আইএসের মোকাবেলায় ৩০টি দেশের প্রতিশ্রুতি

paris meet

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, আইএস জঙ্গীদের মোকাবেলার কৌশল নিয়ে প্যারিসে ৩০ দেশের বৈঠক

ইসলামিক স্টেস্ট জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে, ইরাককে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ৩০টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।

সোমবার প্যারিসে আন্তর্জাতিক এক সম্মেলনে, এই অঙ্গিকার করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সমন্বিত হামলার ব্যাপারে এই সম্মেলনে সমঝোতা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয় গত সপ্তাহে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এ বিষয়ে তার কৌশল ব্যাখ্যা করেন।

এরপর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি এই পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে সফর করেন।

প্যারিস থেকে বিবিসির সংবাদদাতা লুসি উইলিয়ামসন জানাচ্ছেন, ইসলামিক স্টেটের হাতে ব্রিটিশ ত্রাণকর্মী ডেভিড হেইন্‌সের শিরশ্ছেদের পর এই সামরিক পরিকল্পনা তৈরির গতি আরো বৃদ্ধি পায়।

প্যারিসের এই সম্মেলন উদ্বোধন করতে গিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রান্সোয়া ওলান্দ বলেছেন, তাদের এই সম্মেলনের লক্ষ্য হলো ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইরাককে সমর্থন করা।

তিনি বলেন এই জঙ্গী গোষ্ঠী শুধু ইরাকের প্রতি হুমকি না, তারা মধ্যপ্রাচ্য, এমনকি পুরো বিশ্বের জন্য তারা এক বড় হুমকি।

মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যের ১০টি সুন্নি রাষ্ট্র যোগ দেবে বলে জানিয়েছে।

এই সম্মেলনের সহ-উদ্যোক্তা হলেন ইরাকের প্রেসিডেন্ট ফুয়াদ মাসুম।

তিনি কিন্তু বলছেন, শুধুমাত্র সামরিক সমাধান দিয়ে ইসলামিক স্টেটের হুমকির জবাব দেয়া যাবে না। তিনি বলেন, যে সংখ্যায় বিদেশি যোদ্ধারা ইসলামিক স্টেট-এ যোগ দিচ্ছে, তাতে হুমকির মাত্রা আগের যে কোন সময়ের তুলনায় বেড়ে গেছে।

বিবিসির সংবাদদাতারা জানাচ্ছেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ইসলামিক স্টেট-এ বিরুদ্ধে পদেক্ষপ গ্রহণে গোড়াতে অনীহা দেখালেও, এই সংগঠনটি ইরাক ও সিরিয়ার এত বিশাল এলাকা এরই মধ্যে দখল করেছে যে এটি নিয়ে তারা রীতিমত দুর্ভাবনায় পড়েছেন।

মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ-এর হিসেব অনুযায়ী প্রায় ৩০ হাজার যোদ্ধা ইসলামিক স্টেট-এর হয়ে বর্তমানে লড়াই চালাচ্ছে।