ্যতে তাদের কোনো ভূমিকা না থাকার দাবির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনাকে খুবই সফল উল্লেখ করে ট্রাম্প লিখেছেন: "আমাকে বলা হয়েছে প্রথম ধাপ চলতি সপ্তাহেই শেষ হওয়া দরকার এবং আমি সবাইকে বলেছি দ্রুত এগিয়ে যেতে"।
তিনি বলেছেন 'সময়টাই মূল বিষয় নাহলে ব্যাপক রক্তপাত হবে'।
এর আগে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প বলেছেন যে, তিনি মনে করেন জিম্মি মুক্তি খুবই শিগগিরই শুরু হবে।
শান্তি পরিকল্পনা কতটা নমনীয় এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেছেন "আমাদের নমনীয়তার প্রয়োজন নেই, কারণ সবাই যথেষ্ট একমত হয়েছে। তবে সবসময় কিছু পরিবর্তন আসবেই"।
"এটা ইসরায়েলের জন্য চমৎকার চুক্তি, পুরো আরব বিশ্ব, মুসলিম বিশ্ব এবং বিশ্বের জন্য দারুণ চুক্তি, সে কারণে আমরা এটা নিয়ে খুবই খুশী," বলেছেন তিনি।
ওদিকে গাজায় ইসরায়েলের বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। যদিও ট্রাম্প শুক্রবার হামাসের প্রতিক্রিয়া পাওয়ার পর তিনি অবিলম্বে বোমা বর্ষণ বন্ধ করতে বলেছিলেন।
End of বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:
ইসরায়েল সরকারের মুখপাত্র শশ বেদরোসিয়ান রবিবার বলেছেন, যদিও গাজা উপত্যকার ভেতরে প্রকৃতপক্ষে বোমা বর্ষণ বন্ধ হয়েছে, আসলে এই মূহুর্তে কোনো যুদ্ধবিরতি কার্যকর নেই।
তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু গাজা যুদ্ধক্ষেত্রে শুধু আত্মরক্ষার প্রয়োজনে গুলির নির্দেশ দিয়েছেন।
গাজা থেকে সাংবাদিকরা অবশ্য জানাচ্ছেন যে, ইসরায়েল বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং ট্যাংক থেকেও গোলাবর্ষণ হচ্ছে। রোববার গাজার কয়েকটি আবাসিক ভবন ধ্বংস করা হয়েছে।
বিবিসির একজন সংবাদদাতা গাজায় বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন এবং রোববার সকালে ইসরায়েল সীমান্তের কাছে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখতে পেয়েছেন।
হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নতুন করে ৬৫ জন নিহত হবার তথ্য দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সিবিএস নিউজকে বলেছেন, জিম্মি মুক্তির প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য বোমাবর্ষণ বন্ধ হওয়া দরকার।
২০-দফা শান্তি আলোচনায় অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ ও ফিলিস্তিনি বন্দীদের বিনিময়ে জিম্মি মুক্তির কথা বলা হয়েছে। ৪৮ জন জিম্মির মধ্যে কুড়ি জন বেঁচে আছে বলে মনে করা হচ্ছে।
নেতানিয়াহু আশা প্রকাশ করেছেন যে, তিনি কয়েকদিনের মধ্যে জিম্মি মুক্তির ঘোষণা দিতে পারবেন।
তিনি আলোচনায় অংশ নিতে ইসরায়েলি প্রতিনিধি দলকে নির্দেশ দিয়েছেন।
হামাসের একটি প্রতিনিধি দলেরও রোববার কায়রো যাওয়ার কথা। এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধান মধ্যস্থতাকারী খলিল আল-হায়া। গত মাসে তিনি ইসরায়েলি হত্যাচেষ্টার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিলেন।
আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, ট্রাম্পের জামাত জ্যারেড কুশনার ও কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মেদ বিন আব্দুলরহমান আল থানিও যোগ দিবেন।
যুদ্ধ শুরুর পর এই আলোচনাকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে, যাতে করে সংঘাত অবসানের একটি পথ বের করে সেখানে পৌঁছানো সম্ভব হয়।
অনেক ফিলিস্তিনির কাছে হামাসের প্রতিক্রিয়া ছিলো অপ্রত্যাশিত। কয়েকদিন এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিলো যে হামাস শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করবে বা কমপক্ষে শক্ত কিছু শর্ত দিবে।
কিন্তু হামাস তা করেনি, যাকে অনেকেই বাইরের চাপের লক্ষণ হিসেবে মনে করছেন।
একজন সিনিয়র ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেছেন, কাতার, মিশর ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীরা হামাসকে নমনীয় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
গাজার অনেকে উল্লেখ করেছেন কৌশলগত নমনীয়তা অনেক সময় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তবে প্রতিদিনের বিলম্বের অর্থই হলো- আরও মৃত্যু, ধ্বংস ও হাজার হাজার গাজাবাসীর বাস্তুচ্যুতি।
সিএনএন-এর এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, হামাস গাজার ক্ষমতায় থাকতে চাইলে তাদের সম্পূর্ণ বিলুপ্তির মুখে পড়তে হবে।
যুদ্ধের শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের গাজায় যেতে দিচ্ছে না ইসরায়েল। ফলে উভয় পক্ষের দাবির সত্যতা যাচাই করা কঠিন।
তবে এই যুদ্ধে গাজার বেশিরভাগ মানুষ বারবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং ৯০ভাগেরও বেশি মানুষের বাড়িঘরের ক্ষতি বা ধ্বংস হয়েছে।
ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর হামাসের হামলায় ১২শ নিহত ও ২৫১ জনকে জিম্মি করে নেয়ার পর ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করেছিলো।