শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযোগ গঠনের দিনে আদালতে যা দেখা গেল

শেখ হাসিনা

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল -১।
    • Author, জান্নাতুল তানভী
    • Role, বিবিসি নিউজ বাংলা

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগ গঠন করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল -১। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মামলাটির বিচার শুরু হলো।

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গঠন করা ট্রাইব্যুনালেই এই বিচার শুরু হলো। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের কোনো মামলায় বিচার শুরুর প্রথম ঘটনা এটি।।

এ মামলায় গ্রেফতারকৃত একমাত্র আসামি পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন ট্রাইব্যুনালে দায় স্বীকার করে 'অ্যাপ্রুভার' বা রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল মি. মামুনের বক্তব্য জানতে চাইলে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়া থেকে তিনি মাইক্রোফোনে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন।

এ সময় তার হাতে ছোট্ট এক টুকরো কাগজ দেখা যায়।

ওই কাগজে লিখিত প্রায় দুই বা তিন লাইনের বক্তব্যের প্রথমেই ইংরেজিতে তিনি বলেন, " আই প্লিড গিল্টি।"

পরে নিরাপত্তা চেয়ে তার আইনজীবীর করা আবেদনটি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

এরপর এক সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জানান, মি. মামুন দোষ স্বীকার করেছেন।

"একজন সাক্ষী হিসেবে এই যে মানবতাবিরোধী অপরাধ চব্বিশের জুলাই অগাস্টে হয়েছিল সেই অপরাধের সমস্ত কিছু যেহেতু তার জানবার কথা। তিনি সমস্ত তথ্য আদালতকে উদঘাটনের ব্যাপারে সহায়তার মাধ্যমে অ্যাপ্রুভার (রাজসাক্ষী) হতে চেয়েছেন," বলেন তাজুল ইসলাম।

এই ট্রাইব্যুনাল তার আবেদন মঞ্জুর করেছেন বলে জানান মি. ইসলাম।

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ইতিহাসে কোনো আসামির এ ধরনের "অ্যাপ্রুভার" বা রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদনের ঘটনা এটাই প্রথম বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

আগামী তেসরা অগাস্ট এ মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষের সূচনা বক্তব্য এবং চৌঠা অগাস্ট সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন নির্ধারণ করেছে ট্রাইব্যুনাল।

পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্র নিয়োজিত আইনজীবী আমির হোসেনের করা অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।

চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম

ছবির উৎস, Jahid Hasan

ছবির ক্যাপশান, শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়, ষড়যন্ত্র, উস্কানি, হত্যা, পরিকল্পনাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে পাঁচটি অভিযোগ গঠন করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

হত্যা, ষড়যন্ত্রসহ যে পাঁচ অভিযোগ

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়, ষড়যন্ত্র, উস্কানি, হত্যা, পরিকল্পনাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ গঠন করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বেলা বারোটায় বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।

ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা এ সময় আরেক বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী অভিযোগগুলো পড়ে শোনাবেন বলে জানান।

পরে তিনি তিন আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা পাঁচ অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে পড়ে শোনান।

এসব অভিযোগে বলা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন সময়ে জুলাই-অগাস্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চালানো গুলিতে প্রায় দেড় হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।

আহত হন প্রায় ২৫ হাজার মানুষ। অনেকেই স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে গেছেন, চোখ হারিয়েছেন অনেকেই।

তাদের বিরুদ্ধে আনা প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৪ই জুলাই আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন।

ওই বক্তব্যে তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা, রাজাকারের নাতি-পুতি বলে উল্লেখ করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ তৎকালীন সরকারের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের 'প্ররোচনা, সহায়তা ও সম্পৃক্ততায়' আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও সশস্ত্র 'আওয়ামী সন্ত্রাসী' ব্যাপক মাত্রায় ও পদ্ধতিগতভাবে নিরীহ নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার উপর আক্রমণ করে।

প্ররোচনা, উস্কানি, অপরাধ সংঘটন প্রতিরোধে ব্যর্থতা, ষড়যন্ত্রের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে এতে।

গত ১২ই মে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনে জমা দিয়েছিল তদন্ত সংস্থা।

সেদিন এক সংবাদ সম্মেলনে প্রসিকিউশন বলেছিল, চব্বিশের জুলাই - অগাস্টের মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ' মাস্টারমাইন্ড, হুকুমদাতা ও সুপিরিয়র কমান্ডার ' হিসেবে অভিযোগ আনা হয়েছে।

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের 'হত্যা করে নির্মূলের নির্দেশ' দিয়েছেন।

যেটি বাস্তবায়ন করেছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন।

অপরাধ সংঘটনের নির্দেশ, সহায়তা, সম্পৃক্ততা এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আসামিরা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন বলে এই অভিযোগে বলা হয়েছে।

