'ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিশ্চয়তা!'

ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিশ্চয়তা!— ইত্তেফাক পত্রিকার প্রথম পাতার খবর।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টার ঘোষিত আগামী ডিসেম্বর মাসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের অংশ এবং সীমানা পুনর্নির্ধারণ আইনের সংশোধনের কারণে আটকে আছে যাবতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি। কেননা এই দুটি আইনে কী কী সংশোধন আনা হবে- সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা নেই নির্বাচন কমিশনের (ইসি)।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা ছাড়া কমিশনকে কোনো ধরনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়নি। এছাড়াও এবারের ভোটার তালিকা হালনাগাদে প্রায় ১৮ লাখ ৪৯ হাজার ৩২৬ জন নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন যারা ২০২৬ সালের দোসরা জানুয়ারি ভোটারযোগ্য হবেন। চলতি বছরের ডিসেম্বরে ভোট হলে তারা ভোট দিতে পারবেন না।
সব মিলিয়ে সংসদ নির্বাচনের জন্য কাঙ্ক্ষিত প্রস্তুতিতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।

'৩২ নম্বরে ভাঙচুর আগুনের পর ভেকু-বুলডোজার'— সমকালের প্রধান শিরোনাম। এই খবরটি দেশের প্রায় সব পত্রিকায় প্রধান শিরোনাম হিসাবে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে আবারও হামলা, ভাঙচুর এবং আগুন দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের দিকে জড়ো হন বিক্ষোভকারীরা।
স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ ও আওয়ামী লীগ বিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা। এ সময় শাবল, হাতুড়ি ও রড দিয়ে বাড়ির দেয়ালসহ বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করা হয়। কেউ খুলে নিয়ে যায় জানালা, কেউ আবার স্মৃতি হিসেবে খুলে নিয়ে যায় ইট।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভবনটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য রাত পৌনে ১১টার দিকে সেখানে বড় একটি ক্রেন নেয়া হয়। কিন্তু ক্রেন দিয়ে পিলার ভাঙা সম্ভব না হওয়ায় নেয়া হয় ভেকু। পরে বুলডোজার ও ভেকু দিয়ে ভাঙা হতে থাকে ভবনের পিলার।
রাত সাড়ে ১২টার দিকে বঙ্গবন্ধু ভবনের একটি অংশ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। সর্বশেষ রাত দেড়টার দিকেও এ ভাঙচুর চলতে থাকে। এ সময় উল্লাস করতে থাকেন উপস্থিত ছাত্র-জনতা।

মন্ত্রণালয় কমানো ও 'রাজধানী মহানগর সরকারের' প্রস্তাব— দৈনিক প্রথম আলো'র প্রথম পাতার খবর। এতে বলা হয়েছে, জনপ্রশাসন ও শাসনকাঠামোয় বড় রকমের পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন।
পুরোনো চারটি বিভাগ নিয়ে আলাদা চারটি প্রদেশ এবং ঢাকা ও আশপাশের এলাকা নিয়ে 'ক্যাপিটাল সিটি গভর্নমেন্ট বা রাজধানী মহানগর সরকার' করতে বলেছে কমিশন।
মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি বিসিএস 'ক্যাডার সার্ভিস' বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিশন। তারা বলেছে, কাজের ধরন অনুযায়ী সার্ভিসের নাম আলাদা হবে।
২৬টি ক্যাডারকে কমিয়ে ১৩টি প্রধান সার্ভিসে বিভক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। ৪৩টি মন্ত্রণালয় থেকে কমিয়ে ২৫টি এবং ৬১টি বিভাগ থেকে কমিয়ে ৪০টি করার সুপারিশ করা হয়েছে।
সংস্কার কমিশন প্রশাসন ক্যাডারকে 'বাংলাদেশ প্রশাসনিক সার্ভিস' করে তাদের পদগুলো মাঠ প্রশাসনে সীমাবদ্ধ রাখা এবং পরীক্ষার মাধ্যমে সব সার্ভিস থেকে বাছাই করা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে 'সুপিরিয়র এক্সিকিউটিভ সার্ভিস (এসইএস)' গঠনের সুপারিশ করেছে।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো গ্রহণে দেশবাসীকে আহ্বান— কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার একটি খবর। এতে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য গঠিত সংস্কার কমিশনগুলোর সুপারিশগুলো গ্রহণ করে তা বাস্তবায়নে এগিয়ে আসার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন এবং জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন গ্রহণ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, "আমরা সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনগুলো জনগণ, রাজনৈতিক দল ও নাগরিকসমাজের কাছে দিয়ে দেব, যাতে তারা একমত হতে পারে; কী করলে তাদের ভালো হবে। আমি আশা করি, সবাই মিলে প্রস্তাবগুলো এক মনে গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করবে।"
গতকাল বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেন বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন ও জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধানরা।
সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর সম্পদ উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, "এটা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বিশ্বের জন্য অবদান। সব জাতিকে সংস্কার সমস্যা মোকাবেলা করতে হয়। যারা সংস্কার নিয়ে চিন্তা করবে, তখন তারা দেখবে কী বাদ গেল।"

