আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
মেডিকেল ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গে আবার রাজনৈতিক বিতর্ক
- Author, রূপসা সেনগুপ্ত
- Role, বিবিসি নিউজ বাংলা
পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুরের এক বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে আবার তোলপাড় শুরু হয়েছে।
একদিকে যেমন আরো একবার প্রশ্নের মুখে পড়েছে রাজ্যের নারী নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা, তেমনি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দোষারোপও শুরু হয়েছে।
ওড়িশার বাসিন্দা ওই মেডিকেল ছাত্রীকে শুক্রবার রাতে ক্যাম্পাসের বাইরে ডেকে নিয়ে যাওয়ার পর তাকে কয়েকজন মিলে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ।
নির্যাতিতার বয়ানের উপর ভিত্তি করে পাঁচজনকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, ছাত্রীর এক সহপাঠীকেও আটক করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া যুবকদের মধ্যে একজনকে ঘটনাস্থলে গিয়ে মঙ্গলবার তদন্ত করেছে পুলিশ।
এদিকে, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। পাশাপাশি, বেসরকারি কলেজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ছাত্রীদের সুরক্ষার বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছেন।
তবে তার মন্তব্যকে ঘিরেও বিতর্ক বেঁধেছে। তিনি বলেছিলেন, "বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের উচিত পড়ুয়াদের, বিশেষত ছোট মেয়েদের রাতে বাইরে বেরোতে না দেওয়া। তাদের নিজেদেরও সুরক্ষিত থাকতে হবে।"
এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে অনেকে সরব হয়েছেন। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে জোর না দিয়ে মেয়েদের উপর বিধি নিষেধ ছাপানোর চেষ্টা চলছে এমন অভিযোগও তুলেছেন অনেকে।
প্রসঙ্গত, গত বছর অগাস্ট মাসে কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসক ছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যাকে কেন্দ্র করে তোলপাড় হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য। তারপর চলতি বছরে কলকাটার আইন কলেজের ক্যাম্পাসে এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এছাড়াও একাধিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছে রাজ্যের নারী নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
আরজি কর হাসপাতালে মেডিকেল ছাত্রীকে ধর্ষণ এবং খুনের পর প্রতিবাদ জানিয়ে যেমন রাস্তায় নেমে 'রাত দখলের' ডাক দেওয়া হয়েছিল, যা কেন্দ্র করে রাস্তায় নেমেছিলেন বিপুল সংখ্যক নারী। সেই কর্মসূচিরই আবার ডাক দেওয়া হয়েছে। আবার রাজনৈতিক বিরোধীরাও মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করতে ছাড়েনি।
দুর্গাপুরের বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের ওই ছাত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী। দোষীদের শাস্তি দিতে 'সমস্ত স্তরে জোর' দেওয়ার কথাও বলেছেন।
এদিকে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ। তাদের বক্তব্য কলেজে পরীক্ষা চলছে কিন্তু ঘটনার পর থেকে কলেজের বাইরে অনেক মানুষের জমায়েত রয়েছে। তাই কলকাতা হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়েছে বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, যাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
ঘটনা সম্পর্কে এ পর্যন্ত যা জানা গিয়েছে
ওড়িশার জলেশ্বরের বাসিন্দা ওই তরুণী দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। জানা গেছে, ওই ছাত্রী শুক্রবার রাত আটটার একটু আগে অন্য এক সহপাঠী ছাত্রের সঙ্গে ক্যাম্পাসের বাইরে যান।
নির্যাতনের শিকার ছাত্রী জানিয়েছেন, খাবার খেতে বন্ধুর সঙ্গে বেরিয়েছিলেন তিনি। যাওয়ার পথে নির্জন রাস্তায় কয়েজন স্থানীয় যুবক তার উপর চড়াও হয়। পড়ে আরো দুই ব্যক্তি সেখানে আসে। তাকে ওই স্থান থেকে অদূরে এক জঙ্গল এলাকায় টেনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন।
ওই অঞ্চলের নাম পরানগঞ্জ শ্মশান কালীবাড়ি জঙ্গল। অভিযুক্তরা তরুণীর ফোন কেড়ে নেয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
প্রসঙ্গত, এই ঘটনায় তরুণীর ওই সহপাঠীকেও আটক করেছে পুলিশ। ওই সহপাঠীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নির্যাতিতার বাবা।
তার অভিযোগ, এই ঘটনার সঙ্গে সেই তরুণের যোগ রয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, "আমার মেয়েকে নিয়ে বাইরে খেতে বেরিয়েছিল ওই ছাত্র। যখন আমার মেয়েকে ওরা তুলে নিয়ে গেল, তখন সে কেন ক্যাম্পাসে পালিয়ে এলো?"