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাইদ হত্যার ঘটনায় তৃতীয় অভিযোগটি আনা হয়েছে।

শেখ হাসিনাসহ তিন জনের বিরুদ্ধে প্ররোচনা, উস্কানি, ষড়যন্ত্র, সহায়তা, সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়েছে এই অভিযোগে।

চার নম্বর অভিযোগে, গত বছরের পাঁচই অগাস্ট রাজধানীর চাঁনখারপুল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক আন্দোলনকারী ছয় জনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, হত্যার নির্দেশ, প্ররোচনা, উস্কানি, সহায়তা, ষড়যন্ত্র ও সম্পৃক্ততার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন শেখ হাসিনাসহ তিন আসামি।

আশুলিয়ায় ছয় জনকে পোড়ানো হয়
ছবির ক্যাপশান, আশুলিয়ায় ছয় জনকে মারণাস্ত্র অর্থাৎ সাব মেশিন গান দিয়ে গুলি করে মারার পর পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় পাঁচ নম্বর অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

বিচারপতি বললেন 'নাউজুবিল্লাহ'

আশুলিয়ায় ছয় জনকে মারণাস্ত্র অর্থাৎ সাব মেশিন গান দিয়ে গুলি করে মারার পর পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় পাঁচ নম্বর অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

এই অভিযোগ পড়ার সময় বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী ওই ঘটনাটির বর্ণনা দেন।

কীভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পাঁচজনের মরদেহ এবং একজন জীবিত ব্যক্তিকে পুড়িয়ে দিয়েছেন এই অভিযোগে সেটি পড়ে শোনান তিনি।

এক পর্যায়ে তিনি 'নাউজুবিল্লাহ' উচ্চারণ করেন।

আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, নির্যাতন, মৃত ও জীবিত ব্যক্তিকে পোড়ানো, প্ররোচনা, উস্কানি, সহায়তা, সম্পৃক্ততা ও ষড়যন্ত্রের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগ গঠনের আদেশের পর চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, "পাঁচই অগাস্ট বিকেল বেলা মোট ছয়জন ব্যক্তিকে ঠান্ডা মাথায় একটা গলির মধ্যে মারণাস্ত্র দিয়ে অর্থাৎ সাব মেশিন গান দিয়ে সরাসরি গুলি করে হত্যা করা হয়।"

তিনি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান এই নিহত ব্যক্তি ও একজন গুরুতর আহত ব্যক্তিকে একটা প্যাডেল ভ্যানে ত্রিপল দিয়ে পেঁচিয়ে তোলা হয়। পরবর্তীতে তাদের আরেকটি পুলিশ ভ্যানে তুলে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে পোড়ানো হয়।

"একজন আহত ব্যক্তি যখন তার হাত-পা নাড়াচ্ছিল তাকে তখন উদ্ধার না করে, চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে এই জীবিত মানুষসহ বাকি পাঁচজন শহীদকে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। আগুন না নিভিয়ে সেখানে আরো কাঠ, খড়ি এ সমস্ত জিনিস নিক্ষেপ করে আগুনকে আরো বেশি জ্বলতে সাহায্য করা হয়," বলেন মি. ইসলাম।

একইসাথে মরদেহগুলোকে পুড়িয়ে নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে আলামত গোপন করার চেষ্টা করা হয় বলে জানান তিনি।

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন

ছবির উৎস, BBC/TANVEE

ছবির ক্যাপশান, পাঁচ অভিযোগ পড়ে শোনানোর পর ট্রাইব্যুনাল কাঠগড়ায় থাকা এ মামলার একমাত্র গ্রেফতারকৃত আসামি পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের কাছে অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলে দায় স্বীকার করেন তিনি।

'অ্যাপ্রুভার' হতে চান সাবেক আইজিপি

পাঁচ অভিযোগ পড়ে শোনানোর পর ট্রাইব্যুনাল কাঠগড়ায় থাকা এ মামলার একমাত্র গ্রেফতারকৃত আসামি পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের কাছে অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চায়।

কাঠগড়ায় থাকা সাদা-কালো চেকশার্ট পরিহিত মি. মামুন তার বক্তব্য জানান।

চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে মাইক্রোফোনে কথা বলেন মি. মামুন। ইংরেজিতে তিনি দায় স্বীকার করার কথা জানান।

আদেশের পরে সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর মি. ইসলাম বলেন, "তিনি তার দোষ স্বীকার করেছেন। তিনি অ্যাপ্রুভার (রাজসাক্ষী) হতে চেয়েছেন।"

মি. ইসলাম জানান 'অ্যাপ্রুভার' হওয়ার মাধ্যমে জুলাই-অগাস্টের সব অপরাধ উদঘাটনে সহায়তা করবেন পুলিশের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

