'ঘুষ দাবির' অভিযোগ ওঠা প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে?

পড়ার সময়: ৭ মিনিট

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাবন্দি এক আওয়ামী লীগ নেতাকে জামিনে মুক্তি পাইয়ে দেওয়ার জন্য পরিবারের কাছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একজন প্রসিকিউটরের এক কোটি টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগে যে অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়েছে, সেটির বিষয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

একইসাথে এই ধরনের অভিযোগ ওঠায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার শতভাগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আমিনুল ইসলাম।

এদিকে, যার বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে সেই ব্যক্তি মো. সাইমুম রেজা তালুকদার এখন আর প্রসিকিউশন টিমে নেই, তিনদিন আগে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

সোমবার সরকার তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে প্রজ্ঞাপনও জারি করেছে।

মি. তালুকদার তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বিবিসি বাংলাকে বলেন, "সরকার আইনি প্রক্রিয়ায় গেলে সেটি ফেইস করবো।"

চট্টগ্রাম -৬ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করা এই মামলাটির তদন্ত শেষ, প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়ার জন্য অপেক্ষমান তালিকায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।

অর্থাৎ এই মামলাটি এখনো অভিযোগ গঠন পর্যায়েই যায়নি। এরই মধ্যে ঘুষ চাওয়ার মতো দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

যে প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে এই ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তিনি আইনজীবী সনদপ্রাপ্ত হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা থেকে ট্রাইব্যুনালে এসেছিলেন।

এর আগে, ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর পদ থেকে তাজুল ইসলামকে সরিয়ে দেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন প্রসিকিউটর বিএম সুলতান মাহমুদ তার বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলেছিলেন।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের কেউ কেউ তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়ায় ব্যত্যয় ঘটানোর অভিযোগও তুলেছেন।

এর আগে, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারের সময় তৎকালীন প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে গোপনে আসামির সাথে দেখা করার অভিযোগ উঠেছিল।

সেসময় তাকে প্রসিকিউটর পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১০ সালে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করার জন্য এই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পরে এই ট্রাইব্যুনালেই চব্বিশের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার বিচার শুরু হয়। এখন পর্যন্ত তিনটি মামলায় রায় ঘোষণা করা হয়েছে।

ঘুষ চাওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পদত্যাগ করা একজন প্রসিকিউটরে হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথনের সময় একজন আসামির স্বজনের কাছে এক কোটি টাকা ঘুষ চেয়ে দরকষাকষি করার একটি অডিও রেকর্ড সংবলিত সংবাদ প্রকাশিত হয় বাংলাদেশের কয়েকটি গণমাধ্যমে।

তবে, বিবিসি বাংলা সেই অডিও রেকর্ড যাচাই করতে পারেনি।

বাংলাদেশের দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকাসহ কয়েকটি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপ কলগুলোর একটি অডিও রেকর্ডে শোনা যায়, ওই আসামির পরিবারের এক সদস্যকে আগের একটি আলাপের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার বলছেন, তিনি যদি শেষ পর্যন্ত ফজলে করিম চৌধুরীকে বের করতে পারেন তখন একটি "বেশ ভালো অ্যামাউন্টের" বিষয় থাকবে।

পুরুষ কণ্ঠে বলতে শোনা যায়, "আমি ওয়ান ক্রোরের (এক কোটি টাকা) কথা বলেছিলাম।"

ওই টাকা থেকে এডভান্স টাকা দেওয়ার কথাও বলেন ওই ব্যক্তি।

তিনি বলেন, "যদি ১০ লাখের মতো অগ্রিম দেওয়া যায়, তাহলে খুব ভালো হয়...নগদে।"

সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিমকে ২০২৪ সালের ১২ই সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় গ্রেফতার করে পুলিশ।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় চট্টগ্রামে ওয়াসিম আকরামসহ তিনজন নিহত হন।

এই ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফজলে করিম চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখানো হয়। ওই মামলার দু্ইদিন পরে আরো দুইটি হত্যা মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

এই হত্যা মামলাতেই কারাগারে রয়েছেন সাবেক ওই সংসদ সদস্য।

গতবছরের ১৬ই ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় তাকে।

প্রসিকিউটর ও আসামির স্বজনের অডিও কলরেকর্ডের কথোপকথনে, এক কোটি টাকা কিস্তিতে দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।

দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে আসামির পরিবারের বরাত দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, সাইমুম রেজা তালুকদার মোট ২৬ বার তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।

এর মধ্যে মধ্যস্ততাকারীর মাধ্যমে এবং নিজে অন্তত ১৪ বার ঘুষ চেয়েছেন।

আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে করা মামলাটির তদন্ত এরই মধ্যে শেষ হয়েছে, তবে এখনও ট্রাইব্যুনালে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি।

