আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের পার্লামেন্টকে এস জয়শঙ্কর যা জানালেন
বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের সংসদের উচ্চ-কক্ষ রাজ্যসভায় সরকার নিজের থেকেই এক বক্তব্য পেশ করেছে মঙ্গলবার দুপুরে। সেখানে বক্তব্য রেখেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সেই বক্তব্যে তিনি যা বলেছেন:
জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশের নির্বাচনের পর থেকেই সেদেশে যথেষ্ট উত্তেজনা, গভীর মতভেদ বাড়ছিল। ক্রমাগত মেরুকরণও ঘটছিল সেদেশের রাজনীতিতে। এই যখন পরিস্থিতি, তখনই, জুন মাস থেকে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়।
যান ও রেল চলাচল, সরকারি ভবন ও অবকাঠামোর ওপরে আক্রমণ সহ বিভিন্ন সহিংসতা শুরু হয়। সেইসব হিংসাত্মক ঘটনা জুলাই মাস ধরেও চলতে থাকে।
এই পুরো সময় জুড়ে আমরা বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেছিলাম সংযম রাখার জন্য, আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য। আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল এরকম সব রাজনৈতিক শক্তির কাছেই এই আর্জিগুলি রেখেছিলাম।
সুপ্রিম কোর্টের ২১শে জুলাইয়ের রায়ের পরেও গণবিক্ষোভ থামে নি। সেইসময়ের বেশ কিছু সিদ্ধান্ত এবং কর্মকাণ্ড পরিস্থিতিকে আরও ঘোরালো করে তোলে।
‘শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতে হবে’ এই একটিই মাত্র দাবি হিসাবে তুলে ধরা হয় এই পর্যায়ে।
ঘটনাক্রম খুবই গুরুতর মোড় নেয় চৌঠা অগাস্টে। পুলিশকর্মী, থানা ও গার্মেন্টস কারখানাগুলির ওপরে আক্রমণের তীব্রতা বেড়ে যায়, অন্যদিকে সহিংসতার ঘটনাও খুব বেড়ে যায়। ক্ষমতাসীন সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগ করা হয় সারাদেশেই।
বেশ কিছু জায়গায় সংখ্যালঘুদের ওপরে, তাদের ব্যবসাগুলির ওপরে এবং মন্দিরে হামলা বিশেষভাবে উদ্বেগের কারণ হয়ে ওঠে। এর পুরো খতিয়ান এখনও স্পষ্ট নয়।
কারফিউ থাকা সত্ত্বেও পাঁচই অগাস্ট বিক্ষোভকারীরা ঢাকায় জড়ো হন। আমাদের জানা মতে নিরাপত্তা বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকের পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন।
খুব কম সময়ের নোটিশে তিনি সাময়িকভাবে ভারতে আসার অনুমতি চান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ‘ফ্লাইট ক্লিয়ারেন্সের’ জন্যও অনুরোধ আসে আমাদের কাছে।
তিনি গতকাল সন্ধ্যায় দিল্লি পৌঁছিয়েছেন।
বাংলাদেশের পরিস্থিতি এখনও বদলাচ্ছে।
সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন পাঁচই অগাস্ট। তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করার ও অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা দেন।
বাংলাদেশের বসবাসরত ভারতীয়দের সঙ্গে আমাদের কূটনৈতিক মিশনগুলির মাধ্যমে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রয়েছে। প্রায় ১৯ হাজার ভারতীয় নাগরিক সেখানে বসবাস করেন, যাদের মধ্যে প্রায় নয় হাজার ছাত্রছাত্রী। শিক্ষার্থীদের সিংহভাগই জুলাই মাসেই হাইকমিশনের পরামর্শে ভারতে ফিরে এসেছেন।
ঢাকায় আমাদের হাইকমিশন ছাড়াও চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেটে উপ-দূতাবাস রয়েছে। আমরা আশা করব ওই ভবনগুলিতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে সেদেশের সরকার। পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে স্বাভাবিক কাজকর্ম আবারও শুরু করা যাবে বলে আশা করছি।
সংখ্যালঘুদের অবস্থার দিকে আমরা সবসময়ে নজর রাখছি। তাদের সুরক্ষা দিতে বিভিন্ন গোষ্ঠী ও সংগঠন নানা কর্মসূচী নিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এটিকে আমরা স্বাগত জানাই। যতক্ষণ না আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দৃশ্যত পুন:স্থাপিত না হওয়া পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই আমাদের উদ্বেগ থাকবে।
এই জটিল পরিস্থিতিতে আমাদের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীগুলিকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিগত ২৪ ঘণ্টায় আমরা ঢাকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছি।
এটাই এখনকার মতো পরিস্থিতি।
যে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশীর ব্যাপারে সবসময়েই কঠোর জাতীয় ঐক্যমত্য দেখা গেছে, তাদের অত্যন্ত সংবেদনশীল ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে আমি এই আইনসভার সমর্থন প্রত্যাশা করি।