জামায়াত জোটে ভাঙনের প্রভাব ভোলার নির্বাচনী মাঠে

পরিবার নিয়ে নৌকায়ই বসবাস করেন ভোলার বিবি ফাতেমা
ছবির ক্যাপশান, পরিবার নিয়ে নৌকায়ই বসবাস করেন ভোলার বিবি ফাতেমা
    • Author, সজল দাস
    • Role, বিবিসি নিউজ বাংলা

'কেউ যদি আমাগোরে ডাকে তাইলে ভোট দিতে যামু নাইলে আর গিয়া কি করমু,' এভাবেই ভোট নিয়ে নিজের আগ্রহের কথা বলছিলেন ভোলার বিবি ফাতেমা।

ভূমিহীন মৎসজীবী মিজ ফাতেমা ভোলা-৩ সংসদীয় আসনের একজন ভোটার। ছোটবেলা থেকেই মেঘনার বুকে ছোট্ট নৌকায় তার বসবাস।

জীবিকার তাগিদে ভোটের আমেজ অনেকটা গৌণ হয়ে পড়েছে মেঘনার কূল ঘেঁষে বসবাস করা জেলেপল্লীর মানুষের কাছে।

"আমাগো তো ভাগ্যে কিছু নাই, আমাগো জন্যে কেউ তো কিছু করে না," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন ভোলা খাল এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ হাসান।

নির্বাচনের আগে প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির হিসেবে বিস্তর ফারাক নদী ভাঙন কবলিত এলাকার এই মানুষগুলোর কাছে। যদিও প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনে দীর্ঘদিন ভোট দিতে না পারার আক্ষেপও রয়েছে অনেকের।

দ্বীপ জেলা ভোলার শহর-বাজারে ভোটের সমীকরণ নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও প্রত্যন্ত এলাকায় ভোটের আমেজ এখনও খুব একটা নেই।

অবশ্য কয়েকদিন আগে পর্যন্তও পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন ছিল। ভোলার নির্বাচনী রাজনীতির সমীকরণ হঠাৎ বদলে যাওয়ায় ভোট নিয়ে আলোচনা আর কৌতূহল অনেকটাই কমেছে।

মূলত আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি- দ্বীপ জেলা ভোলার নির্বাচনী ইতিহাসে এই দুই দলই ঘুরেফিরে এসেছে ক্ষমতায়।

তবে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অবর্তমানে নতুন শক্তি হিসেবে সামনে আসার আলোচনায় ছিল জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলনসহ ১১ দলের সমন্বয়ে গঠিত জোট।

ভোলার একাধিক আসনে এই জোটের প্রার্থীরা বিএনপিকে শক্ত চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে বলেও মনে করেছিলেন অনেকে।

কিন্তু শেষমেষ জামায়াত জোট থেকে ইসলামী আন্দোলন সরে যাওয়ায় পরিস্থিতি বদলে গেছে।

জেলার সাধারণ ভোটার এবং নাগরিক সমাজের অনেকেই বলছেন, জামায়াত এবং ইসলামী আন্দোলন এক হলে ভোলার অন্তত তিনটি আসনে বিএনপির সঙ্গে লড়াইয়ের সম্ভাবনা ছিল।

কিন্তু এখন "বিএনপির জন্য ভোটের পরিবেশটা অনেকটা একপেশে হয়ে গেছে বলেই মনে হচ্ছে। আর শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীতার সম্ভাবনা না থাকলে ভোট নিয়ে উদ্দীপনাও কমই থাকে," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন ভোলার নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম অনু।

যদিও নির্বাচনী ঐক্য না থাকলেও নিজেদের প্রার্থী দিয়েই প্রতিদ্বন্দ্বীদের চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুতির কথা বলছে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন।

নির্বাচনে জয়ী হতে মাঠে থাকার কথা বলছেন অন্যান্য দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও।

ভোলা শহরে উন্নয়ন কাজ হলেও গ্রামীন জনপদ এখনও পিছিয়ে
ছবির ক্যাপশান, ভোলা শহরে উন্নয়ন কাজ হলেও জেলার গ্রামীণ জনপদ এখনও পিছিয়ে