বিচারকদের সম্পদের হিসাব প্রকাশের সুপারিশ কমিশনের— আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। এখানে বলা হয়েছে, বিচার বিভাগের দুর্নীতি প্রতিরোধে সুপ্রিম কোর্ট ও অধস্তন আদালতের বিচারকদের সম্পত্তির বিবরণ প্রতি তিন বছর পরপর ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জনসাধারণের কাছে প্রকাশ করতে হবে।
একই পদ্ধতিতে প্রকাশ করতে বলা হয়েছে সুপ্রিম কোর্ট ও অধস্তন আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পত্তির বিবরণও। বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে এসব সুপারিশ করা হয়। গতকাল বুধবার প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন জমা দেয় কমিশন।
জনসাধারণ যাতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ লিখিতভাবে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কাছে পৌঁছাতে পারে, সে জন্য সুপ্রিম কোর্টে অভিযোগ বাক্স স্থাপন এবং নির্দিষ্ট ই-মেইল ঠিকানা রাখার সুপারিশ করা হয়েছে কমিশনের প্রতিবেদনে।
এছাড়া অধস্তন আদালতের বিচারকদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের জন্য সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের সমন্বয়ে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করার কথা বলা হয়েছে।

ঘটনার তদন্ত হয়, রিপোর্ট থাকে হিমঘরে— দেশ রূপান্তর পত্রিকার প্রথম পাতার খবর।
এতে বলা হয়েছে, দেশে ফৌজদারি মামলার তদন্তে ঘাটতির কারণে অভিযুক্তদের দোষ প্রমাণের হার কমবেশি ২০ শতাংশ। ৮০ শতাংশ আসামিই খালাস পেয়ে যায়।
থানা-পুলিশের একেকজন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে অনেক মামলা থাকে। তাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নানা কাজেও সক্রিয় থাকতে হয়। তদন্তে প্রয়োজনীয় সময় দিতে পারেন না তারা।
অনেকের বিরুদ্ধে প্রভাবশালীর চাপে তদন্ত ভিন্ন খাতে অথবা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ আছে।
তদন্তে বড় ধরনের দুর্বলতা থাকলে তা রায়ের আগেই নজরে আনা সম্ভব। সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অসম্পূর্ণ প্রতিবেদনের বিষয়ে অভিমত দিয়ে আবার তদন্তের কথা বলতে পারেন।
আবার চার্জ গঠনের সময় বা বিচার চলাকালে পুলিশের প্রতিবেদনে দুর্বলতা ধরা পড়লে স্বপ্রণোদিত হয়ে পুনরায় তদন্তের আদেশ দেওয়ার এখতিয়ার আদালতের রয়েছে।
কারণ অসম্পূর্ণ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিচার হলে আসামিপক্ষ রেহাইয়ের সুযোগ পায়। তবে আগেভাগে তদন্তের ত্রুটি সামনে আসার নজির কম।

অপরাধের অর্থনীতি আবারো সক্রিয় হচ্ছে— বণিক বার্তা'র প্রধান শিরোনাম। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে এখন আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে অপরাধের অর্থনীতি। ঘুষ-চাঁদাবাজির মাত্রা আবার বেড়েছে। আওয়ামী লীগের আমলে দেশে বড় অংকের ঘুষের লেনদেন ও দেনদরবারের প্রধানতম স্থান হিসেবে অভিজাত ক্লাব ও পাঁচ তারকা হোটেলগুলো ব্যবহৃত হয়েছে বেশি।
গত পাঁচই অগাস্টের পর এসব জায়গায় সুনসান নীরবতা নেমে এলেও এখন আবার এসব স্থানের জমজমাট অবস্থা ফিরেছে। আবার চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে ফিরে এসেছে আগের রমরমা ভাব।
দেশে পণ্যের বাজার ব্যবস্থাপনা ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পথে বড় ধরনের ব্যাঘাত তৈরি করছে চাঁদাবাজি। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে স্বর্ণ চোরাচালানের মাত্রা বেড়েছে। বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের নানা স্থান থেকে এসে প্রবেশ করছে বাংলাদেশে।
এরপর তা সীমান্তবর্তী জেলাগুলো দিয়ে প্রবেশ করছে স্বর্ণের বৃহত্তম ভোক্তা দেশ ভারতে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলো দিয়ে এ স্বর্ণ পাচারের প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে মানব পাচারের ঘটনাও এখন অনেক বেড়েছে।








