'লোডশেডিং আরো কিছুদিন থাকবে'

লোডশেডিং আরো কিছুদিন থাকবে – বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর এমন বক্তব্য দিয়ে শিরোনাম করেছে দৈনিক যুগান্তর।

তারা লিখেছে সাময়িক সময়ের জন্য পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অবস্থিত দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র পায়রা। ফলে দেশে চলমান লোডশেডিং আরও কিছু দিন থাকবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

ওই খবরে আরো বলা হয়েছে, এলসি খুলতে দেরি হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, কয়লা আমদানি করতে আরও অন্তত ২০ থেকে ২৫ দিন সময় লাগবে। কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশে লোডশেডিং বেড়েছে। প্রায় ১ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং চলছে।

তিনি আরও বলেন, তেলের ব্যাপারেও আমরা হিমশিম খাচ্ছি। এখন ইন্ডাস্ট্রিতে ডাইভার্ট করছি বেশির ভাগ গ্যাস। এছাড়া গরম বেড়ে ৩৮ ডিগ্রির ওপরে চলে গেছে। কোনো কোনো জায়গায় ৪০-৪১ ডিগ্রি। এতে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে গেছে। ফলে লোডশেডিং বেড়েছে।

গরম ও লোডশেডিংয়ে বেহাল জনজীবন - সমকালের প্রধান শিরোনাম। তারা লিখেছে ডলার ঘাটতির কারণে জ্বালানি সংকট। দেশজুড়ে ৯-১০ ঘন্টা লোডশেডিং।

বলা হয়েছে জ্যৈষ্ঠের তীব্র গরমে মানুষের হাঁসফাঁস অবস্থা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মাত্রাছাড়া লোডশেডিং। এতে জনজীবনের ভোগান্তি সীমা ছাড়িয়েছে। ভুক্তভোগীদের বক্তব্য, তাঁরা নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল দিয়ে যাচ্ছেন, তাহলে কেন এই দুর্ভোগ।

দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম – সর্বোচ্চ লোডশেডিং মধ্যরাতে। এ খবরে বলা হয়েছে দেশজুড়ে চলমান তাপপ্রবাহের কারণে দিন ও রাতে গরমের অনুভূতি আলাদা করার উপায় নেই। গভীর রাত পর্যন্ত থাকছে গরমের তেজ। এতে মধ্যরাতের পরও বিদ্যুতের চাহিদা কমছে না।

কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদন রাত ১০টার পর থেকে কমতে থাকে। ফলে গত কয়েকদিন সর্বোচ্চ লোডশেডিং হচ্ছে মধ্যরাতের পর। এই পরিস্থিতি সারা দেশে বিশেষ করে ঢাকার বাইরে।

শনিবার আমেরিকার ভিসা নীতি নিয়ে করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মন্তব্য নিয়ে শিরোনাম করেছে দেশের সব জাতীয় সংবাদপত্র।

নয়া দিগন্তের শিরোনাম আটলান্টিক পেরিয়ে আমেরিকায় না গেলে কিচ্ছু যায় আসে না। শনিবার ঢাকার তেজগাঁও এলাকায় ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা এ মন্তব্য করেন।

খবরে বলা হয় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারো যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে বলেছেন, ভিসা এবং নিষেধাজ্ঞার মতো বিষয়গুলো নিয়ে তারা চিন্তা করতে চান না।

একই বিষয় নিয়ে ইংরেজি দৈনিক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড শিরোনাম করেছে Does not matter if someone does not go to US: PM এতে বলা হয়েছে ২০ ঘন্টা প্লেন জার্নি করে আমেরিকায় না গেলে কিছু যায় আসে না। পৃথিবীতে অন্য অনেক মহাদেশ আছে বন্ধুত্ব করার জন্য।

ইসির তুঘলকি কান্ড! ইত্তেফাকের অন্যতম প্রধান শিরোনাম। খবরটি কয়েকটি আসনের সীমানা পরিবর্তন নিয়ে। এতে বলা হয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র ছয় মাস আগে কঠোর গোপনীয়তা অবলম্বন করে ১০টি সংসদীয় আসনের সীমানায় পরিবর্তন এনে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

অথচ গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি ৩০০ সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে ইসি যে খসড়া প্রকাশ করেছিল, সেখানে বর্তমান সীমানা বহাল রাখা হয়েছিল।

