চন্দননগর ও পন্ডিচেরিকে ঘিরে যেভাবে ভারতে ফরাসি সংস্কৃতির প্রভাব

ছবির উৎস, Getty Images
- Author, রূপসা সেনগুপ্ত
- Role, বিবিসি নিউজ বাংলা, কলকাতা
ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে (২৬শে জানুয়ারি) এ বছর প্রধান অতিথি ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁ। প্রতি বছরই (অতিমারির সময় ছাড়া) প্রজাতন্ত্র দিবসে কোনও বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানো হয় ভারত সরকারের পক্ষ থেকে, সেই রীতি মেনেই এ বছর ভারতে এসেছেন প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ।
কলকাতায় ফ্রান্সের কনসাল জেনারেল দিদিয়ের তল্পেঁ এই সফরের বিষয়ে বিবিসি বাংলাকে বলেন, “ভারত ও ফ্রান্সের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার উপর জোর দিয়েছে দুই দেশই।"
"গত বছর জুলাই মাসে ফ্রান্সে গিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ফ্রান্সের জাতীয় দিবস অর্থাৎ বাস্তিল দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে নিমন্ত্রিত ছিলেন তিনি। আর এবার ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে দেখা যাবে ফরাসি প্রেসিডেন্টকে।"
ভারতে এটা প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ-র তৃতীয় সফর। প্রথমবার ২০১৮ সালে ভারতে এসেছিলেন তিনি, তারপর ২০২৩ এর সেপ্টেম্বর মাসে। দ্বিতীয়বার ভারতে এসে যোগ দিয়েছিলেন দিল্লিতে জি২০ সম্মেলনে। সে সময় প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও হয়।
ভারত ও ফ্রান্সের অংশীদারিত্বের ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আবহে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যেতে একটি ‘রোডম্যাপ’ মেনে চলার সিদ্ধান নিয়েছে দুই দেশ। ২০৪৭ পর্যন্ত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নির্ধারণ করবে ওই রোডম্যাপ। প্রসঙ্গত, সেই বছর ভারতের স্বাধীনতা লাভেরও শতবর্ষ পূর্ণ হবে।
প্রজাতন্ত্র দিবসে তার ভারতে আসা দুই দেশের সম্পর্কের নিরিখে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তবে ফ্রান্সের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কিন্তু নতুন নয়।
ইতিহাসের পাতা ঘাঁটলে দেখা যাবে সেই সম্পর্কের সূত্রপাত বহু যুগ আগে।

ছবির উৎস, Didier Talpain/Lise Talbot Barré
দুই দেশের সম্পর্ক
ফরাসিরা ভারতে আসে ১৬৭৩ সালে। ভারতে ফরাসি উপনিবেশগুলো ছিল চন্দননগর, কারাইকল, পুদুচেরি, মাহে এবং ইয়ানমে। বিজাপুরের সুলতানের কাছ থেকে পন্ডিচেরি নিয়ে নেয় তারা।
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেবের শাসন আমলেই ফরাসিরা চন্দননগরে আসে। সেখানকার ভৌগোলিক অবস্থানের জন্য বাণিজ্যিক দিক থেকে চন্দননগর ফ্রান্সের জন্য প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে।