"কেন কলেজ ক্যাম্পাসে ফিরে কাউকে কিছু জানাল না? তারপর আবার ক্যাম্পাস থেকে বেড়িয়ে গিয়ে আমার মেয়েকে নিয়ে ফিরে এলো? পুরো ব্যাপারটাই সন্দেহজনক,"তিনি অভিযোগ করেছেন।
নির্যাতিতার বয়ান ও ওই সহপাঠী ছাত্রকে জিজ্ঞাসাবাদ করে যে তথ্য পাওয়া যায় তার ভিত্তিতে রোববার প্রথমে তিনজনকে ও সোমবার বাকি দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের প্রত্যেকেই স্থানীয় যুবক। বয়স ২০ থেকে তিরিশের মধ্যে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ তদন্তে যা পেয়েছে
"যে পাঁচজন সেদিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল, তাদের প্রত্যেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তরুণী এবং তার পরিবারের সকলকে আমরা ন্যায় বিচারের আশ্বাস দিয়েছি। এই ঘটনায় আমরা অত্যন্ত ব্যথিত। এটুকু বলতে পারি যে কোনো দোষী ব্যক্তিকেই রেয়াত করা হবে না," বলেছেন, আসানসোল-দুর্গাপুরের পুলিশ কমিশনার সুনীল কুমার চৌধুরী।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় ছাত্রীর যে ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল, পড়ে সেই ফোন ব্যবহার করেই অভিযুক্তদের একজন তরুণীর সেই সহপাঠীর ফোন নম্বর পান। এরপর তাকে ফোন করে ঘটনাস্থলে ডাকে অভিযুক্তদের একজন। সেই সূত্র ধরেই প্রথমে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয় এবং তাকে জেরা করার পর অন্যদের খোঁজ মেলে।
জানা গেছে, এর মধ্যে যে দু'জন পলাতক ছিল, তাদের একজনকে ধরিয়ে দিতে সাহায্য করেন তার দিদি। ওই তরুণী টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে বলেছেন, "আমরা গরীব হতে পারি কিন্তু আমাদের আত্মসম্মান আছে। আমি যখন জানতে পারি যে ভাইকে পুলিশ খুঁজছে, আমি ওকে সারেন্ডার করার জন্য জোর দিই।"
"ও দোষী হলে শাস্তি পাবে আর নির্দোষ হলে ওকে ছেড়ে দেওয়া হবে।"
পুলিশ জানিয়েছে ধৃত যুবকরা মূলত স্থানীয় বিজড়া গ্রামের বাসিন্দা। যেখানে এই ঘটনা ঘটেছে, সেখানে তারা আড্ডা দিতে যায়। সেখানে বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কাজ চলে বলে স্থানীয়রা সন্ধ্যের পর ওই অঞ্চল এড়িয়ে চলেন।
এদিকে, তরুণীর সহপাঠী ওই ছাত্রকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে ঘটনাস্থলেও নিয়ে যাওয়া হয় ঘটনাটি বিশ্লেষণ করার জন্য। ধৃতদের মধ্যে একজনকেও আলাদাভাবে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার সময় কার কী ভূমিকা ছিল, তা খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছে পুলিশ।
কলেজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
ওই বেসরকারি কলেজের তরফে জনসংযোগ এবং ব্র্যান্ড ডিরেক্টর সুদর্শনা গাঙ্গুলি জানিয়েছেন, ক্যাম্পাসে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ থেকে জানা গেছে যে, ওই তরুণী সাতটা বেজে আটান্ন মিনিটে অপর ছাত্রের সঙ্গে সাউথ ক্যাম্পাসের গেট দিয়ে বাইরে যান। তারপর আটটা বিয়াল্লিশ মিনিট নাগাদ ছাত্রটিকে একা ফিরে আসতে দেখা যায়। তারপর কিছুক্ষণ সাউথ গেটের কাছেই ঘোরাফেরা করতে দেখা যায় তাকে।
তিনি আটটা আটচল্লিশ মিনিটে আবার ক্যাম্পাসের বাইরে বেড়িয়ে যান। এরপর রাত ন'টা একত্রিশ মিনিটে ওই তরুণীকে সঙ্গে নিয়ে ফিরে আসেন। তারা দু'জনেই নিজেদের হস্টেলে চলে যান।
ঘটনার বিষয়ে তরুণী তার পরিবারকে জানান। স্থানীয় হাসপাতালে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তার চিকিৎসা হয়েছে। এরই মাঝে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়, তার বয়ানও নিয়েছে পুলিশ।
'ওর জীবনের ঝুঁকি আছে'
ঘটনার আতঙ্ক এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি তরুণীর পরিবার। তার বাবা সাংবাদিকদের বলেছেন, "শুক্রবার রাতেই ওর সহপাঠীরা ফোনে ঘটনার কথা জানিয়ে বলে আমরা যেন যত দ্রুত সম্ভব চলে আসি।"
তরুণীর অভিভাবক ও কয়েকজন আত্মীয় সেই রাতেই দুর্গাপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন।
ছাত্রীর মা বলেছেন, "জানতে পারি আমার মেয়ে খাবারের জন্য হস্টেলের বাইরে বেরিয়েছিল। তিনজন ওদের পিছু নেয়। যে বন্ধুর সঙ্গে ও বেরিয়েছিল, সে ওকে ফেলে পালায়।"