সমীকরণ বদলে গেল যেভাবে

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

প্রতীক বরাদ্দের পর কর্মী সমর্থকদের নিয়ে প্রচারণায় নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভোলার চারটি সংসদীয় আসনের প্রার্থীরা।

ভোটের হিসেবে কোন দলের প্রার্থী এগিয়ে এ নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে জেলার সাধারণ ভোটারদের মধ্যে। যেখানে ঘুরেফিরেই আসছে বিএনপি এবং জামায়াতের জোট প্রসঙ্গ।

১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত নির্বাচনে এই জেলার চারটি সংসদীয় আসনে ঘুরে ফিরে দখল ছিল আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপির।

আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা তোফায়েল আহমেদের বাইরে ভোলার রাজনীতিতে অন্যতম নাম বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক মন্ত্রী নাজিউর রহমান মঞ্জু।

অতীতের সংসদ নির্বাচনে কোনো আসনে বিএনপি কিংবা কোনো আসেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচিত হলেও, ভোলায় কখনই জয় পায়নি জামায়াতে ইসলামী কিংবা ইসলামী আন্দোলন।

ভোলা সদর থেকে ১৯৮৬ সালে নির্বাচিত হন সাবেক মন্ত্রী নাজিউর রহমান মঞ্জু। ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগ থেকে তোফায়েল আহমেদ এমপি হলেও ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে আসনটি দখলে ছিল বিএনপির।

২০০৮ সালে বিএনপি ছাড় দেওয়ায় এই দলের সমর্থন ও প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ।

এবারও মি. পার্থকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে গেছেন এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী গোলাম নবী আলমগীর।

যা বিজেপির জয়ের পথকে সহজ করেছে বলেই মনে করেন ভোলা জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক মোতাসিম বিল্লাহ।

ভোলা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রাইসুল আলম বলছেন, দলের প্রার্থী না থাকা নেতাকর্মীদের জন্য কষ্টের।

তবে "কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মেনে দল সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে প্রস্তুত আমরা," বলেন তিনি।

এছাড়া বাকি তিনটি আসনে বিএনপি প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়ী হবেন বলেও আশা মি. আলমের।

ভোলা সদর আসনে মি. পার্থের বিপরীতে লড়বেন জেলা জামায়াতের আমীর নজরুল ইসলাম এবং ইসলামী আন্দোলনের ওবায়দুর রহমান।

শুরুতে এই আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা ছিল বলে জানান ভোটারদের অনেকে।

আসনটি শুরুতে ইসলামী আন্দোলনকে ছেড়ে দিতে চেয়েছিল জামায়াত। কিন্তু জোটের ভাঙনে এখন দল দুটির প্রার্থী আলাদা ভাবেই নির্বাচন করবেন।

সব মিলিয়ে, ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে ইসলামী আন্দোলন না থাকা এবং স্থানীয় বিএনপির সমর্থন পাওয়ায় ভোটের সমীকরণ একপেশে হয়ে গেছে বলে মনে করেন জেলা বিএনপি এবং বিজেপি নেতারা।

বোরহানউদ্দিন এবং দৌলতখান এলাকা নিয়ে ভোলা- ২ সংসদীয় আসন।

এই আসনে ১৯৮৬, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের তোফায়েল আহমেদ।

২০০১ সালে আসনটি বিএনপির দখলে এলেও ২০০৮ সালে এই আসনে ফের আওয়ামী লীগের তোফায়েল আহমেদ এমপি হন।

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন তোফায়েল আহমেদের ভাতিজা আলী আজম মুকুল।

এখানে নতুন করে শক্তি সঞ্চারের চেষ্টা করছে বিএনপি। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন সাবেক সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিম।

এখানে বিএনপির একক প্রার্থী থাকলেও জোটের প্রার্থী নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি জামায়াত কিংবা শরিক দলের।

জামায়াতের প্রার্থী জেলা জামায়াতের সাবেক আমির মো. ফজলুল করিম ছাড়াও ভোটের মাঠে আছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ, এলডিপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী।

মেঘনা নদীর পাড়ে জেলেদের ট্রলার।
ছবির ক্যাপশান, মেঘনা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন ভোলার অনেক মানুষ।

