পারভেজ মুশাররফকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় মৃত্যুদণ্ড দিল পাকিস্তানের আদালত

ছবির উৎস, AFP
পাকিস্তানের সাবেক সামরিক শাসক জেনারেল পারভেজ মুশাররফের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছে ইসলামাবাদের একটি বিশেষ আদালত।
রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় তার বিরুদ্ধে এ রায় দেয় তিন জন বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত আদালত।
তার বিরুদ্ধে দায়ের করা এ মামলাটি ২০১৩ সাল থেকে ঝুলে ছিলো।
মিস্টার মুশাররফ সামরিক অভ্যুত্থানে ১৯৯৯ সালে ক্ষমতা দখল করেন পরে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন।
২০১৬ সালে তাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাবার অনুমতি দেয়া হয়েছিলো।
বর্তমানে তিনি দুবাইতে অবস্থান করছেন।
বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

ছবির উৎস, Reuters
জেনারেল মুশাররফ ২০০৭ সালে সংবিধান স্থগিত করে জরুরি অবস্থা জারী করেন, উদ্দেশ্য তার শাসনামল প্রলম্বিত করা। আর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এই নিয়েই।
এ মাসের গোড়ার দিকে হাসপাতালের বিছানায় শোয়া অবস্থায় একটি ভিডিও বিবৃতি প্রকাশ করেন জেনারেল মুশাররফ, যেখানে তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ 'ভিত্তিহীন'।
তিনি পাকিস্তানের প্রথম সামরিক শাসক যাকে সংবিধান স্থগিত করবার জন্য বিচারের মুখোমুখি হতে হলো।
মামলার বিস্তারিত:
২০০৭ সালের নভেম্বর মাসে জেনারেল মুশাররফ সংবিধান স্থগিত করে জরুরি আইন জারি করেন।
এই ঘটনায় পাকিস্তানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
ইমপিচমেন্ট এড়াতে ২০০৮ সালে পদত্যাগ করেন জেনারেল মুশাররফ।

২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন নওয়াজ শরীফ, যাকে ১৯৯৯ সালে একটি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করেছিলেন জেনারেল মুশাররফ।
পুনরায় ক্ষমতায় এসে ২০১৪ সালের মার্চ মাসে জেনারেল মুশাররফের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা চালু করেন মি. শরিফ।
জেনারেল মুশাররফ যুক্তি দেন, মামলাটি ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং ২০০৭ সালে তিনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তা সরকার এবং মন্ত্রীসভা অনুমোদন করেছিল।
কিন্তু তার এই যুক্তি নাকচ করে দেয় আদালত।
পাকিস্তানের আইন অনুযায়ী, উচ্চমাত্রার রাষ্ট্রদ্রোহে (হাই ট্রিজন) অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া যায়।
২০১৬ সাল থেকে দুবাইয়ে বাস করছেন জেনারেল মুশাররফ এবং বারবার তলব করা স্বত্বেও তিনি আদালতে হাজির হননি।
জেনারেল মুশাররফের ক্যারিয়ার:
১৯৯৮ সালে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান নিযুক্ত হন।
১৯৯৯ সালের মে মাসের কারগিল যুদ্ধে সেনাবাহিনীর জড়িত থাকা নিয়ে তখনকার প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের সাথে সম্পর্কে ফাটল ধরে জেনারেল মুশাররফের। এর ধারাবাহিকতায় ওই বছরই এক অভ্যুত্থান করে ক্ষমতায় আরোহণ করেন জেনারেল মুশাররফ।
২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিনি এবং এই সময়ের মধ্যে বহুবার আততায়ীর হামলা থেকে রক্ষা পেয়েছেন জেনারেল মুশাররফ।

ছবির উৎস, AFP
তাকে উৎখাতের বহু প্লটও ব্যর্থ হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের 'সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে' সমর্থন ও ভূমিকা পালনের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত ছিলেন তিনি। যদিও একারণে স্বদেশে ব্যাপক বিরোধিতার শিকার হতে হয় তাকে।
রাষ্ট্রপতির পদ ত্যাগ করার পর ২০০৮ সালে দেশ ছাড়েন তিনি, কিন্তু ২০১৩ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবার জন্য আবারো ফিরে আসেন।
কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে ব্যর্থ হন।
রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার শুনানিতে মাত্র দুবার হাজিরা দিয়েছিলেন তিনি। এর আগে তার সময় কেটেছে হয় সেনাবাহিনীর একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নয়তো ইসলামাবাদের একটি খামারে।
পরবর্তীতে ২০১৪ সালের এপ্রিলে তিনি করাচিতে চলে আসেন।
সেখানে দুবছর থাকার পর তিনি আবার দেশত্যাগ করেন।