গড়ে ওঠে ফরাসি কুঠি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা। মাঁর্ত্যা, দেলাদঁ ও পেলের চিঠিতে চন্দননগরের উল্লেখ পাওয়া যায়। জোসেফ মারকুইস ডুপ্লের শাসনে চন্দননগর ছিল ‘ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’র স্বর্ণযুগ, এমনটাই মনে করা হয়।
দুই দেশের সম্পর্কের বিষয়ে পন্ডিচেরি ও চেন্নাইতে ফরাসি কনসাল জেনারেল লিজ তালবোঁ বা বিবিসি বাংলাকে বলেন, “ভারত আর ফ্রান্সের সম্পর্ক বহু যুগের। অতীত দুই দেশকে জুড়ে রেখেছে, এবং সেই অতীতের কথা মনে রেখেই আমরা সেই সুসম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। এটা আমাদের অঙ্গীকার।”
তিনি জানিয়েছেন, ফরাসি নাগরিকদের কাছে ভারতের পন্ডিচেরি কোনও অজানা শব্দ নয়। ফরাসিদের পাঁচটি সাবেক উপনিবেশের মধ্যে অন্যতম পন্ডিচেরির সঙ্গে ফরাসি নাগরিকদের পরিচয় হয়ে থাকে স্কুলপাঠ্য ইতিহাসের বইয়ের হাত ধরে।
তার কথায়, “ফরাসি নাগরিকদের মনে একটা বিশেষ স্থান দখল করে আছে পন্ডিচেরি। ইতিহাসের বইয়ের পাতায় প্রথম পন্ডিচেরির সঙ্গে পরিচয় হয় তাদের এবং অনেকেই ভারতে এসে অন্তত একবার চাক্ষুষ দেখে যেতে চায় এখানে ছড়িয়ে থাকা ফরাসি ঐতিহ্যের নিদর্শন।”

ছবির উৎস, aishwaryatipnisarchitects
তবে শুধু পন্ডিচেরি নয়, পশ্চিমবঙ্গের চন্দননগরে এখনও ছড়িয়ে রয়েছে ফরাসী ঐতিহ্যের নিদর্শন।
“চন্দননগরের নামের পিছনে কী কারণ তা স্পষ্ট ভাবে কেউ লেখেননি। কেউ কেউ বলেন চন্দ্রগড় থেকে চন্দননগর। সেখানকার অর্ধচন্দ্রাকৃতি আকারের কারণে এই নাম,” বলছিলেন চন্দননগরে রাসবিহারী বসু রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অধিকর্তা কল্যাণ চক্রবর্তী।
ইতিহাসবিদদের কেউ আবার বলেন, সে সময়ে চন্দন রপ্তানি হত ওই অঞ্চল দিয়ে। সেই চন্দন থেকে এসেছে চন্দননগর। বাংলা তথা ভারতের ইতিহাসের নিরিখে চন্দননগরের বিশেষ মর্যাদা আছে।
কল্যাণ চক্রবর্তীর কথায়, “১৭৫৭ সালে চন্দননগরে ফরাসিদের সঙ্গে ব্রিটিশদের যুদ্ধ হয়। চন্দননগর লুঠ করে যে টাকা পাওয়া গিয়েছিল, সেটা ওয়াটসন এবং রবার্ট ক্লাইভ ব্যবহার করেন পলাশীর যুদ্ধে।"
"যদি সিরাজদৌল্লার সৈন্যরা সময় মতো পৌঁছত এবং পন্ডিচেরি থেকে সৈন্য আসত, তাহলে রবার্ট ক্লাইভের পক্ষে যুদ্ধ জিতে চন্দননগর ব্রিটিশদের দখলে আনা সম্ভব হত না।"
"ভারতের তথা বাংলার ভাগ্যরবিটা নিভেছিল ব্রিটিশরা ওই যুদ্ধ জিতেছিল বলে। কাজেই ভারতবর্ষের প্রেক্ষাপটে চন্দননগর চিরকালই একটা আলাদা মর্যাদাপূর্ণ জায়গা দখল করে আছে”, বলছিলেন মি চক্রবর্তী।
ইতিহাসের পাতা ঘাঁটলে দেখা যায়, বাংলা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সংস্কৃতির সংস্পর্শে এসেছে। তার মধ্যে ফরাসি সংস্কৃতি কিন্তু উল্লেখযোগ্য ছাপ ফেলে গিয়েছে।
