আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
বিকেলে ভারত এবং পাকিস্তানে আঘাত হানবে ঘূর্ণিঝড় 'বিপর্যয়'
ঘূর্ণিঝড় বিপর্যয় আজ বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে ভারত এবং পাকিস্তানের উপকূলে আঘাত হানতে পারে। সতর্কতা হিসেবে ইতোমধ্যে ভারত এবং পাকিস্তানে উপকূলীয় এলাকাগুলো থেকে প্রায় দেড় লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা এনডিএমএ বলছে, ঘূর্ণিঝড় বিপর্যয়ের ক্ষয়ক্ষতির কথা মাথায় রেখে দেশটির উপকূলীয় এলাকা থেকে ৮১ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
এদিকে, ভারতে গুজরাটের সওরাষ্ট্র ও কুচ এলাকায় জরুরী অবস্থা জারি করা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের সময় বেলুচিস্তান থেকে করাচি পর্যন্ত যাত্রীবাহী যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বেলুচিস্তান পরিবহন কর্তৃপক্ষ। আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ নিষেধাজ্ঞা আগামী তিন দিন অর্থাৎ ১৭ই জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। কর্তৃপক্ষ বলছে, ঝড় এবং ভারী বৃষ্টির কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী পরিবহন মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানানো হয়।
এনডিএমএ বলছে, ঘূর্ণিঝড় বিপর্যয় গত ছয় ঘণ্টা ধরে উত্তর-পূর্ব দিকে সরে যাচ্ছে। এটি করাচি থেকে ২৪৭ কিলোমিটার এবং কাটি বন্দর থেকে ১৮১ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে।
সংস্থাটি বলছে, ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র ও আশেপাশে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রে সাগর উত্তাল রয়েছে। ঢেউয়ের উচ্চতা সর্বোচ্চ ৩০ ফুট পর্যন্ত বাড়ছে।
বিকেল নাগাদ ঘূর্ণিঝড়টি কাটি বন্দর এবং ভারতের গুজরাট এলাকা অতিক্রম করবে। এসময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত থাকতে পারে।
এটি ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে থারপারকার, বাদিন এবং ঠাঠা জেলায় বৃষ্টিপাত হবে।
সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবেলার প্রস্তুতি
পাকিস্তানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা এনডিএমএ বলছে, এ পর্যন্ত সিনধ প্রদেশে ৮১ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে ৭৫টি আশ্রয় কেন্দ্র।
পাকিস্তান সেনা ও নৌ বাহিনী ও রেঞ্জার্জদের সহায়তায় ঠাঠা, সাজওয়াল, বাদিন থেকে ইতোমধ্যে ৭৩ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
আশ্রয় কেন্দ্রে খাবার ও ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এদিকে, ভারতের গুজরাটে কুচ জেলার জাখো পোর্ট এলাকায় বৃহস্পতিবার আঘাত হানবে বিপর্যয়। উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
সেই সাথে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০-১৩০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে।
ভারতের আবহাওয়া বিভাগ সওরাষ্ট্র ও কুচ জেলায় জরুরী অবস্থা জারি করেছে। সংস্থাটি বলছে যে, বিপর্যয় একটি প্রবল ঘূর্ণিঝড় এবং এর প্রভাবে রাস্তাঘাট, রেললাইন, বাড়িঘর এবং ফসলের ক্ষতি হতে পারে।
দমকা বাতাস ও ভারী বৃষ্টির কারণে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কুচ, দ্বারকা, জামনগর, পরবানদার, রাজকোট, মরবি এবং জুনাগড় এলাকায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতির সার্বক্ষনিক পর্যবেক্ষণ করছে।
জাতীয় দুর্যোগ প্রতিরোধ বাহিনী এনডিআরএফ এর ১২টি দল ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী উদ্ধারকাজের জন্য এরইমধ্যে নিয়োজিত করা হয়েছে। আরো ১৫টি দল জরুরী অবস্থার জন্য তৈরি করে রাখা হয়েছে।
