যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক: বাণিজ্য ঘাটতিকে গুরুত্ব দিয়ে শেষ মুহূর্তের আলোচনায় বাংলাদেশ

ডোনাল্ড ট্রাম্প পারস্পরিক শুল্ক সংক্রান্ত একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে প্রদর্শন করছেন

ছবির উৎস, AFP via Getty Images

ছবির ক্যাপশান, গত এপ্রিলে বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘোষণা আসে
    • Author, সজল দাস
    • Role, বিবিসি নিউজ বাংলা

শুল্ক ইস্যুতে তৃতীয় দফার আলোচনায় অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া সব পণ্যে নতুন করে ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর দুই দফা আলোচনা হলেও ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি দুই দেশ। এই দফার আলোচনা ফলপ্রসূ না হলে পহেলা অগাস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গড়ে ৫০ শতাংশ শুল্ক গুনতে হবে বাংলাদেশকে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক আলোচনায় এবার ইতিবাচক ফল পাওয়ার আশা করছে বাংলাদেশ। ২৯ জুলাই মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসিতে দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) সঙ্গে প্রথম দিনের আলোচনায় করেছে প্রতিনিধি দল।

তৃতীয় দফার আলোচনায় অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে প্রতিনিধি দলের একাধিক সদস্য বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছিলেন, দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

পহেলা অগাস্টের আগেই একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছিলেন তারা।

এক্ষেত্রে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি 'প্যাকেজ প্রস্তাব' দেওয়ার কথা জানান অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক আলোচনার শুরু থেকে বেসরকারি অংশীজনদের এই আলোচনা থেকে দূরে রাখার অভিযোগ থাকলেও এবার তাদের সঙ্গেও সরকার যোগাযোগ করেছে বলে জানা গেছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দীর্ঘদিন যারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা করছেন, যোগাযোগ রাখেন তাদের এই প্রক্রিয়ায় আরও আগেই যুক্ত করা উচিত ছিল।

বাণিজ্য আলোচনার পাশাপাশি ভূ-রাজনৈতিক এবং ভূ-অর্থনৈতিক দিকগুলো বিবেচনায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। বাণিজ্য সহযোগী দেশগুলোর ওপর এই সিদ্ধান্তের প্রভাব কেমন হবে সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে নজরে রাখার কথা বলছেন তারা।

অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলছেন, "আমাদের কাঁধে বন্দুক রেখে যেন অন্য কেউ গুলি চালাতে না পারে, সেদিকেও নজর রাখা দরকার।"

একইসাথে বাড়তি শুল্কের চাপ মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতিও আগেভাগেই শুরু করার কথা বলছেন অর্থনীতিবিদরা।

আরও পড়তে পারেন-
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে

শুল্ক কমাতে বাংলাদেশের প্রস্তাব

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

এ বছর দোসরা এপ্রিল পাল্টা শুল্ক আরোপের পর বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের আবেদনের প্রেক্ষিতে সিদ্ধান্তটি তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন।

সেদিন ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, এই সময়ের মধ্যেই সব দেশের সঙ্গে একটা ন্যায্য সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি বাংলাদেশসহ বেশিরভাগ দেশ।

উল্টো গত সাতই জুলাই প্রধান উপদেষ্টাকে পাঠানো একটি চিঠিতে বাংলাদেশের সব ধরনের রপ্তানি পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর করার বিষয়ে জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যা পহেলা অগাস্ট থেকে কার্যকর হবে বলেও ওই চিঠিতে জানানো হয়।

ওই সময় শুল্ক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতাদের অনেকে।

অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বিবিসি বাংলাকে তখন বলেছিলেন, "যাদের দিয়ে নেগোসিয়েশন (আলোচনা) করানো হচ্ছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে, তারা কি আসলে সেই যোগ্যতা রাখেন সবাই?"

অংশীজনদের সঙ্গে কোনো আলাপ না করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসায় শুল্ক ইস্যুতে ইতিবাচক ফলাফল আসেনি বলেও অভিযোগ করেছিলেন অর্থনীতিবিদরা।

এমন প্রেক্ষাপটে তৃতীয় দফার আলোচনার আগে অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া 'নন ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট' এর কারণে সেই আলোচনাও ছিল সীমাবদ্ধ।

পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ'র একজন শীর্ষ নেতা বিবিসি বাংলাকে বলেন, "আমাদের সঙ্গে সরকার যোগাযোগ করেছে। সমস্যার যৌক্তিক সমাধানে আমাদের কাছে কিছুটা সময় চেয়েছে তারা।"

এছাড়া এখন শুল্ক আলোচনায় বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট বা পিআরআইকেও যুক্ত করেছে সরকার।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন দের লেয়েন

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন

তৃতীয় দফায় আলোচনার আগেই নিজেদের 'চূড়ান্ত অবস্থানপত্র' যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিষয়ক দপ্তর 'অফিস অব দ্য ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ'কে (ইউএসটিআর) পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ। যেখানে শুল্ক কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নানা শর্ত অনুযায়ী বাণিজ্য ঘাটতি কমানোসহ নানা বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে বাংলাদেশ।