"ওই তিনজন আমার মেয়েকে টেনে নিয়ে যায়। পড়ে আরো দু'জন তাদের যোগ দেয়।"
পশ্চিমবঙ্গে আর নিরাপদ বোধ করছেন না তার পরিবার। ছাত্রীর বাবা বলেছেন, "আমি মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করব তিনি যেন আমার মেয়েকে ওড়িশায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে দেন। সেখানেই ও নিরাপদ। এখানে ওর ঝুঁকি রয়েছে।"
যদিও তিনি জানিয়েছেন পুলিশ ও প্রশাসনের তরফে তাকে সহযোগিতা করা হচ্ছে, তার মেয়ের চিকিৎসাও করা হচ্ছে।
'দোষীদের কঠোর শাস্তির জন্য সর্বস্তরে চাপ সৃষ্টি করা হবে'
ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি ওই তরুণী এবং তার পরিবারের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, "চিন্তা করবেন না। ওড়িশা সরকার আপনাদের পাশে আছে। আমরা সবরকম ভাবে সাহায্য করব। ধৈর্য রাখো, সাহস হারিও না। তোমার পড়াশোনা যেন কোনওভাবে বন্ধ না হয়, তার জন্যও সব ব্যবস্থা করা হবে।"
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী।
তরুণীর মাকে তিনি বলেছেন, "এই নৃশংস অপরাধের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হবে। ওড়িশা সরকার ন্যায়বিচার আদায়ের জন্য সব দিক থেকে চাপ সৃষ্টি করবে।"
দুর্গাপুরে গিয়ে ওই তরুণী ও তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন ওড়িশা মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন শোভনা মোহান্তি এবং কমিশনের অন্য সদস্যরা। তবে সাক্ষাতের সময় রাজ্য প্রশাসনের তরফে সহযোগিতার অভাব ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক ও বিরোধীদের সমালোচনা
এই ঘটনা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর বক্তব্যকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ওই মেডিকেল ছাত্রীর রাতে বের হওয়া ঘিরে তার বক্তব্যের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে ওড়িশার উপমুখ্যমন্ত্রী প্রভাতী পারিদা বলেছেন, "মেয়েদের রাতে বেরোনো নিয়ে একজন মহিলা নেত্রী যে মন্তব্য করেছেন, তা অনভিপ্রেত।"
বিজেপির এমপি বাঁশরী স্বরাজও মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, "তিনিও একজন নারী। অসংবেদনশীল মন্তব্য করার পরিবর্তে তার নারী সুরক্ষার বিষয়ে জোর দেওয়া উচিৎ।"
কংগ্রেসের অধীর রঞ্জন চৌধুরীও মুখ্যমন্ত্রীর বন্তব্যের নিন্দা করেছেন। তিনি বলেছেন, "যারা ধর্ষণ করেছে, তাদের হয়ে সওয়াল করছেন মুখ্যমন্ত্রী।"
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। আগেও মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তিনি। দুর্গাপুরের ওই তরুণীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি বলেন, "এটা প্রথমবার নয়। সাম্প্রতিক অতীতেও আমাদের একই রকম অভিজ্ঞতা হয়েছে।"
পাশাপাশি তিনি বলেছেন, "আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি না যে বাংলা নিরাপদ। "
এদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যকে ঘিরে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। যদিও পরে তিনি দাবি করেছে, গণমাধ্যমে তার মন্তব্যকে "বিকৃত" করা হয়েছে। এর আগেই অবশ্য ওড়িশার সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন তিনি।
তার মন্তব্যের নিন্দা করেছে মানবাধিকারকর্মী ও সুশীল সমাজ। আরজি করের ঘটনার সময় রাত দখলের ডাক দেওয়া 'নারী-ট্রান্স-কুয়্যার ঐক্যমঞ্চের' পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, "সুরক্ষিত সামাজিক ও প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের বদলে রাজ্য সরকার ঘরে থাকার নিদান দিচ্ছে। সরকারের এই চূড়ান্ত পিতৃতান্ত্রিক অবস্থানের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।"
দুর্গাপুরের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় মহিলা কমিশনও। এই ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর কাছে একাধিক সুপারিশ পাঠানো হয়েছে কমিশনের তরফে। নির্যাতিতা ছাত্রী যাতে নিরাপদে তার পড়াশোনা সম্পন্ন করতে পারেন, তা সুনিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
পাশাপাশি এও জানানো হয়েছে যে তিনি ওই কলেজে পড়তে না চান, তাহলে বিকল্প ব্যবস্থাও করতে হবে।