সাংবাদিক স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্যের বিভিন্ন লেখায় চন্দননগরের ছবি ফুটে উঠেছে। তিনি জানান,“শ্রীরামপুর থেকে ব্যান্ডেল পর্যন্ত এক সময় ৬টা কলোনি ছিল।"
"শ্রীরামপুরে ছিল ডেনমার্কের, চন্দননগরে ফরাসিদের, মানকুণ্ডু, ভদ্রেশ্বের অঞ্চলে অস্ট্রিয়ার, চুঁচুড়াতে ডাচ, হুগলিতে মূলত ব্রিটিশ এবং ব্যান্ডেলে পর্তুগিজ কলোনি ছিল। এদের মধ্যে চন্দননগরের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।”

ছবির উৎস, Getty Images
তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, “এটা স্বাধীনতা সংগ্রামীদের পীঠস্থান হয়ে উঠেছিল। কারণ সেখানে একবার পৌঁছতে পারলে ব্রিটিশ পুলিশদের হাত থেকে বাঁচা যেত।"
"এখানে অরবিন্দ ঘোষ, বারীন ঘোষের মতো অনেকেই এসেছিলেন। অন্য দিকে, চন্দননগরে ফরাসি স্থাপত্যের নিদর্শনও দেখতে পাওয়া যায়। এর সঙ্গে কোথাও কোথাও ভারতীয় স্থাপত্যেরও মেলবন্ধন ঘটেছে, যেটা চন্দননগরের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।”
পেশায় আর্কিটেক্ট ঐশ্বর্য টিপনিসের গবেষণার মূল বিষয় ভারতীয় স্থাপত্যে ইউরোপীয় ঐতিহ্যের ছাপ কীভাবে পড়েছে। ফরাসি সংস্কৃতি কীভাবে ভারতীয় স্থাপত্যে প্রভাব ফেলেছে সে বিষয়েও বিস্তৃত কাজ রয়েছে তার।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সাহায্য নিয়ে চন্দননগরের ঐতিহ্যবাহী ইমারত, যেখানে ফরাসি স্থাপত্যের নিদর্শন রয়েছে সেগুলোকে চিহ্নিত করা এবং পুনরুদ্ধারের কাজ করেছেন মিজ টিপনিস।
মোট ৯৯টা ঐতিহ্যবাহী ইমারতকে চিহ্নিত করেছেন তিনি। চন্দননগরের ফরাসি ঐতিহ্যবাহী ভবনগুলোর পুনরুদ্ধার করছেন দীর্ঘদিন ধরে। তার মধ্যে অন্যতম হল সেখানকার রেজিস্ট্রি বিল্ডিংয়ের পুনরুদ্ধারের কাজ।
মিজ টিপনিস বলেন, “ভারতে ফরাসি ঐতিহ্যের কথা বলতে গেলে অনেকেই শুধু পন্ডিচেরির কথা ভাবেন। কিন্তু তা ঠিক নয়। চন্দননগরেরও বিশেষ মর্যাদা রয়েছে তার কারণ, সেখানে ভারতীয় এবং ফরাসি সংস্কৃতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন হয়েছে। এবং এই বৈশিষ্ট্যই চন্দননগরকে বিশেষ মর্যাদা প্রদান করেছে।”

ছবির উৎস, Getty Images
ঐতিহ্যের মেল বন্ধন
ভারত আর ফ্রান্সের শিল্প ও সংস্কৃতিগত আদানপ্রদান দুই দেশের সম্পর্ককে আরও বর্ণময় করে তুলেছে। সে বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে কলকাতায় ফ্রান্সের কনসাল জেনারেল দিদিয়ের তল্পেঁ তার ছেলেবেলার কথা বলছিলেন।
স্মৃতি মেদুর হয়ে তিনি বলেন, “আমাদের প্রজন্মের, বা আমার বাবা-মা বা তারও আগের প্রজন্মের কোনও ফরাসি নাগরিককে জিজ্ঞাসা করলেই তিনি ভারতের পাঁচটা উপনিবেশের মধ্যে পন্ডিচেরি আর চন্দনগরের কথা বলতেন।”
“আমিও ছেলেবেলা থেকে ভারতের কথা শুনে বড় হয়েছি, শুনেছি চন্দননগরের কথাও। কিছুটা ইতিহাস থেকে জেনেছি আর বাকিটা মনে মনে ছবি এঁকে নিয়েছি, বাচ্চারা যেমন করে থাকে।"