সম্প্রতি বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী পাঁচ বছরে দেশটি থেকে সাত লাখ টন গত আমদানি করা হবে। এছাড়া সয়াবিন ও তুলা আমদানি বাড়ানোরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানি থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার কার্যাদেশও দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আগে বোয়িং থেকে ১৪টি বিমান কেনার আদেশটা ছিল, পরে ২৫টা করেছি।"

যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়ার আগে প্রতিনিধি দলের সদস্য জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বিবিসি বাংলাকে জানান, চুক্তির ক্ষেত্রে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোরবিষয়টিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। পহেলা অগাস্টের আগেই একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর কথাও বলেন তিনি।

গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে পাল্টা শুল্ক ইস্যুতে চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইতোমধ্যে জাপানের জন্য ১৫ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়া ১৯ শতাংশ, ভিয়েতনাম ২০ শতাংশ এবং ফিলিপাইনের জন্য ১৯ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করেছে দেশটি।

এছাড়া ১৫ শতাংশে সমঝোতা হয়েছে ইউরোপের সঙ্গেও। এগুলো এবারের আলোচনায় বাংলাদেশকেও সফল হওয়ার আশা জাগিয়েছে।

ওয়াশিংটন ডিসিতে ইউএসটিআরের প্রধান কার্যালয়ে চলছে তৃতীয় দফার এই আলোচনা। যেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে রয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানসহ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কর্মকর্তারা।

আরও পড়তে পারেন-
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুল্ক তালিকা ঘোষণা করেন
ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশের ওপর শুরুতে ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল

অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা যা বলছেন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তৃতীয় দফার আলোচনা নিয়ে আশাবাদি অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, এখনো অনেক দেশের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। তাই পহেলা অগাস্টের আগে ট্যারিফ ইস্যুতে নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

সিপিডি'র সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নন ডিসক্লোজার চুক্তি থাকায় এক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে খুব একটা জানানো হয়নি।

"আশা তো করছি যে কিছু কমবে, এখন কতটুকু কমবে? অন্ততপক্ষে ভিয়েতনামের কাছাকাছি (২০ শতাংশ) আসতে পারি কি না," বলেন তিনি।

মি. রহমান বলেন, এরই মধ্যে কতগুলো প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া হয়েছে, আরও কিছু প্রস্তাবনা ইউএসটিআর এর সঙ্গে তৃতীয় দফার আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে।

এক্ষেত্রে "ইউএসটিআর এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও তাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে" বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।

তিনি বলছেন, "ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্ট এক্ষেত্রে বড় একটা স্টেকহোল্ডার। তারা যখন এটি মূল্যায়ন করবে তখন কেবল বাণিজ্যিক বিষয়গুলোই গুরুত্ব পাবে তা নয়, তাদের চিন্তায় ভূ-রাজনীতি ও ভূ-অর্থনীতির বিষয়গুলোও থাকবে।"

"বাংলাদেশের সঙ্গে অন্য দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কও তাদের বিবেচনায় থাকবে," বলে মনে করেন মি. রহমান।

দেরিতে হলেও শুল্ক আলোচনায় অংশীজনদের যুক্ত করার বিষয়টি ইতিবাচক ফল আনতে পারে বলেই মনে করেন অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন।

তিনি বলছেন, "ফেইল করেছি কি করি নাই এই কনক্লুশনে যাওয়ার সময় এখনো আসে নাই। তবে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আগের প্রস্তুতিতে থাকা ঘাটতি সরকার পূরণ করছে।"

পাল্টা শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের মূল চাহিদা অর্থনৈতিক হলেও এর মধ্যে ভূ-রাজনীতির হিসাব-নিকাশ রয়েছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। চীনের সঙ্গে বাণিজ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টিও এক্ষেত্রে গুরুত্ব দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলছেন, "এপর্যন্ত ট্যারিফ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কয়েকটি দেশের ডিল (চুক্তি) হয়েছে। কারণ সব দেশই জিও-পলিটিকাল বিষয় মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।"

শুল্ক কমার ব্যাপারে আশাবাদী ব্যবসায়ী নেতারাও। তবে তারা এটাও বলছেন, আলোচনার মাধ্যমে বাড়তি শুল্ক কমে না আসলে দেশের রপ্তানিকারকরা বিপদে পড়বে। বিশেষ করে যারা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বেশি মাত্রায় নির্ভরশীল।

পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ'র একজন নেতা বিবিসি বাংলাকে জানান, "আমরা আশাবাদী, আমাদের কাছে সরকার কিছুটা সময় চেয়েছে।"

তৈরি পোশাক কারখানায় শ্রমিকরা কাজ করছেন

ছবির উৎস, AFP via Getty Images

ছবির ক্যাপশান, শুল্ক আরোপের ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত বড় ধাক্কা খেতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে

