নয়াপল্টন পরিপূর্ণ বিএনপি নেতাকর্মী-সমর্থকে, বায়তুল মোকাররমে আওয়ামী লীগ

ছবির উৎস, BNP Media Cell/Facebook
ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির সমাবেশের উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছে দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক। আর আওয়ামী লীগের তিনটি সহযোগী সংগঠনের সমাবেশের জন্য বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ প্লাজায় জমায়েত করেছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা।
ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল করে এসে যোগ দিচ্ছেন নয়াপল্টনের সমাবেশে।
বিএনপির এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টন ও আশেপাশের এলাকায় যানবাহন চলাচল একপ্রকার বন্ধই রয়েছে বলা চলে। সেসব এলাকায় ব্যাপক পুলিশের উপস্থিতি রয়েছে।
সমাবেশস্থল নিয়ে দু'দিন ধরে নানা অশ্চিয়তার পর শুক্রবার ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবশে করতে যাচ্ছে দলটি। এজন্য বৃহস্পতিবার রাত থেকেই বিএনপির হাজার হাজার নেতা-কর্মী নয়াপল্টন ও তার আশপাশের এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন। বিএনপির সমাবেশস্থল থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরত্বে সমাবেশ করবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের তিনটি সহযোগী সংগঠন।

সমাবেশে বেশি লোকসমাগম ঘটানোর জন্য বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ ব্যাপক তোড়জোর করেছে গত দু'দিন ধরে।
সমাবেশকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপি নেতা-কর্মীরা বৃহস্পতিবারই ঢাকায় আসতে শুরু করেন।
সকাল থেকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপির বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীদের মিছিল নিয়ে যোগ দিতে দেখা যায় নয়াপল্টনের সমাবেশস্থলে।
দুই দলের পাল্টাপাল্টি জনসমাবেশকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।
বিএনপি অভিযোগ করছে যে সমাবেশের আগে দুইদিনে তাদের ৫০০’র বেশি নেতা-কর্মীকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

বৃহস্পতিবার রাতে সমাবেশস্থল পরিদর্শন করতে গিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভি অভিযোগ করেন যে পুলিশ ‘ঢালাওভাবে’ তাদের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করছে।
“পুলিশ সরকারি দলের সম্পূরক শক্তি হিসেবে কাজ করছে। সরকার ও সরকারের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্বিমুখী আচরণ করছে।”
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ‘নিয়মিত অভিযানের অংশ’ হিসেবে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, “আশুরার প্রস্তুতির মধ্যে দুই বড় দলের সমাবেশ হচ্ছে। তাই সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে সন্দেহজনক ব্যক্তি, নিয়মিত মামলার আসামী ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীদের গ্রেফতার করছি আমরা। এটি আমাদের নিয়মিত অভিযানের অংশ।”
বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী অ্যানি সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণভাবে শান্তিপূর্ণ। কোনো সহিংসতার দিকে আমরা এগোচ্ছি না। কোনো সরকারি এজেন্ডা বাস্তবায়ন হোক, সেই সুযোগ আমরা করে দিতে চাই না।”
আরো পড়তে পারেন:

ছবির উৎস, Bangladesh Nationalist Party?Youtube
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে ঢাকায় প্রবেশের পয়েন্টগুলোতে থাকা চেকপোস্টে পুলিশকে তল্লাশি করতে ও যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে দেখা যায়। সেসময় থেকে গাবতলী, সাভার, টঙ্গী সহ বিভিন্ন এলাকায় গণপরিবহন অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যেতে দেখা যায়।
গণপরিবহনের পাশাপাশি ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক হোটেলেও পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গ্রেফতার করেছে বলে খবর প্রকাশ করেছে বেশ কয়েকটি জাতীয় পত্রিকা। এসব আবাসিক হোটেল থেকেও মূলত বিএনপির সমাবেশে যোগ দিতে আসা নেতা-কর্মীদেরই গ্রেফতার করা হয়েছে বলে উঠে এসেছে পত্রিকাগুলোর খবরে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিএনপি কার্যালয়ের আশেপাশে দলের নেতাকর্মীদের জড়ো হতেও বাধা দিতে দেখা যায় পুলিশকে। সকাল থেকেই নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিপুল পরিমাণ পুলিশের উপস্থিতি দেখা গেছে।
আওয়ামী লীগের তিনটি সহযোগী সংগঠন ও বিএনপিকে বেশকিছু শর্ত দিয়ে শুক্রবার সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। বিএনপি’র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে নয়াপল্টনে তাদের কার্যালয়ের সামনে ও আওয়ামী লীগের সংগঠনগুলোর সমাবেশ হবে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ প্লাজায়।

সমাবেশ স্থলে ব্যাগ বা লাঠি নিয়ে প্রবেশ করা, রাষ্ট্রদোহী বক্তব্য না দেয়া, নির্ধারিত সীমানার বাইরে না যাওয়া সহ মোট ২৩টি শর্ত দেয়া হয়েছে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের তিন সহযোগী সংগঠনকে। দুই দলের সমাবেশস্থলে পুলিশের পাশাপাশি র্যাব, বিজিবি ও আনসারও মোতায়েন থাকবে বলে জানানো হয়েছে ডিএমপির পক্ষ থেকে।
বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের সমাবেশ ছাড়াও বিএনপির সাথে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা ৩৭টি দলও আলাদাভাবে আজ সমাবেশ করবে।
এই দলগুলোর মধ্যে গণতন্ত্র মঞ্চ, গণঅধিকার পরিষদ, ১২ দলীয় জোট, গণফোরাম ও পিপলস পার্টি নয়াপল্টন সংলগ্ন এলাকাতেই বিকেল ৩টার সময় সমাবেশ করবে।
সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে প্রেস ক্লাবের সামনে ও পুরানা পল্টনে সমাবেশ করবে জাতীয়তা সমমনা পেশাজীবী জোট, গণদান্ত্রিক বাম ঐক্য ও জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট।
এছাড়া বিকেল ৪টায় প্রেস ক্লাবের সামনে গণঅধিকার পরিষদের রেজা কিবরিয়া অংশ, বিকেল সাড়ে তিনটায় বিজয় নগরে লেবার পার্টি ও দুপুর তিনটায় কারওয়ার বাজার এফডিসির কাছে সমাবেশ করবে এলডিপি।








