ইসরায়েলি মন্ত্রীর জেরুসালেমে ঢোকা নিয়ে ফিলিস্তিনিদের কড়া প্রতিক্রিয়া

টেম্পল মাউন্ট বা হারাম আল শরিফে ইতামার বেন-গ্যভির

ছবির উৎস, @itamarbengvir

ছবির ক্যাপশান, ইতামার বেন-গ্যভির (বামে) বলেছেন তিনি এই পবিত্র স্থানে ইহুদিদের উপাসনার অনুমতি দিয়ে আইন পরিবর্তন করতে চান

ইসরায়েলের কট্টর দক্ষিণ পন্থী নতুন জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গ্যভিরের জেরুসালেমের বিতর্কিত চত্বর পরিদর্শনের নিন্দা করেছে ফিলিস্তিনিরা।

মুসলিম ও ইহুদিদের দুই সম্প্রদায়ের কাছেই পবিত্র এই নগরীতে রয়েছে আল-আকসা মসজিদ এবং ফিলিস্তিনিরা মনে করছে পবিত্র এই স্থানে ইসরায়েলি মন্ত্রীর এই সফর “নজিরবিহীন একটা উস্কানি”।

মি. বেন-গ্যভিরকে দেখা গেছে কড়া নিরাপত্তা প্রহরায় ওই এলাকা পরিদর্শন করতে। মি. বেন-গ্যভির ইতোমধ্যেই ফিলিস্তিনিদের প্রতি একটা কঠোর মনোভাব নিয়েছেন, যা নিয়ে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে উদ্বেগ আর আতঙ্ক বাড়ছে।

এই স্থান এখন শুধু মুসলিমদের প্রার্থনাস্থল এবং সেখানে শুধু নামাজীদেরই প্রবেশাধিকার আছে। তবে মি. বেন-গ্যভির অনেক দিন ধরেই ইহুদিদের সেখানে প্রার্থনার অনুমতি দেবার আহ্বান জানাচ্ছেন।

তিনি এক টুইট বার্তায় বলেছেন, ইহুদিদের কাছে টেম্পল মাউন্ট নামে পরিচিত এই স্থান সকলের জন্য।

এই চত্বরের ওপর দাবি নিয়ে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে তিক্ততা ও বিভেদ অনেকদিনের।

নভেম্বরের নির্বাচনের পর নতুন জাতীয়তাবাদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর উত্তেজনা বেড়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বিনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে নতুন সরকার পাঁচ দিন আগে শপথ গ্রহণ করে এবং নতুন সরকারের মন্ত্রী পদ পাবার পর এটাই ছিল মি. বেন-গ্যভিরের প্রথম সরকারি কর্ম তৎপরতা।

হারাম আল শরিফ/টেম্পল মাউন্ট

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, পাহাড় চূড়ার এই স্থানটি মুসলিম এবং ইহুদি, উভয় সম্প্রদায়ের কাছেই খুবই পবিত্র বলে বিবেচিত

স্পর্শকাতর জেরুসালেম

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

পর্বত চূড়ার এই স্থানটি ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের জন্য সবচেয়ে পবিত্র ধর্মীয় স্থান এবং ইসলাম ধর্মে এটি তৃতীয় সবচেয়ে পবিত্র ধর্মীয় জায়গা।

ইহুদিরা বিশ্বাস করে, এখানেই নবী আব্রাহাম তার পুত্র ইসমাইলকে উৎসর্গ করার জন্য নিয়ে এসেছিলেন। এখানেই ছিল বাইবেলে বর্ণিত ইহুদিদের প্রথম ও দ্বিতীয় পবিত্র মন্দির - যা ৭০ খ্রিস্টাব্দে রোমান বাহিনী ধ্বংস করে দেয়। এখানে একটি খ্রিস্টান ব্যাসিলিকাও ছিল যা একই সাথে ধ্বংস হয়।

মুসলমানদের কাছে এই স্থান পরিচিত হারাম আল-শরিফ নামে। প্রথম যুগের মুসলিমরা মক্কার আগে এর দিকে ফিরেই নামাজ পড়তেন এবং মুসলিমদের বিশ্বাস এখান থেকেই নবী ঐশ্বরিক উপায়ে ঊর্ধ্বাকাশে আরোহণ করেন।