বাড়তি শুল্ক মোকাবিলায় প্রস্তুতি থাকাও জরুরি

যুক্তরাষ্ট্রে সঙ্গে আলোচনা চলছে, শুল্ক খানিকটা কমে আসবে এমন আশাও করছে সরকার। তবে বাড়তি শুল্ক কার্যকরের সময়ও চলে এসেছে।

তাই আলোচনার পাশাপাশি সেই চাপ মোকাবিলায় সরকার ও রপ্তানি খাত সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুত রাখার কথা বলছেন অর্থনীতিবিদরা।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আগে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া পণ্যে গড়ে ১৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হতো। কিন্তু বাড়তি শুল্ক আরোপের পর তা যদি ৩৫ শতাংশই থাকে তাহলে এই গড় দাঁড়াবে ৫০ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাড়তি শুল্ক আরোপে বাংলাদেশের পোশাক খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে। কারণ ইউরোপের পর বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই রপ্তানি পণ্যের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র।

বিজিএমইএ'র তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশের মোট বৈশ্বিক রপ্তানির ১৭ থেকে ১৮ শতাংশই যায় যুক্তরাষ্ট্রে। আর্থিক পরিমাণে যা প্রায় আট বিলিয়ন ডলার।

বাড়তি শুল্ক আরোপের ফলে এই খাত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে বলেই মনে করে খাত সংশ্লিষ্টরা। নেতিবাচক প্রভাব পড়বে অন্যান্য রপ্তানি পণ্যেও।

বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব পণ্য রপ্তানি হয় তার মধ্যে রয়েছে– কৃষিপণ্য যেমন, খাদ্যশস্য, বীজ, সয়াবিন, তুলা, গম ও ভুট্টা।

এছাড়া যন্ত্রপাতি এবং লোহা ও ইস্পাত পণ্যও আসে বাংলাদেশে। আর বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি পণ্যের মধ্যে আছে- তৈরি পোশাক, জুতা, টেক্সটাইল সামগ্রী ও কৃষিপণ্য।

ইউএসটিআর এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল এক হাজার ৬০ কোটি ডলার। ওই বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২২০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানির বিপরিতে ৮৪০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছিল বাংলাদেশ।

অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আমদানি নীতি পরিবর্তন করে নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার তুলে নেওয়া ছাড়াও বন্দর ব্যবস্থাপনাসহ অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার।

এছাড়া এই শুল্কনীতির প্রভাব কী হতে পারে সেটিও পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস
ছবির ক্যাপশান, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যু সমাধানে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে, আশা প্রধান উপদেষ্টার

এক্ষেত্রে কেবল সরকারের ওপর নির্ভর না করে ব্যবসায়ীদেরও ভূমিকা রাখার কথা বলছেন অর্থনীতিবিদরা।

তারা বলছেন, বাড়তি যে শুল্ক আরোপ হবে তার কত অংশ বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের দিতে হবে সেটি মার্কিন বায়ারদের সঙ্গে আলোচনা করার সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে ব্যক্তি পর্যায়ে কথা না বলেন সংগঠিতভাবে আলোচনার পরামর্শ তাদের।

অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলছেন, "আমরা যদি অর্গানাইজড ওয়েতে (সংগঠিতভাবে) আলোচনা না করে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করি তার বেনিফিট (লাভ) পাবে ওই বায়াররা।"

পোশাক খাতে আগে থেকে বিদ্যমান ১৫ শতাংশ শুল্কের ভার দুই পক্ষই সমানভাবে বহন করতো। নতুন করে আরোপিত শুল্কের "অর্ধেক অংশ নিলেও তো আমাদের অনেক ব্যবসা টিকবে না," বলেন মি. হোসেন।

তিনি বলছেন, "এই শুল্ক কবে কার্যকর হবে তা নিয়ে এখনো সন্দেহ আছে। কারণ ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বিভিন্ন মন্তব্যের কারণে এ নিয়ে নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তারপরও ট্যারিফ শেয়ারের বিষয়ে আমাদের একটা প্রস্তুতি রাখা উচিত।"

পরিস্থিতি সামলাতে নিজেদের প্রস্তুতি রাখার কথা বলছেন গবেষণা সংস্থা সিপিডি'র সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান।

তিনি বলছেন, "আমাদের ডমেস্টিক প্রিপারেশন অবশ্যই লাগবে। কষ্ট অব ডুয়িং বিজনেস যদি আমি কমাতে পারি তাহলে কিন্তু অতিরিক্ত শুল্কের কিছুটা চাপ আমাদের এক্সপোর্টাররা বহন করতে পারবেন।"

এছাড়া "আমাদের উৎপাদনশীলতা কীভাবে বৃদ্ধি করা যায়, আমাদের লিড টাইম আরও কীভাবে কমানো যায়, এমন নানা বিষয়ে আমাদের চিন্তা, প্রস্তুতি রাখতেই হবে। কারণ এটি এমন একটি সময়ে আসতেছে যখন নাকি এলডিসি থেকেও আদের গ্রাজুয়েমনের টাইম সম্পন্ন," বলেন মি. রহমান।