আদর্শ প্রকাশনীর একটি বই কলকাতা বই মেলাতে বিক্রি করতে 'নিষেধ' করেছে সমিতি

ঢাকার একুশে বইমেলায় আদর্শ প্রকাশনী সংস্থাকে স্টল না দেওয়ার পরে এবার তাদের প্রকাশিত ‘বাঙালির মিডিয়োক্রিটির সন্ধানে’ বইটি কলকাতা বই মেলাতেও বিক্রি না করার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। আদর্শ প্রকাশনীর প্রকাশক মাহবুবুর রহমানকে লেখা এই চিঠিটি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি।
সোমবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরে মঙ্গলবার থেকে ৪৬ তম কলকাতা বই মেলা শুরু হয়েছে।
প্রকাশনী সংস্থাটির কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম পলাশ, যিনি কলকাতা বইমেলায় আদর্শ'র স্টলের দায়িত্বে আছেন, তিনি জানান বইটি বিক্রির জন্য নিয়ে আসা হয়েছে।
“আমরা তো বইটা কলকাতা বইমেলায় বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছি, কিন্তু ওটা বিক্রি করতে বারণ করা হয়েছে আমাদের,“ মি. আলম বিবিসি বাংলাকে বলেন।

কলকাতা গিল্ড-এর বক্তব্য
সামাজিক মাধ্যমে কয়েকটি পোস্টে দাবি করা হয়েছিল যে, কলকাতা বইমেলার আয়োজক সংস্থা বুকসেলার্স এন্ড পাবলিশার্স গিল্ড এই বই না নিয়ে আসার অনুরোধ করে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতিকে চিঠি দিয়েছিল।
তবে গিল্ড-এর কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা এই অভিযোগ নাকচ করে দেন।
‘’আমরা এরকম কোন চিঠি পাঠাই নি,’’ বুকসেলার্স এন্ড পাবলিশার্স গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব চ্যাটার্জি বিবিসি বাংলাকে বলেন। ‘’এরকম চিঠি পাঠানোর কোন প্রশ্নই ওঠে না,’’ তিনি বলেন।

আদর্শ'র 'ভালোর জন্য'
প্রশ্ন উঠেছে যে বিদেশের মাটিতে কোন প্রকাশক কোন বই বিক্রি করবে, তা কি বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি ঠিক করে দিতে পারে?
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
সমিতির নেতা শ্যামল পাল বিবিসি বাংলার আকবর হোসেনকে জানিয়েছেন, এটা তারা আদর্শ’র ভালোর জন্যই করেছেন।
“তারা কলকাতা বইমেলায় গেছে, সেই সময়ে তারা যাতে কোনও সমস্যায় না পড়ে, তাদের ভালোর জন্য ওই বইটা প্রদর্শন ও বিক্রি করা থেকে বিরত থাকতে বলেছি আমরা,” বলছিলেন মি. পাল।
মি. পাল বিবিসিকে বলেছেন, বইটা নিয়ে যেহেতু বিতর্ক হয়েছে, যার মধ্যে সরকার, প্রশাসনও জড়িয়ে গেছে, তাই তারা চাইছেন না যে কলকাতা বইমেলায় আদর্শ স্টলে বইটা রাখা নিয়ে কোনও বিতর্ক হোক।
কলকাতা বইমেলায় বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নটির ব্যবস্থাপনা দেখে বাংলাদেশ উপ-দূতাবাস। মি. পাল মনে করছেন, তারা যদি এই বইটা আদর্শর স্টলে দেখে, আর স্টলটা বন্ধ করে দেয়, তাহলে বিদেশের মাটিতে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হতে পারে।
''তবে আমরা বলছি না যে প্রশ্ন আসবেই, কিন্তু যদি প্রশ্ন ওঠে, সেই শঙ্কাটা বিবেচনা করেই বলছি যে ওই বইটা না নিয়ে কলকাতায় মেলাটা করেন,“ তিনি বলেন।
তবে শ্যামল পালের কথা প্রসঙ্গে কলকাতার বাংলাদেশ উপরাষ্ট্রদূত আন্দালিব ইলিয়াস বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, "ওই বিতর্কিত বইটি কলকাতা বই মেলায় বিক্রি বা প্রদর্শন করা হলে যে স্টলটি বন্ধ করে দিতে হবে, এমন কোনো নির্দেশ তার কাছে নেই।
"কিন্তু একইসঙ্গে এটাও বলবো, যে বইটা নিয়ে বিতর্ক আছে, সেটা প্রদর্শন বা বিক্রি না করা হলেই ভালো।"

ছবির উৎস, Getty Images
একুশে বই মেলা
ঢাকার একুশে বইমেলার আয়োজক বাংলা একাডেমি যদিও আদর্শকে স্টল না দেওয়ার কারণ হিসাবে তাদের প্রকাশিত তিনটি বইয়ের কথা মৌখিকভাবে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলিকে জানিয়েছিল।
যে তিনটি বইয়ের কথা একাডেমি কর্মকর্তারা দেশটির সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, সেগুলি হল ‘অপ্রতিরোধ্য উন্নয়নের অভাবনীয় কথামালা,’ ‘বাঙালির মিডিয়োক্রিটির সন্ধানে’ এবং ‘উন্নয়ন বিভ্রম’।
তবে কলকাতা বইমেলায় বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি শুধুমাত্র ফাহাম আব্দুস সালামের লেখা ‘বাঙালির মিডিয়োক্রিটির সন্ধানে’ বইটিই বিক্রি করতে নিষেধ করেছে।
সমিতির চিঠিতে লেখা হয়েছে, “বাঙালির মিডিয়োক্রিটির সন্ধানে - লেখক ফাহাম আব্দুস সালাম এর বইটি ৪৬ তম কলকাতা আন্তর্জাতিক পুস্তক মেলা ২০২৩-এ প্রদর্শন ও বিক্রয় করা থেকে বিরত থাকার জন্য বলা হলো।“