"অনেকটা জুল ভার্নের গল্পের মতো, কল্পনায় ভর্তি। সেই কল্পনায় রাজা-মহারাজা ছিল, বিশাল প্রাসাদ ছিল এবং আরও অনেক কিছু ছিল।”
কাজের সূত্রে একটা সময়ে কলকাতাতেই আসতে হয় মি তল্পেঁ-কে। সুযোগ মেলে ছেলেবেলার সেই কল্পনা আর বাস্তবকে মিলিয়ে দেখার।
তিনি বলেছেন, “চন্দনগরে পৌঁছে অভিভূত হয়ে পড়ি। খুব নস্টালজিক লাগছিল।“
একটু দম নিয়ে হেসে বললেন, “আমার ছেলেবেলার কল্পনার তুলনায় চন্দননগর আয়তনে ছোট হলেও জায়গাটা ভারি সুন্দর। চারিদিক সবুজে ঘেরা, আর গঙ্গার পাড়ের একটা অদ্ভুত সৌন্দর্য আছে। পাশেই চন্দননগর স্ট্র্যান্ড। আমার খুব ভাল লেগেছিল। রেজিস্ট্রি বিল্ডিংটা দেখার মত। এই ঐতিহ্যবাহী ভবনকে আমরা পুনরুদ্ধারের কাজ করছি।”
পুনরুদ্ধারের এই কাজ করছেন আর্কিটেক্ট ঐশ্বর্য টিপনিস। চন্দননগর অন্যভাবে ধরা পড়েছে তার চোখে।
“চন্দননগরের রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে আমার চোখে পড়ে দুই দেশের ঐতিহ্যের সঙ্গম। একদিকে ফরাসি স্থাপত্যের নিদর্শন, অন্যদিকে বাঙ্গালিয়ানার ছাপ।"
"রাস্তা দিয়ে হাঁটতে গিয়ে বাড়ির বারান্দায় একটা শাড়ি মেলা আছে, রান্নাঘর থেকে মাছের ঝোলের গন্ধ ভেসে আসছে। সেই বাড়িতে কিন্তু ফরাসি স্থাপত্যের ছাপ।”
“রাস্তারই অন্য দিকে থাকা অন্য একটা বাড়ির বাইরেটা ফরাসি ধাঁচের তৈরি কিন্তু ভেতরে ঠাকুর দালান আছে, পুজো হচ্ছে, ঘণ্টা বাজছে। ভারতীয় আর ফরাসি ঐতিহ্যয়ের এই মেল বন্ধন অন্য কোথাও দেখা যায় না,” তিনি বলছিলেন।

ছবির উৎস, Getty Images
পন্ডিচেরিতেও রয়েছে ফরাসি স্থাপত্যের অভূতপূর্ব নিদর্শন। সে বিষয়ে পন্ডিচেরি ও চেন্নাইতে ফরাসি কনসাল জেনারেল লিজ তালবোঁ বা বলেন, “প্রথমবার পন্ডিচেরিতে এসে আমি অভিভূত হয়ে পড়েছিলাম।"
"সরকারের কাছে আমি কৃতজ্ঞ এত সুন্দর ভাবে ঐতিহ্যবাহী এই ফরাসি স্থাপত্যকে রক্ষা করার জন্য। তবে শুধু স্থাপত্যের মাধ্যমেই নয়, সংস্কৃতি ও কৃষ্টির মাধ্যমেও সেই ঐতিহ্য বহন করে চলেছে পন্ডিচেরি। এখানে ফরাসী ভাষাচর্চার যে চল আছে সেটা উল্লেখযোগ্য।”
দুই দেশের পারস্পরিক সাংস্কৃতিক আদানপ্রদানের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে সাংবাদিক স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য বলেছেন, “ইন্ডো-ফ্রেঞ্চ সাংস্কৃতিক আদানপ্রদানের বিষয়টাও বেশ উল্লেখযোগ্য। কলকাতার সঙ্গে ফরাসি সাহিত্যের একটা যোগসূত্র আছে।”
“ফরাসি সাহিত্যের প্রতি বাঙালিদের একটা আকর্ষণ তৈরি হয়েছিল। বুদ্ধদেব বসু থেকে শুরু করে বহু নাম করা সাহিত্যিক ফরাসি সাহিত্যের অনুবাদ করেছেন। লিটল ম্যাগাজিনের যে ঘরানাটা আছে তাতে ফরাসি সাহিত্যের প্রচুর অনুবাদ ছাপা হয়েছে। হেন কোনও তাবড় ফরাসি সাহিত্যিক নেই যার লেখা বাংলায় অনুবাদ হয়নি।”
