আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
বিবিসি সাংবাদিকের চোখে: বৃহস্পতিবার দিনভর যেমন ছিলো নয়া পল্টনের চিত্র
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপি অফিস এলাকাটি এখন সম্পূর্ণ পুলিশের কব্জায় এবং কার্যালয়ের গেইটে তালা দিয়ে এর সামনে ও আশেপাশের এলাকায় অবস্থান নিয়ে আছে পুলিশ।
তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা নাগাদ ওই কার্যালয়ের সামনের চার লেনের সড়কটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে পুলিশ।
ওই সড়কটিই আসলে নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত এলাকাটিই সাধারণভাবে নয়াপল্টন হিসেবে পরিচিত, যেখানে শনিবারের সমাবেশের অনুমতি চেয়েছিলো বিএনপি।
তবে পুলিশ জানিয়েছে বিএনপিকে সমাবেশ করতে হলে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান আ অন্য কোনো মাঠ করতে হবে। বিএনপি মহাসচিব অবশ্য বলেছেন শনিবার নয়াপল্টনেই সমাবেশ হবে।
নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন ও খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে শনিবার ঢাকায় সমাবেশ করার কথা রয়েছে বিএনপির।
এ সমাবেশকে সামনে রেখে গত কয়েকদিন ধরেই নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের ভিড় বাড়ছিলো।
বুধবার দুপুরে সে কারণেই নয়াপল্টন সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো।
এরপর পুলিশ সড়ক থেকে লোকজনকে সরাতে গেলে বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে তাদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয় এবং এ ঘটনায় এক ব্যক্তি মারা যায়। আর আহত হন অনেকেই।
বৃহস্পতিবার দিনের চিত্র কেমন ছিলো
বুধবার সংঘর্ষের পর বিএনপি অফিসে সন্ধ্যায় অভিযানের পর পুরো এলাকা পরিণত হয়েছিলো ভূতুড়ে এলাকায়।
মূল সড়ক ছাড়াও অলিগলিতেও সব দোকানপাট বন্ধ ছিলো । সব অলিগলির প্রবেশমুখেও দেখা গেছে বিপুল সংখ্যক পুলিশের উপস্থিতি।
বৃহস্পতিবার সকালে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মচারীরা ওই এলাকায় যেতে চাইলে পুলিশ নাইটিঙ্গেল মোড়ে ও ফকিরাপুল মোড়ে ব্যারিকেডেই তাদের আটকে দেয়।
তবে অনেককে আবার পরিচয়পত্র দেখিয়ে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার অনুমতি দিতে দেখা গেছে।
বেলা সাড়ে এগারটার দিকে নাইটিঙ্গেল মোড়ে আসেন বিএনপি মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তবে পুলিশ তাকে ব্যারিকেড অতিক্রম করে দলীয় কার্যালয়ের দিকে যেতে দেয়নি।
এ সময় পুলিশ কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার সরকার মি. আলমগীরের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, “এটা এখন ক্রাইম সিন। সেখানে পুলিশের কাজ শেষ না হতে নোবডি ইজ এলাউড।”
এরপর বেশ কিছুক্ষণ পর লোক যাতায়াত বন্ধ করে দেয় পুলিশ এবং এক পর্যায়ে সাংবাদিকদেরও আটকে দেয়া শুরু হয়।
যদিও পরে আবার সাংবাদিকদের বিএনপি কার্যালয়ের সামনে যেতে অনুমতি দেয়।
বেলা আড়াইটার দিকে নাইটিঙ্গেল মোড়ে একদল বিএনপি কর্মী শ্লোগান দিতে শুরু করে। বিকেলে আবারো বিএনপির একদল সমর্থক মিছিল বের করার চেষ্টা করে।
শ্লোগান শোনার সাথে সাথে পুলিশ তা ছত্রভঙ্গ করেছে। এর মধ্যে একবার ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে তাদের সরিয়ে দেয় পুলিশ।
তবে বিকেল সাড়ে চারটার পর বিএনপি অফিসের সামনের সড়ক খুলে দেয় পুলিশ।
এর আগে স্থানীয় ছাত্রলীগ ওই সড়ক দিয়ে মিছিল করে নাইটিঙ্গেল দিয়ে বেড়িয়ে যায়।
অর্থাৎ এরপর থেকে নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে ফকিরাপুল যাওয়া ও আসার সড়কের উভয় পার্শ্বের লেনগুলো উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।
তখন বিএনপি অফিসের সামনে জলকামানসহ পুলিশের গাড়ী ছাড়াও সড়কের দুই পাশেই অনেক পুলিশ সদস্যকে দেখা গেছে।