এরআগে বুধবারও পাকিস্তানের সিনধ প্রদেশের সরকার উপকূলীয় কাটি বন্দর, ঠাঠা এবং বাদিন এলাকা থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয়।
একই সাথে করাচির উপকূলীয় এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।
ঘূর্ণিঝড় বিপর্যয়ে পাকিস্তানের ঠাঠা, বাদিন, সাজাওয়াল, থারপারকার, করাচি, মিরপুরখাস, উমারকোট, হায়দেরাবাদ, ওরমারা, টান্ডো আল্লাহইয়ার খান এবং টান্ডো মোহাম্মাদ খান আক্রান্ত হতে পারে।
বুধবার পাকিস্তানের ভবন নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ করাচির ৫৭৮টি ভবনকে অনিরাপদ ঘোষণা করেছে।
করাচির কমিশনার এই ভবনগুলোর তালিকা সিনধ প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলি শাহের কাছে জমা দিয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব ভবনকে দ্রুত খালি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কমিশনারদের।
আর যেসব ভবন এরইমধ্যে খালি করা হয়েছে সেগুলো সিলগালা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
করাচির কমিশনার বলেন, সিনধের মুখ্যমন্ত্রীর আদেশে ভবনের দুর্বল খুঁটিগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
পাকিস্তানের জাতীয় এয়ারলাইন কর্তৃপক্ষ পিআইএ, ঘূর্ণিঝড় বিপর্যয় মোকাবেলায় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
সংস্থাটির মুখপাত্র জানান, আগামীকাল ভোর রাত তিনটা থেকে ঝড়ের প্রভাব বিমানবন্দর এবং বিমান চলাচল পথের উপর পড়তে শুরু করবে।
তিনি বলেন, করাচি এবং সুক্কুর ফ্লাইটের জন্য বিকল্প বিমানবন্দর হিসেবে লাহোর বা মুলতান বিমানবন্দর ব্যবহার করা হবে।
করাচি-সুক্কুর-করাচির মঙ্গলবারের সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বুধবারের ফ্লাইটের বিষয়ে সেদিনের আবহাওয়া অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানান তিনি।
পিআইএ'র মুখপাত্র বলেছেন, বিমানবন্দরের কন্টেইনার, ট্রলি, ডলি, প্রকৌশল সরঞ্জাম, র্যাম্প যানবাহন নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
পার্ক করে রাখা বিমানগুলো যাতে ঝড় ও বাতাসে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় তার জন্য সেগুলো মাটির সাথে আটকে দেয়া হয়েছে।
এছাড়া ঝুঁকির পরিমাপের জন্য একটি ইমারজেন্সি রেসপন্স সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় বিপর্যয়ের কারণে বেলুচিস্তানের ওরমারা এলাকার গওয়াডার জেলায় সাগরের উচ্চতা বেড়ে নোনা পানি স্থানীয় বাড়ি ও দোকানে ঢুকে পড়েছে।
তবে সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন যে, এটি এখনো মারাত্মক কিছু নয়।
পাসনি এলাকার সহকারী কমিশনার মুহাম্মাদ জান বেলুচ বিবিসিকে বলেছেন, “ওরমারার যেসব এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ সেগুলো হচ্ছে আড গর, তাক এবং বিল।”
তিনি বলেন, ওরমারা শহরের পূর্বাঞ্চলে পানির উচ্চতা আবারো বেড়েছে।
সোমবার থেকে এই এলাকার বাড়ি-ঘর ও দোকানপাটে পানি ঢোকা শুরু হয়েছে এবং এখনো তা অব্যাহত আছে।
বিপদের কথা মাথায় রেখে ওরমারার বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় শিবির স্থাপন করা হয়েছে।
তবে বাসিন্দারা এখনো কেউ এসব শিবিরে আসা শুরু করেনি।
মি. বেলুচ বলেন, পাকিস্তান নৌবাহিনীর সহায়তায় ওরমারায় দেড়শো মাছ ধরার নৌকা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, পিসনির কালামাত এলাকায় ঝুঁকির মুখে রয়েছে স্থানীয় ৭০০ বাসিন্দা।
ঝুঁকির মাত্রা আরো বেড়ে গেলে তাদেরকে বিমানে করে সরিয়ে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
গওয়াডার শহরে মাছ ধরার নৌকা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার শুরু হয়েছে।