এ খবরটি নিয়ে সমকালের শিরোনাম মন্ত্রী এমপির তদবিরে বদলে গেল সীমানা। এতে বলা হয় সীমানা পুনর্নির্ধারণে মন্ত্রী-এমপিদের তদবির আমলে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ইসি বলছে, সীমানা নির্ধারণ বিষয়ে কাউকেই পুরোপুরি সন্তুষ্ট করা যায় না। গত ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন কমিশনের খসড়ার ওপর স্থানীয় জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের দাবি-আপত্তি জানানোর সময় দেওয়া হয়েছিল। সেসব দাবি-আপত্তি নিয়ে শুনানি শেষে নতুন সীমানা নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

মূল্যস্ফীতি মাথাব্যথার কারণ হতে পারে – কালের কন্ঠের প্রধান শিরোনাম। এ খবরে বলা হচ্ছে বাজেট প্রস্তাবে সরকার মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশে ধরে রাখার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, এটি কাল্পনিক ও অবাস্তব বলে মনে করছেন দেশের অর্থনীতিবিদরা।

তাঁরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি কমাতে সরকার যে কৌশল নিয়েছে, তা বরং মূল্যস্ফীতি আরো বাড়াতে পারে। এটি সরকারের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এদিকে, ভারতের ওড়িশার ট্রেন দুর্ঘটনার খবরটি প্রথম পাতায় স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের প্রায় সব সংবাদপত্রে। দেশ রুপান্তরের প্রধান শিরোনাম ভারতের রেলে মৃত্যুদূতের তান্ডব। বলা হয় ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ২৮৮। দুই বাংলাদেশি আহত হয়েছেন, নিখোঁজ চার।

তবে দৈনিক কালবেলার খবর আহত ৩ বাংলাদেশি এখন সুস্থ। তাদের শিরোনাম সংকেত বিভ্রাটে ট্রেন দুর্ঘটনা ওড়িশায়। ভারতের বিভিন্ন পত্রিকার বরাত দিয়ে খবরটিতে বলা হচ্ছে সিগন্যালের ভুলের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছেন ভারতীয় রেল কর্মকর্তারা।

সারি সারি লাশ আর অন্ধকারে ভেসে আসে আর্তনাদ – এমন শিরোনাম করেছে দৈনিক সংবাদ। বেঁচে যাওয়া অনেকের অভিজ্ঞতা ঠাঁই পেয়েছে তাদের খবরে।

288 killed in India triple train crash – ইংরেজি দৈনিক নিউ এজের শিরোনাম। তাদের খবরে বলা হয় দুর্ঘটনাস্থল বালাসোরে ট্রেন এখনো ভেঙেচুড়ে পড়ে আছে আবার কিছু একদম উল্টে আছে।

অন্যান্য খবর

জামিন নিয়ে লাপাত্তা অর্ধলাখ আসামি- আরেকটি শিরোনাম ইত্তেফাকের। এতে বলা হয় রাজধানীসহ সারা দেশে জিআর ও সিআর মামলার প্রায় ৫০ হাজার আসামি পলাতক রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, অনেক আসামীর কাছ থেকে নিয়ম-বহির্ভূত সুযোগ পাওয়ায় তাদের খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ।

এমন পরিস্থিতিতে তাদের গ্রেফতারে জোর নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

ছয় মাসেই কয়েক পণ্যের দাম দ্বিগুন - কালের কন্ঠের আরেকটি শিরোনাম। বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের একটা তালিকা তারা খবরটির সঙ্গে জুড়ে দিয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে ডিম, মুরগী, চিনি, পেঁয়াজ ইত্যাদি পণ্যের দাম জানুয়ারি মাসের তুলনায় জুনে এসে বেশ বেড়ে গেছে।

বেশ কিছু পণ্য রয়েছে, যেগুলোর দাম প্রতি মাসেই দফায় দফায় বেড়েছে। পেঁয়াজ ও আদার দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। আয়ের সঙ্গে এই বাড়তি ব্যয়ের হিসাব মেলাতে পারছে না মানুষ। ওই খবরে দাম বাড়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন পণ্যের সরবরাহ কমে যাওয়া এবং উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়া।

টাকার অবমূল্যায়নের কারণেও বেশ কিছু আমদানি পণ্যের দাম বেড়ে গেছে।

শহর থেকে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে ডেঙ্গু – দৈনিক সংবাদের আরেকটি শিরোনাম।

এতে বলা হয় প্রতিদিন ডেঙ্গুজ্বর বাড়ছে। এটি এখন শহর ছেড়ে গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে এডিস মশার আবাসস্থল নির্মুলে আরো গূরুত্ব দেয়া দরকার। না হলে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করছেন তারা।