জার্মানির বিপক্ষে জাপানের ‘অভাবনীয়’ এক জয়

ম্যাচের শুরু থেকে খেলায় জাপান পিছিয়ে থাকলেও, স্টেডিয়ামের আমেজ ছিল জাপানের পক্ষে।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ম্যাচের শুরু থেকে খেলায় জাপান পিছিয়ে থাকলেও, স্টেডিয়ামের আমেজ ছিল জাপানের পক্ষে।

গতকালের আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সৌদি আরবের ২-১ গোলের জয়ের পুনরাবৃত্তি হলো যেন আজ।

প্রথমে পেনাল্টি গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে হেরে গেল জার্মানি। ম্যাচের শুরু থেকে খেলায় জাপান পিছিয়ে থাকলেও, স্টেডিয়ামের আমেজ ছিল জাপানের পক্ষে।

খালিফা ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে জাপানের নীল রঙের ছড়াছড়ি ছিল ম্যাচের শুরু থেকে। একজন ড্রাম নিয়ে এসেছিলেন, তিনি গোটা মাঠ মাতিয়ে তুলেছিলেন। জাপানের সমর্থকরা প্রতিবার জাপানের কোনও ফুটবলারের পায়ে বল এলেই গোটা স্টেডিয়ামে আলোড়ন ফেলে দিচ্ছেন।

শেষ পর্যন্ত এই আনন্দ টিকে রইলো, জাপান জার্মানিকে হারিয়ে দিল।

এই ম্যাচের অনেকটা সময় ধরেই ম্যাচে ছিল জার্মানি। এমনকি এমন হারের পরেও জার্মানির পায়ে বল ছিল ৭০ ভাগেরও বেশি সময় ধরে।

ম্যাচে জাপানের প্রায় দ্বিগুণ শট নিয়েছে জার্মানি। জার্মানি শট নিয়েছে ২৩টি, জাপান ১২টি। তার মধ্যে নয়টি শট জার্মানির গোল অভিমুখে ছিল, জাপানের মাত্র চারটি।

ম্যাচের ৩৩তম মিনিটে জার্মানি একটা পেনাল্টি পায় এবং ইকায় গুন্দোয়ান সহজেই বল জালে পাঠান, ঠিক যেমন গতকাল লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনাকে লিড এনে দিয়েছিলেন।

ম্যাচের প্রথমার্ধে জার্মানিকে ভয়াবহ প্রতিপক্ষ মনে হচ্ছিল।

টমাস মুলার, জশুয়া কিমিচরা একের পর এক আক্রমণ সাজাচ্ছিল।

প্রতিপক্ষ জাপানের খেলা দেখে মনে হচ্ছিল পরিকল্পনাহীন, ছন্নছাড়া।

এমন সময়ে জাপানের রক্ষাকর্তা ছিলেন শুইচি গোন্ডা।

কয়েক মিনিটের ব্যবধানে জাপানের এই গোলকিপার তিনটি গোল ফিরিয়ে দেন।

প্রায় মরিয়া হয়ে পড়ে তিনি গোলগুলো ঠেকান।

বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভের ধারাভাষ্যকার ক্রিস সুটন বলেন, “গোন্ডা যেভাবে নিজের ডানে ও বায়ে ঝাঁপ দিয়ে চারটি বল ঠেকালো দুর্দান্ত। এই সেইভগুলো ম্যাচ শেষে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।”

সেটাই হয়েছে শেষ পর্যন্ত।

ঠিক ৭৫তম মিনিটে রিটসু ডিন গোল দেন।

টাকুমি মিনামিনোর ক্রস ম্যানুয়েল নয়ার ফিরিয়ে দেয়ার পর রিটসু ডিনের জোরালো শটে সমতায় ফেরে জাপান।

বিবিসি স্পোর্টের শ্যামুন হাফেজ লিখেছেন, “গোল হওয়ার সাথে সাথে গোটা স্টেডিয়াম কেঁপে উঠেছে যেন।”

শেষ পর্যন্ত এই আনন্দ টিকে রইলো, জাপান জার্মানিকে হারিয়ে দিল।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, শেষ পর্যন্ত এই আনন্দ টিকে রইলো, জাপান জার্মানিকে হারিয়ে দিল।
স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

প্রথম গোল হজম হওয়ার পরেই জার্মানি যেন খানিকটা নেতিবাচক হয়ে পড়ে।

ক্রিস সুটন বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভে বলেন, “জাপানকে এখন আত্মবিশ্বাসী মনে হচ্ছে। তারা বল পায়ে নিচ্ছে এবং তাদেরই ফেভারিট মনে হচ্ছে”।

ঠিক আট মিনিট পর জাপানের টাকুমা আসানো কঠিন এক কোণ থেকে ম্যানুয়েল নয়ারকে পরাস্ত করেন।

দ্বিতীয় গোলের পর জাপানের ফুটবলাররা সমর্থকদের ওপর আনন্দে ঝাঁপিয়ে পড়েন, এক হয়ে উদযাপন শুরু করেন গ্যালারি ও মাঠের সীমানায়।

ক্রিস সুটন ধারাভাষ্যে বলেছেন, জার্মানদের ডিফেন্স ছিল ভয়ানক।

জাপান এর আগে কখনোই জার্মানিকে হারায়নি।

এটা একটা ঐতিহাসিক দিন হয়ে থাকবে জাপানের ফুটবল ইতিহাসে। ৮৩ মিনিটের দ্বিতীয় গোলের পর জাপানকে আর পরাস্ত করতে পারেনি জার্মানি। জার্মান ফুটবলারদের হতাশ ও পরাস্ত মনে হচ্ছিল। অ্যান্টনিও রুডিগার প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে একটি গোল দেয়ার চেষ্টা করেন, দেখে মনে হয়েছে বলের সাথে তার সংযোগই হয়নি।

এই ম্যাচে অতিরিক্ত সময় দেয়া হয়েছিল সাত মিনিট।

এই সাত মিনিটে জার্মানি তেমন সুযোগ তৈরি করতে পারেনি বরং জাপান আরও ব্যবধান বাড়াতে পারতো।

শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে জাপান।

চারবারের বিশ্বকাপ চ্যম্পিয়ন জার্মানি গত বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে বাদ পড়েছিল।

এবারও একই রকম শংকার মুখে পড়েছে।