একই ভাবে ফ্রান্সকে প্রভাবিত করেছে ভারতীয় সংস্কৃতি। দিদিয়ের তল্পেঁ বলছেন, “ভারত এবং ফ্রান্সের সাহিত্য-সংস্কৃতির সম্পর্ক বহুদিনের। আমি নিজে সঙ্গীত শিল্পী, অপেরা আমার অন্যতম প্রিয় বিষয়। আমি অপেরাতে কন্ডাক্টার হিসাবেও যুক্ত ছিলাম।"
"বিভিন্ন অপেরাতে ভারতীয় সংস্কৃতির ছবি ফুটে উঠেছে বিভিন্ন সময়ে। একটা অপেরাতে ভারতের এক রাজার সঙ্গে নর্তকীর ভালবাসার একটা গল্প তু্লে ধরা হয়েছিল। এটা তো একটা ছোট উদাহরণ, এমন অজস্র উদাহরণ ফ্রান্সে রয়েছে”, জানাচ্ছেন তিনি।

ছবির উৎস, KALYANCHAKRABORTY
বিপ্লবীদের পীঠস্থান চন্দননগর
ফরাসিদের উপনিবেশ থাকাকালীন চন্দননগরের কথা বলতে গেলে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের কথা উঠে আসতে বাধ্য।
চন্দননগরে রাসবিহারী বসু রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অধিকর্তা কল্যাণ চক্রবর্তী বলেন, “চন্দননগর ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে উজ্জ্বল ভাবে লেখা এক নাম। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কর্মকাণ্ডের পীঠস্থান হয়ে উঠেছিল চন্দননগর।”
বিপ্লবী মতিলাল রায়, যিনি শ্রী অরবিন্দের দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন, প্রবর্ত্তক সংঘ স্থাপন করেন চন্দননগরে। বঙ্গভঙ্গের সময়েও চন্দননগরের অবদান উল্লেখযোগ্য।
সেই অধ্যায়ের কথা বলতে গিয়ে উঠে আসে ‘চন্দননগর গ্যাং'-এর কথা। সেই বিপ্লবী গোষ্ঠীতে ছিলেন চারুচন্দ্র রায়, মনীন্দ্র নায়েক, কানাইলাল দত্ত, অরুণ দত্ত-সহ আরও অনেকে, যাদের বিপুল অবদান রয়েছে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে।
রাসবিহারী বসু রিসার্চ ইনস্টিটিউটের আরকাইভিস্ট সৈকত নিয়োগী। তিনি বলেন, “ভারতে বিভিন্ন সময় ঔপনিবেশিক কাঠামো দেখা গিয়েছে, কিন্তু ফরাসিদের বিষয়টা কিন্তু একটু আলাদা।"
"তারা উদার চিন্তার, এবং তার প্রতিফলন পাওয়া যেত সে সময়ের চন্দননগরে। তা ছাড়া এখানে গভর্নর থাকতেন না, তাই চন্দননগরে আরও বেশি উদারচেতা একটা বাতাবরণ থাকত।"
“ধীরে ধীরে স্বাধীন বিপ্লবীদের আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছিল চন্দননগর। ফরাসীদের আওতায় থাকার জন্য ব্রিটিশরা কিন্তু বিপ্লবীদের গ্রেফতার করতে পারতেন না। আরও একটা উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল চন্দননগরে অস্ত্র আইন ছিল না। আলিপুর বোমা মামলায় অভিযুক্ত বিপ্লবীরা তাই সেখানে গিয়েই আশ্রয় নিয়েছিলেন।”
ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামকে ঘিরে নানান বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব সে সময়ে চন্দননগরে আসতেন।
মি নিয়োগী বলেছেন, “ইতিহাসের সেই স্বর্ণযুগের কথা বলতে গেলে কিন্তু চন্দননগরের কথা সব সময় উজ্জ্বল অক্ষরে লেখা থাকবে।”