পরে শেখ হাসিনাসহ তিন জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

চিফ প্রসিকিউটর মি. ইসলাম বলেন, "অ্যাপ্রুভার হওয়ার প্রার্থনা আদালত মঞ্জুর করেছেন। সুতরাং তিনি পরবর্তীতে এই আদালতের সুবিধাজনক সময়ে তার বক্তব্য উপস্থাপনের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সাহায্য করবেন।"

"তিনি সাক্ষী হিসেবে গণ্য হবেন এটাই আদালত বলেছেন। বাংলায় বললে রাজসাক্ষী, কিন্তু আমাদের আইনে যেটা বলা হয়েছে, অ্যাপ্রুভার। সেই হিসাবে তার আবেদন ছিল, সেই হিসাবে তিনি গণ্য হবেন। তিনি এখন জেলেই থাকবেন। কিন্তু তার বক্তব্য গ্রহণের পরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালত দেবেন," বলেন মি. ইসলাম।

ট্রাইব্যুনালে শুনানির পরে আসামি মি. মামুনের আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ তার নিরাপত্তা জোরদার এবং কারাগারে তাকে পৃথকভাবে রাখার আবেদন করেন। এ বিষয়ে তাকে আশ্বস্ত করেছে ট্রাইব্যুনাল।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, "সেই নিরাপত্তার ব্যাপারেও আদালত যথাযথ আদেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন।"

মি. মামুন রাজসাক্ষী হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে কি না এমন প্রশ্নে চিফ প্রসিকিউটর জানান বিষয়টি পুরোটাই ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার।

"এটা আদালত নির্ধারণ করবেন। আমাদের আইনে বলা হয়েছে তিনি যখন তার সাক্ষ্যের মাধ্যমে ট্রু এবং ফুল ডিসক্লোজার হয় তখন এটা আদালতের ড্রিসক্রিশান অনুযায়ী আদালত তাকে ক্ষমা করতে পারেন বা অন্য কোন আদেশ দিতে পারেন। এটা কমপ্লিটলি আদালতের এখতিয়ার," বলেন মি. ইসলাম।

রাষ্ট্র নিয়োজিত আইনজীবী আমির হোসেন

'যুক্তি-তর্ক পর্যন্ত আইনি লড়াই'

শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের পক্ষে রাষ্ট্র নিয়োজিত আইনজীবী আমির হোসেন অভিযোগ গঠনের আদেশের পর জানান যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ের সুযোগ রয়েছে তার।

যেহেতু এ মামলায় সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা রাজসাক্ষী হতে চেয়েছেন সেক্ষেত্রে অন্য আসামিদের অভিযোগ খণ্ডনে কীভাবে এগোবেন এমন প্রশ্ন করা হয় মি. হোসেনকে।

তিনি বলেন, "একজন রাজসাক্ষী হয়েছে সেই বিষয়ে আইনি যে প্রক্রিয়া আছে সেই প্রক্রিয়াতেই আমি আগাবো। যিনি রাজসাক্ষী হয়েছেন তাকে আমি জেরা করবো।"

আসামিদের অব্যাহতি দিতে তার করা আবেদন খারিজের বিষয়ে তিনি জানান অভিযোগ গঠন হলেও পরবর্তীতে সাক্ষ্য-প্রমাণে ট্রাইব্যুনাল তার বক্তব্য বিবেচনা করতে পারে।

"আমার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠিত হয়েছে। আমার অব্যাহতির আবেদনে যেসব বক্তব্য দিয়েছি সেগুলো পরবর্তীতে বিচারের সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে যদি এটাকে গ্রহণযোগ্য মনে হয় তখন ওনারা সেটা বিবেচনা করবেন," বলেন মি. হোসেন।

যুক্তি-তর্ক পর্যন্ত আইনি লড়াই করা যাবে বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্র নিয়োজিত এই আইনজীবী।

তিনি মনে করেন একজন আসামি দোষ স্বীকার করলেই অন্যরা দোষী হয়ে যাবেন না।

"দশজনের ভিতর একজন আসামি দোষ স্বীকার করতে পারে। তার ভিতরে ব্যক্তিগতভাবে কোনো অপরাধ থাকতে পারে। অন্য আসামিদেরতো দোষ নাও থাকতে পারে। অতএব এর দ্বারা কীভাবে বুঝবো যিনি দোষ স্বীকার করেছেন সেজন্য অন্যরাও সবাই দোষী। এটা বলা যাবে না," বলেন শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্র নিয়োজিত আইনজীবী আমির হোসেন।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করতে এই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করেন।

পাঁচই অগাস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিউশন, তদন্ত দলসহ সার্বিকভাবে পরিবর্তন আনা হয়।

প্রসিকিউশনের অনেকে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে জামায়াত নেতাদের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনাও রয়েছে।

যদিও এর আগে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিলের সময় চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেছিলেন, "এখনকার বিচার অতীতের প্রতিশোধ নয়।"