সীমান্তে উত্তেজনা কমাতে রাজী হলো চীন এবং ভারত

জোহানেসবার্গে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের সময় প্রেসিডেন্ট শি এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর মধ্যে এই বৈঠক হয়।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, জোহানেসবার্গে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের সময় প্রেসিডেন্ট শি এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর মধ্যে এই বৈঠক হয়।

ভারত এবং চীন তাদের সীমান্ত বরাবর উত্তেজনা প্রশমনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতীয় কর্মকর্তারা।

দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর মধ্যে আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো হচ্ছে- ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন এবং দক্ষিণ আফ্রিকা। পশ্চিমা দেশগুলোর প্রাধান্যের বিরুদ্ধে এই জোট বিশ্বে নতুন শক্তির ভারসাম্য তৈরির চেষ্টা করছে বলে মনে করা হয়।

বুধবার দুই নেতার মধ্যে এই সম্মেলনের সাইড-লাইনে বৈঠকটি হয়েছে। বেইজিং বলছে, মি. মোদীর অনুরোধে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

গত তিন বছর ধরে ভারত এবং চীনের সম্পর্ক ক্রমশ খারাপ হচ্ছিল।

ভারত এবং চীনের মধ্যে ৩ হাজার ৪৪০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে, যা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত নয়। হিমালয় অঞ্চলের এই সীমান্ত রেখা লাইন অব একচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি) নামে পরিচিত।

বৃহস্পতিবার ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব ভিনয় কোয়াত্রা বলেন, দুই পক্ষই লাইন অব একচুয়াল কন্ট্রোল বরাবর উত্তেজনা কমাতে প্রচেষ্টা চালাবে এবং সেখান থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করবে বলে রাজী হয়েছে।

মি. কোয়াত্রা বলেন, “প্রধানমন্ত্রী সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। ভারত এবং চীনের সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হলে লাইন অব কন্ট্রোল অক্ষুণ্ণ রাখা এবং এটি মেনে চলাও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।”

ভারত এবং চীনের মধ্যে ৩ হাজার ৪৪০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে, যা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত নয়।

ছবির উৎস, AFP

ছবির ক্যাপশান, ভারত এবং চীনের মধ্যে ৩ হাজার ৪৪০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে, যা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত নয়।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, দুই নেতার মধ্যে বর্তমান চীন-ভারত সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে “গভীর এবং অকপট মতবিনিময় হয়েছে।”

“প্রেসিডেন্ট শি চীন-ভারত সম্পর্কের উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, এটি দুই দেশের এবং তাদের জনগণেরই অভিন্ন স্বার্থ, এবং সেই সাথে গোটা বিশ্ব এবং এই অঞ্চলের শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নের জন্যও সহায়ক।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “দুই পক্ষেরই উচিৎ তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সার্বিক স্বার্থ মনে রাখা এবং সীমান্তের বিষয়গুলোকে ঠিকমত মোকাবেলা করা। যাতে করে সীমান্ত এলাকায় যৌথভাবে শান্তি এবং সৌহার্দ্য বজায় রাখা যায়।”

ভারতীয় সংবাদপত্র দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক খবরে বলা হচ্ছে, দুই নেতা যখন মিলিত হন, তখন সেখানে কোন দোভাষী ছিল না, নোট নেয়ার জন্য কোন কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিল না।

প্রেসিডেন্ট শি এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর মধ্যে এর আগে সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল ২০২২ সালের জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের সাইড-লাইনে।

আগামী ৯ এবং ১০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে যে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন হবে, প্রেসিডেন্ট শি সেখানে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।