ট্রাইব্যুনাল আইনানুযায়ী, তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর সেটি গৃহীত হলে অভিযোগ গঠন করার ধাপ আসে।

আর মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় অভিযোগ গঠন করার মধ্য দিয়েই মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।

তবে প্রসিকিউটর হিসাবে যে ব্যক্তির কথা শোনা গেছে, তিনি সাইমুম রেজা তালুকদার কিনা, সেটি বিবিসি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

'বিচার প্রশ্নবিদ্ধ, প্রসিকিউটরদর ইমেজ সংকট হয়'

মঙ্গলবার বেলা বারোটায় ট্রাইব্যুনালে এক সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তিনি এখন আর প্রসিকিউশন টিমে নেই।

ওই ব্যক্তির কাছে থাকা মামলাগুলোর ফাইল ও সকল নথি এরই মধ্যে বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর হেফাজতে নিয়েছেন বলে জানান।

মি. তালুকদার তার আগের শিক্ষকতা পেশায় ফিরে যেতে পদত্যাগ করেছেন বলে চিফ প্রসিকিউটরকে জানিয়েছেন।

এ ধরনের অভিযোগের ফলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার বিচার কাজ প্রশ্নবিদ্ধ হয় কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, "শতভাগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়। আমি আপনার সাথে একমত। এইরকম যদি কোন বিষয় হয় তাহলেতো অবশ্যই আমাদের ট্রাইব্যুনাল নিয়ে প্রশ্ন উঠে, আমাদের ইমেজ সংকট হয়। এটাতো সঙ্গত কারণেই যে এইরকম প্রশ্ন উঠবে কেন?"

এমন অভিযোগের তদন্ত করা হবে কিনা জানতে চাইলে মি. ইসলাম প্রথমে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।

কিন্তু সাংবাদিকরা অডিও কলরেকর্ডের কথা উল্লেখ করলে পরে তিনি জানান, চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় থেকে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করা হবে।

"যেই অডিওটা আসছে যদি ফরমাল এলিগেশন আমার কাছে নাও আসে আমার চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় থেকে একটা অভ্যন্তরীণ তদন্ত আমরা করবো" বলেন মি. ইসলাম।

একইসাথে পাঁচই অগাস্টের পরের সকল বিষয়ে তদন্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।

নতুন এই চিফ প্রসিকিউটর বলেন, "শুধু তাই না, এই পার্টিকুলার বিষয়ে তো তদন্ত করবোই, পাঁচই অগাস্টের পরে এই ট্রাইব্যুনাল গঠন হওয়ার পরের সমস্ত বিষয় আমি আমার অভ্যন্তরীণ একটা কমিটি করে তদন্ত করে দেখবো, কোন অনিয়ম পেলে সেটি আমার কর্তৃপক্ষের কাছে আমি একটা রিপোর্ট দেব।"

এ বছরের ১২ই ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় তাজুল ইসলামকে। নিয়োগ পান আমিনুল ইসলাম।

চিফ প্রসিকিউটর মি. ইসলাম জানান, তার যোগদানের আগের ঘটনাসহ সবগুলোর বিষয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করে সুপারিশ করবেন।

"আর যদি কোন ফরমাল এলিগেশন আমার কাছে আসে, স্পেসিফিক এলিগেশন থাকে সেটার ওপরে আমি আমাদের প্রচলিত আইনে যেভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয় সেভাবে ব্যবস্থা নেব" বলেন মি. ইসলাম।

"সরকার যদি আইনি প্রক্রিয়ায় যায় ফেইস করতেই হবে"

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পরে ওই বছরের সাতই অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকার মো. সাইমুম রেজা তালুকদারকে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদমর্যাদায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমে নিয়োগ দেন।

এর আগে তিনি বেসরকারি ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতেন।

মি. তালুকদার দাবি করেন, "আমি অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করছি। সরকার যদি লিগ্যাল ওয়েতে যায় সেটি ফেস করব আমি।"

ঘুষ চাওয়ার যে অডিও রেকর্ডটি ফাঁস হয়েছে সেটি তার নয় দাবি করে বলেন, "এজন্যই তো আমি ফেস করব(আইনি প্রক্রিয়া)। আমি তো অপরাধ করি নাই, আমি কেন পালাবো।"

যদি ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ মিথ্যা হয় তাহলে কেন পদত্যাগ করেছেন এমন প্রশ্নে মি. তালুকদার জানান, তিনি কয়েকদিন আগেই পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন, সেটি কাল গৃহীত হয়েছে।