ভোলার নদীভাঙন কবলিত লালমোহন-তজুমদ্দীন এলাকায় বিএনপি প্রার্থী দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এই আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন তিনি। এছাড়া এরশাদ আমলেও জয়ী হয়েছিলেন মি. আহমেদ।

২০১০ সালে ফেব্রুয়ারির উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত হয়ে এই আসনের সংসদ সদস্য হন নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন।

ধানের শীষের বিপরীতে এই আসনে জোটের শরিক বাংলাদেশে ডেভেলপমেন্ট পার্টি বা বিডিপি মহাসচিব নিজামুল হককে সমর্থন দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

এছাড়া ইসলামী আন্দোলন এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থীও রয়েছেন এখানে।

এলাকার ভোটারদের অনেকে বলছেন, জামায়াত জোটের ভাঙন মেজর হফিজের জয়ের পথ আরও সহজ করেছে।

চরফ্যাশন এবং মনপুরা নিয়ে ভোলা- ৪ সংসদীয় আসনে জেলার সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ভোটার।

পাঁচ লাখের বেশি ভোটারের এই আসনে ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টি থেকে এমপি হন সাদ জগলুল ফারুক।

১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের এম এম নজরুল ও ১৯৯২ সালের উপনির্বাচনে একই দলের জাফর উল্যাহ চৌধুরী জয়ী হলেও ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে বিএনপি থেকে জয়ী হন নাজিম উদ্দিন আলম।

পরবর্তীতে ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের দখলে চলে যায় আসনটি।

এবারের ভোটে যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেওয়ায় সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি তো নাজিম উদ্দিন আলমের সমর্থকদের অসন্তোষ রয়েছে।

যদিও দুই পক্ষের ঝামেলা এড়াতে নাজিম উদ্দিনকে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য করেছে বিএনপি।

এই আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল। এছাড়া জাতীয় পার্টি, আমজনতার দল এবং এনডিএম এর প্রার্থীরাও লড়বেন।

এই আসনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার কথা জানিয়েছে জামায়াতের প্রার্থী। জেলার নায়েবে আমির বলছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ভোটের মাঠে পুরনো হিসেব বদলে দিতে পারবেন তারা।

ভোলায় গ্যাসভিত্তিক শিল্প এলাকা গড়ে তোলার দাবি জেলার তরুণদের
ছবির ক্যাপশান, ভোলায় গ্যাসভিত্তিক শিল্প এলাকা গড়ে তোলার দাবি জেলার তরুণদের

ভোটারদের কেন্দ্রে আনাই মূল চ্যালেঞ্জ

তেঁতুলিয়া এবং মেঘনা নদী ঘেরা দ্বীপ জেলা ভোলার অনেক এলাকা বেশ দুর্গম।

এলাকার নদী ভাঙন রোধ, ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণসহ দীর্ঘদিনের নানা দাবি পূরণ না হওয়ায় হতাশাও রয়েছে অনেক।

''ভোটের আগে অনেক আশ্বাস দিলেও ভোটের পরই সব ভুলে যায়, ভোট দিয়ে কি হবে," এভাবেই নিজের হতাশার কথা বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন ভোলা- ২ সংসদীয় আসনের ভোটার মোহাম্মদ হিরণ।

ভোট দেওয়ার আগ্রহের কথাও জানিয়েছেন ভোটারদের কেউ কেউ।

"দীর্ঘদিন ভোট দিতে পারি না, আমরা চাই সরকার একটা ভালো ভোট দিক যাতে আমরা ভালো পরিবেশে ভোট দিতে পারি," বিবিসি বাংলাকে বলেন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মহীউদ্দিন।

ইসলামি দলগুলোর 'ওয়ান বক্স পলিসি' বা এক বাক্সে ভোট আনার প্রচেষ্টা ভেস্তে যাওয়ায় ভোলার নির্বাচনে কি ফলাফল হতে চলেছে, সেটি ভোটারদের কাছে স্পষ্ট বলে মনে করেন স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের অনেকে।

প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম অনু বলছেন, প্রত্যন্ত চর এলাকার ভোটাররা এমনিতেই ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে থাকেন।