মুসলমানরা মনে করেন এই গোটা চত্বরটাই আল-আকসা মসজিদের।

ইহুদি এবং অ-মুসলিমরা ওই চত্বরে যেতে পারেন, কিন্তু সেখানে প্রার্থনা করার অধিকার তাদের নেই, যদিও ফিলিস্তিনিরা সেখানে ইহুদিদের ঢোকাকে ওই চত্বরের স্পর্শকাতর পবিত্র অবস্থানকে বদলানোর পাঁয়তারা হিসাবে গণ্য করেন।

ইসরায়েলের চরম দক্ষিণ পন্থী দল, বর্তমান সরকারের জোটের শরিক, ওৎজমা ইয়েহুদিৎ-এর নেতা মি. বেন-গ্যভির অনেকদিন ধরেই বলে আসছেন যে ইহুদিরা যাতে ওই পবিত্র স্থানে উপাসনা করতে পারে তার অনুমতি দিয়ে তিনি আইনে পরিবর্তন আনতে চান।

Skip X post
X কনটেন্টের জন্য কি অনুমতি দেবেন?

এই নিবন্ধে Xএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত X কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।

সতর্কবাণী: বিবিসির নয় এমন ওয়েবসাইটের কনটেন্টের জন্য বিবিসি দায়ী না

End of X post

'উস্কানিমূলক' সফর

আজ ওই স্থান পরিদর্শনের পর সোনালী গম্বুজবিশিষ্ট ‘ডোম অব দি রক’ বা ‘কুব্বাত আল-শাখরা’র সামনে নিরাপত্তা বেস্টনি পরিবৃত নিজের একটি ছবি টুইটারে পোস্ট করে তিনি মন্তব্য করেছেন “টেম্পল মাউন্ট সকলের জন্য উন্মুক্ত”।

প্যালেস্টিনিয়ান অথরিটি মি. বেন-গ্যভিরের সফরকে উস্কানিমূলক বলে ব্যখ্যা করেছে।

তারা আগেই মি. বেন-গ্যভিরকে এই সফর না করার জন্য হুঁশিয়ারি দিয়েছিল।

আজ তার সফরের পর ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সফরের নিন্দা জানিয়ে বলেছে “উগ্রবাদী মন্ত্রী বেন-গ্যভির আল-আকসায় জোর করে ঢুকেছেন এবং আমরা একে নজিরবিহীন উস্কানি এবং সংঘাতকে বিপজ্জনক মাত্রায় বাড়িয়ে তোলা হিসাবে দেখছি।”

এএফপি বার্তা সংস্থা জানাচ্ছে, ফিলিস্তিনি গোষ্ঠি হামাস যারা গাযা ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে, তারা এটাকে “অপরাধ” হিসাবে আখ্যা দিয়েছে এবং প্রতিজ্ঞা করেছে এই স্থান “ফিলিস্তিনি, আরব ও ইসলাম ধর্মের মানুষের জন্যই থাকবে।”

আর এই স্থানের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা দেশ জর্ডান মি. বেন-গ্যভিরের আল-আকসায় এভাবে আকস্মিক ঢুকে পড়াকে “সবচেয়ে তীব্র” ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে।

অতীতে আরবদের বিরুদ্ধে বর্ণ-বিদ্বেষী আচরণে উস্কানি দেবার দায়ে ইতামার বেন-গভ্যির দোষীও সাব্যস্ত হয়েছিলেন।

এই পবিত্র স্থান নিয়ে ইসরায়েলের সাথে উত্তেজনা বৃদ্ধির জেরে ২০২১ সালের মে মাসে হামাস জেরুসালেমকে লক্ষ্য করে রকেট ছোঁড়ে এবং এর ফলে ইসরায়েলের সাথে ১১দিন ধরে লড়াই চলে।

ইসরায়েলের দক্ষিণপন্থী নেতা আরিয়েল শ্যারন ২০০০ সালে বিরোধী নেতা হিসাবে ওই স্থান সফর করলে তা ফিলিস্তিনিদের প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ করে। এর পরবর্তীতে যে সহিংসতা হয় তা দ্বিতীয় ফিলিস্তিনি অভ্যুত্থান বা ইনতিফাদায় রূপ নেয়।