মি. তালুকদার দাবি করেন, প্রসিকিউশনের একক কোন ব্যক্তির পক্ষে এভাবে টাকা নিয়ে কাউকে জামিনে মুক্ত করিয়ে দেওয়া সম্ভব না।

"এটা একটা টিমওয়ার্ক। মনে করেন যে, কেউ টাকা নিলো বা চাইলো বা নিলেও তার পক্ষে তখন সিঙ্গেল হ্যান্ডেডলি একটা ডিসিশন মেনিপুলেট করা বা কনসেন্ট তৈরি করা এগুলা সম্ভব না। সিস্টেমটাই এরকম না" বলেন মি. তালুকদার।

ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনে 'টিম ডিসিশন' হয় এবং পরে সিদ্ধান্ত দেন বিচারকরা তাই এককভাবে কারো পক্ষে এ ধরনের দুর্নীতি করা সম্ভব নয় বলে দাবি করেন তিনি।

সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম ঘুষের অভিযোগ জানতেন

চব্বিশের গণঅভ্যত্থানের পরে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পান জামায়াতে ইসলামীপন্থী আইনজীবী তাজুল ইসলাম।

মি. ইসলামের নিয়োগ নিয়ে সেসময় বেশ সমালোচনা হয়েছিল কারণ তিনি একই ট্রাইব্যুনালে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় জামায়াত নেতাদের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন।

ঘুষ দাবির এই অভিযোগের বিষয়ে তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের কাছে আসামির পরিবার অভিযোগ করেছিলেন বলে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।

পরে তিনি প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদারকে ওই মামলা থেকে সরিয়ে দেন। তবে কোন তদন্ত হয়নি।

গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, তাজুল ইসলাম জানার পর প্রসিকিউটর মি. তালুকদার ওই আসামির পরিবারকে ফোনের নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক করেন।

এ বিষয়ে কথা বলতে ফোন করলেও রিসিভ করেননি সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মি. ইসলাম।

এদিকে, বেলা বারোটায় ট্রাইব্যুনালে এক সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, আগের চিফ প্রসিকিউটর বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তবে কেন ব্যবস্থা নেননি সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর মি. ইসলাম বলেন, "যে নিউজটা আমরা পেয়েছি এটা তো একটা সিরিয়াস অভিযোগ। এই অভিযোগ আমাদের কোন প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ওঠার কথা ছিল না। যখন উঠেছে তাৎক্ষণিকভাবে এটার ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। আমরা এটার প্রশ্রয় কেন দিয়েছি আমি জানি না।"

তিনি আরো উল্লেখ করেন, হয়ত তার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছিল না।

"হ্যাঁ, হতে পারে যে, ফরমাল কোন এলিগেশন তার কাছে আসে নাই। এটা জানেন আপনারা যে, মিডিয়াতে নানান অভিযোগ থাকলেও যতক্ষণ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোন অভিযোগ আমাদের কাছে না আসবে আমাদের পক্ষেওতো এটাকে প্রসিড করার একটু আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকে" বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

তবে, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরে, চিফ প্রসিকিউটর পরিবর্তন হলেও অভিযুক্ত পদত্যাগ করা প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার আসামির পরিবারের সাথে দর-কষাকষি চালিয়ে গেছেন।

ঘুষ দাবির এই বিষয়টি আসামির পরিবার আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানকেও অবহিত করেছিলেন বলে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।

তবে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি, বলেন, "নো কমেন্টস।"

এদিকে, সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও আইনজ্ঞ শাহদীন মালিক মনে করেন, ঘুষের যে অভিযোগ উঠেছে সেটির জন্য কেবল অভ্যন্তরীণ তদন্ত যথেষ্ট নয়, কারণ ঘুষ দাবি করা একটি ফৌজদারি অপরাধ।

"এটা পুলিশকে দিয়ে তদন্ত করা উচিত। চিফ প্রসিকিউটর বলেছেন, অভ্যন্তরীণ তদন্ত হবে কিন্তু সেটা হয় প্রশাসনিক গাফিলতির জন্য। ঘুষ লেনদেন ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ। অতএব ফৌজদারি অভিযোগের তদন্ত করতে হবে সিআইডি বা দুদকের মাধ্যমে" বলেন মি. মালিক।

মি. মালিক মনে করেন, এটি যেহেতু দুর্নীতি, তাই এই অপরাধের তদন্ত যথাযথ কর্তৃপক্ষকে দিয়েই করাতে হবে, নতুবা বিচার নিয়ে ওঠা প্রশ্ন থেকেই যাবে।

"নাহলে এই আদালতের বিচার কার্যক্রমের স্বচ্ছতা সম্পর্কে একটা সন্দেহ তো থেকেই যাবে জনমানুষের মনে", উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন এই আইনজ্ঞ।