"ভোলার আসনগুলোতে ইসলামী আন্দোলন এবং জামায়াত মিলে বিএনপির বিরুদ্ধে যে প্রতিদ্বন্দ্বীতার আভাস দিয়েছিল সেটা ভেস্তে যাওয়ায় মানুষেরও ভোট নিয়ে আগ্রহ কমে গেছে," বলেও মনে করেন তিনি।

এছাড়া বিএনপির বাইরে অন্য যে প্রার্থীরা ভোটের মাঠে লড়াই করছেন তাদের বেশিরভাগই এলাকায় খুব একটা পরিচিত নন বলেও জানান তিনি।

"মানুষ তো অনেক প্রার্থীকে চেনেই না ভোট দেবে কিভাবে। অনেক ক্ষেত্রে চিনলেও ভোট দিয়ে কি হবে এমন মানসিকতা ভোটারদের কেন্দ্রে না আসার কারণ হতে পারে," বিবিসি বাংলাকে বলেন মি. অনু।

তবে দীর্ঘদিন ভোট দিতে না পারায় অনেকের মধ্যে ভোট দেওয়ার আগ্রহ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রার্থীদের প্রচারণা এবং ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ সরকার নিশ্চিত করতে পারলে ভোটাররা কেন্দ্রমুখী হবেন বলেও মনে করেন মি. অনু।

নদীপথই ভোলার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার একমাত্র মাধ্যম
ছবির ক্যাপশান, নদীপথই ভোলার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার একমাত্র মাধ্যম

প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির হিসেব

ভোলা জেলার নির্বাচনী প্রেক্ষাপট বেশ বৈচিত্র্যময়। কেবল রাজনৈতিক লড়াই নয়, বরং ভৌগোলিক অবস্থান এবং প্রাকৃতিক সম্পদের কারণেও অত্যন্ত কৌশলগত একটি জেলা এটি।

ভোটের আগে প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির হিসেব মেলাচ্ছেন ভোলার ভোটাররা।

দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের জন্য 'ভোলা-বরিশাল' সেতু নির্মাণ, গ্যাসভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপনসহ উন্নয়ন ও অগ্রগতি এই অঞ্চলের মানুষের প্রধান চাওয়া।

এই দ্বীপ জেলার সাধারণ মানুষ মৎস্য ও কৃষি পেশার সঙ্গে জড়িত। প্রতিটি আসনেই এই পেশার মানুষের হার উল্লেখযোগ্য। যার মধ্যে ভোলা-৩ ও ভোলা-৪ আসনে সবচেয়ে বেশি।

চব্বিশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই জেলার মৎসজীবীদের ওপর চাঁদাবাজির হার বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে থাকা এসব অভিযোগ ভোটের ব্যালটে প্রভাব ফেলবে বলেও মনে করেন অনেকে।

এবারের নির্বাচনে তরুণ এবং নারী ভোটাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেই মনে করা হচ্ছে। ভোলাও এর ব্যতিক্রম নয়।

ভোলার উন্নয়নে পাঁচ দফা দাবিতে কদিন আগেই জেলার চরফ্যাশন থেকে পাঁয়ে হেটে ও নদী সাতরে ঢাকায় গিয়েছিল তরুণ শিক্ষার্থীদের একটি দল। ভোলা সরকারি কলেজ মাঠে তাদের সঙ্গে কথা হয় বিবিসি বাংলার।

রাইম ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থী বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, ভোলার মানুষের সংকট মেটাতে পারবে এমন প্রার্থীকেই ভোট দিবেন তারা।

"আমরা সব সময় প্রতারিত হয়েছি। আগের অনেক সরকার আমাদেরকে উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছে কিন্তু কেউই কথা রাখেনি," বলেন তিনি।

আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থীদের ইশতেহার দেখে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন ভোলার তরুণ ভোটাররা। বলছেন, প্রার্থীরা ভোলার উন্নয়নে কি করবেন, কিভাবে করবেন এর একটা পরিকল্পনাও দেখতে চান এই তরুণে তারা।

নারীরা যাতে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন সেই পরিবেশের নিশ্চয়তা চান নাসরিন জাহান নামে একজন ভোটার।

তিনি বলছেন, "আমাদের ইচ্ছা আছে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেওয়ার, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন থাকে সেটি গুরুত্বপূর্ণ।"