পাকিস্তানের বিতর্কিত সামরিক শাসক জেনারেল পারভেজ মুশাররফ মারা গেছেন

জেনারেল পারভেজ মুশাররফ

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, জেনারেল পারভেজ মুশাররফ

দীর্ঘ অসুস্থতার পর মারা গেছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং বিতর্কিত সামরিক শাসক জেনারেল পারভেজ মুশাররফ। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর আইএসপিআর বিবিসি সংবাদদাতা সুমায়লা জাফরিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের আইএসপিআর বলেছে, জেনারেল মুশাররফের মৃত্যুতে তারা শোকাহত।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ৭৯ বছর বয়সী জেনারেল মুশাররফ দীর্ঘ রোগভোগের পর দুবাইয়ের অ্যামেরিকান ন্যাশনাল হাসপাতালে মারা গেছেন।

তার অসুস্থতার ব্যাপারে ২০২২ সালে জানানো হয়েছিলো জেনারেল মুশাররফ অ্যামিলোডয়সিস নামে এক জটিল রোগে ভুগছেন।

এ রোগে মানব শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধীরে ধীরে বিকল হয়ে যেতে থাকে।

গত বছর অর্থাৎ ২০২২ সালে তার পরিবার এক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিল, জেনারেল মুশাররফের শরীরের অবস্থা এতটাই খারাপ যে 'তার সেরে ওঠার প্রায় কোন সম্ভাবনাই নেই'।

জেনারেল মুশাররফের জন্ম ১৯৪৩ সালের ১১ই আগস্ট, ব্রিটিশ ভারতের দিল্লিতে।

সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ১৯৯৯ সালে ক্ষমতা দখল করেন জেনারেল মুশাররফ।

এরপর প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন।

আরো পড়তে পারেন

উনিশশো সাতচল্লিশ সালে পরিবারের সাথে পাকিস্তানে চলে যায় জেনারেল মুশাররফের পরিবার।

তার বাবা সৈয়দ মুশাররফ একজন কূটনীতিক ছিলেন।

উনিশশো চৌষট্টি সালে সামরিক বাহিনীতে যোগ দেয়ার আগে ১৯৪৯ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত জেনারেল মুশাররফ তুরস্কে ছিলেন।

সামরিক বাহিনীতে যোগ দেয়ার পর তিনি কোয়েটার আর্মি কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ এবং লন্ডনের রয়্যাল কলেজ অব ডিফেন্স স্টাডিজে পড়াশোনা করেছেন।

জেনারেল মুশাররফ ২০০৭ সালে সংবিধান স্থগিত করে জরুরি অবস্থা জারী করেন, যার মাধ্যমে তিনি নিজের শাসনামল প্রলম্বিত করতে চেয়েছিলেন।

এই ঘটনায় পাকিস্তানে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়, এবং ইমপিচমেন্ট এড়াতে ২০০৮ সালে তিনি পদত্যাগ করেন।

এজন্য পরে জেনারেল মুশাররফকে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়েছিল।

তিনি পাকিস্তানের প্রথম সামরিক শাসক যাকে সংবিধান স্থগিত করার জন্য বিচারের মুখোমুখি হতে হয়েছিল।

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল পাকিস্তানের আদালত, যদিও পরে সেটি বাতিল হয়ে যায়।

সর্বশেষ তিনি দুবাইতে অবস্থান করছিলেন।

Skip YouTube post
Google YouTube কনটেন্টের জন্য কি অনুমতি দেবেন?

এই নিবন্ধে Google YouTubeএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত Google YouTube কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।

সতর্কবাণী: বিবিসির নয় এমন ওয়েবসাইটের কনটেন্টের জন্য বিবিসি দায়ী না YouTube কনটেন্টে বিজ্ঞাপন থাকতে পারে

End of YouTube post

পারভেজ মুশাররফ

জেনারেল পারভেজ মুশাররফের ক্যারিয়ার

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

জেনারেল পারভেজ মুশাররফ ১৯৬৪ সালে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।

তিনি ১৯৬৫ এবং ১৯৭১ সালে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন।

যুদ্ধে অংশ নেয়ার জন্য তিনি সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চে পদকে ভূষিত হন।

১৯৯৮ সালে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান নিযুক্ত হন।

১৯৯৯ সালের মে মাসের কারগিল যুদ্ধে সেনাবাহিনীর জড়িত থাকা নিয়ে তখনকার প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের সাথে সম্পর্কে ফাটল ধরে জেনারেল মুশাররফের।

এর ধারাবাহিকতায় ওই বছরই এক অভ্যুত্থান করে ক্ষমতায় আরোহণ করেন জেনারেল মুশাররফ।

২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিনি।

এই সময়ের মধ্যে বহুবার আততায়ীর হামলা থেকে রক্ষা পেয়েছেন জেনারেল মুশাররফ, এবং তাকে উৎখাতের বহু প্লটও ব্যর্থ হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের 'সন্ত্রাস-বিরোধী যুদ্ধে' সমর্থন ও ভূমিকা পালনের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত ছিলেন তিনি।

যদিও একারণে স্বদেশে ব্যাপক বিরোধিতার শিকার হতে হয় তাকে।

রাষ্ট্রপতির পদ ত্যাগ করার পর ২০০৮ সালে দেশ ছাড়েন তিনি, কিন্তু ২০১৩ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য পাকিস্তানে ফেরেন।

যদিও আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে ব্যর্থ হন।

রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার শুনানিতে মাত্র দুবার হাজিরা দিয়েছিলেন তিনি।

এর আগে তার সময় কেটেছে হয় সেনাবাহিনীর একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নয়তো ইসলামাবাদের একটি খামারে।

পরবর্তীতে ২০১৪ সালের এপ্রিলে তিনি করাচীতে চলে যান।

সেখানে দুবছর থাকার পর তিনি আবার দেশত্যাগ করেন।

২০১৬ সালে তাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাবার অনুমতি দেয়া হয়েছিলো।