ঢাকায় শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত

ছবির উৎস, Getty Images
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঁচ দশমিক সাত মাত্রার কাছাকাছি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল ১০টা বেজে ৩৮ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে এই ভূমিকম্প হয়।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বিবিসি বাংলাকে জানান নরসিংদীর মাধবদীতে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়েছে।
ভূমিকম্পে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে নগরবাসী। সাধারণ মানুষকে বেরিয়ে সড়কে জড়ো হতে দেখা যায়।
রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে বিবিসি বাংলার সংবাদদাতারা জানান ভূমিকম্পের তীব্রতায় প্রায় সকল স্থানে মানুষ সড়কে নেমে আসে। অনেকের বাসাবাড়ি আসবাব ভেঙে পড়ে এতে।

ছবির উৎস, Sayed Zebal
রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চাকুরীজীবী ফারজানা ন্যান্সি বিবিসি বাংলাকে বলেন হঠাৎ করে সব কাঁপাকাপি শুরু হয় আর "মনে হয় যেন হঠাৎ করে ঝমঝম শব্দে কিছু ভেঙ্গে পড়ছে"।
এসময় তার অফিসের একটি কক্ষের ফলস সিলিং খুলে পড়ে বলেও জানান তিনি।
সাত তলা ভবনের সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসার পর একজন সহকর্মীকে কান্নায় ভেঙে পড়তেও দেখেন বলে জানান মিজ ন্যান্সি।
ভূমিকম্পের সময় ঢাকার হাজারীবাগে অবস্থান করছিলেন ইমরান খান। হঠাৎ করে বাড়িটি 'বাউন্স' হচ্ছে বলে অনুভব করেন তিনি।
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
ভূমিকম্প হচ্ছে বুঝতে পেরে ভবনটি থেকে নিচে নেমে আসেন তিনি। এসময় এলাকার অন্য ভবনের বাসিন্দাদেরও রাস্তায় জড়ো হতে দেখা গেছে বলে জানান তিনি।
একটি পুরাতন ভবনের পাঁচতলায় থাকেন সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসক ইমরান হোসেন। যখন ভূমিকম্প হচ্ছিলো তখন ঘুমাচ্ছিলেন বলে জানান তিনি। হঠাৎ কাঁপুনিতে তার ঘুম ভেঙে যায় এবং "খালি পায়ে একশ্বাসেই নিচে নেমে যান" তিনি।
এই ঘটনার পর পুরাতন বাসা বদলের কথাও ভাবছেন তিনি।
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকেও এনিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেকে। মেহেরুন নাহার মেঘলা নামের একজন সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী লিখেছেন, "এইটা মোটেও ৫.২ এর মতো না! আমার ইহজীবনে এমন প্রাকৃতিক দুলুনি অনুভব করিনাই! পুরা পাক্কা ঘুমটা ভেঙে গেছে!"
উল্লেখ্য, ভূমিকম্পের সাথে সাথে গুগল সার্চের পর সেখানে ভূমিকম্পের মাত্র পাঁচ দশমিক দুই দেখানো হয়েছিল।
"পায়ের নিচে মেইন রোড এর পিচঢালা রাস্তা এ পাশ- ও পাশ টোলতে থাকল! ভূমিকম্প এত শক্তিশালীভাবে এর আগে টের পাইনি কখনো", লিখেছেন সাব্বির রহমান।
"এমন কম্পন জীবদ্দশায় কখনও অনুভূত হয়নি"- লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাইফুল আলম চৌধুরী।
অবশ্য ভূমিকম্প টেরই পাননি, এমনটাও লিখেছেন কেউ কেউ।











