শ্রীলঙ্কায় এক লাখ টন চাল রপ্তানি করবে বাংলাদেশ

ছবির উৎস,
- Author, আফরোজা নীলা
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
বাংলাদেশ সরকার চলতি বছর শ্রীলঙ্কায় ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টন চাল রপ্তানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, চালের সন্তোষজনক মজুদ থাকার কারণে চাল রপ্তানির এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চালে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও চাল রপ্তানি করার মতো অবস্থায় এখনও পৌঁছায়নি।
মি. আহমেদ জানিয়েছেন, চালের উৎপাদন ও সরকারি মজুদ পর্যালোচনা করে খাদ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টন চাল রপ্তানি করা সম্ভব।
এই রপ্তানির ফলে মজুদের ওপর কোন চাপ পড়বে না বলেই শ্রীলংকায় চাল রপ্তানির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, “চালেতো এখন আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ। খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রেখে চাইলে আপাতত আমরা ৫০ থেকে এক লাখ টন চাল রপ্তানি করতে পারি। এর আগে সুগন্ধি চাল রপ্তানি শুরু করেছি, যদিও সীমিত পরিসরে।”
তিনি বলেন, “শ্রীলঙ্কা আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশ। তারা আমাদের কাছ থেকে মোটা চাল ক্রয় করতে চায়। সুতরাং খাদ্যে নিরাপত্তা বজায় রেখেই চাল রপ্তানি করবো।”
বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর সীমিত পরিমাণে সুগন্ধি চাল রপ্তানি হলেও বড় পরিসরে সিদ্ধ চাল রপ্তানি এর আগে হয়নি।
সুগন্ধি চাল ছাড়া অন্য সব ধরনের চাল আগামী বছরের জুন মাস পর্যন্ত রপ্তানি করা নিষিদ্ধ রয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জানিয়েছেন সিদ্ধ বা মোটা চাল রপ্তানির ক্ষেত্রে গত বছর যে সার্কুলার জারি করা হয় তা সংশোধন না করে মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তিপত্র নিয়ে এই চাল রপ্তানি করা সম্ভব।”
কৃষি অর্থনীতিবিদরা বলছেন , সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে চালের উৎপাদন বেশ সন্তোষজনক, এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও চাল রপ্তানি করার মতো অবস্থায় এখনও পৌঁছায়নি বাংলাদেশ।
ড: কাজী শাহাবুদ্দিন বলেছেন, “বাংলাদেশতো এখনও বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানি করে। তার মানে ওই অর্থে বাংলাদেশ এখনও একেবারে পুরোপুরিভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়।”
“কোনো বছর যদি দুর্যোগ হয় সে বছরতো এক থেকে দুই মিলিয়ন টন চাল আমদানি করা হয়। এই যখন অবস্থা তখন যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুদ না থাকে, তাহলেতো সেটা ঠিক হবে না।” বলেন মি. শাহাবুদ্দিন।








