ভোটের দিন সহিংসতায় অন্তত ১২ জন নিহত

বাংলাদেশে নির্বাচন কেন্দ্রিক সহিসংতায় আজ অন্তত বারজন নিহত হবার খবর পাওয়া গেছে। এসব সহিংসতা হয়েছে ফেনী, লক্ষীপুর, উত্তরাঞ্চলীয় জেলা রংপুর, নিলফামারী এবং দিনাজপুর এবং ঠাকুরগাঁওয়ে ।
রোববার ভোর রাত থেকে শুরু করে দিনভর এসব ঘটনা ঘটে। পুলিশ এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন নিহতদের বেশিরভাগই বিরোধী জোটের সমর্থক।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী রংপুরের পীরগাছায় দুটি ভোটকেন্দ্রে আগুন দিতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। গোলাগুলিতে দুইজন নিহত হয়। নিহত ব্যক্তিরা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী বলে দাবী করছে পুলিশ। তবে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মকবুল হোসেন জানিয়েছেন তারা মৃতদেহ পাননি।
অন্যদিকে নিলফামারীর ডিমলা এবং জলঢাকা উপজেলায় পুলিশের গুলিতে দুইজন নিহত হয়েছে বলে স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন। সেখানেও ভোরের দিকে নির্বাচনী সরঞ্জাম পুড়িয়ে দিতে গেলে পুলিশ গুলি চালায়। পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী দুটি ভোটকেন্দ্র আক্রমণ করতে গেলে পুলিশ গুলি চালায় এবং তাতে একজন নিহত হয়। ফেনীতেও সংঘর্ষে একজন মারা গেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে একজন আনসার সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। দিনাজপুরে মোট তিনজন নিহত হবার খবর পাওয়া গেছে।
এছাড়াও সহিংসতায় ঠাকুরগাঁওয়ে দুইজন, ফেনীতে দুইজন এবং লক্ষীপুরে একজন নিহত হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।
এদিকে সকাল আটটায় ১৪৭টি আসনে বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতার কারণে প্রায় ১৪০টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। ঢাকায় নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন , ভোটকেন্দ্রে আগুন, ব্যালট পেপার পুড়িয়ে দেয়া কিংবা ছিনিয়ে নেয়ার কারণে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়।

এদিকে সকালে ভোটকেন্দ্রে আগুন, হামলা, হরতাল-বর্জন আর উদ্বেগ উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে নানা বিতর্কের জন্ম দেয়া দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
সকাল আটটায় শুরু হয়ে ভোটগ্রহণ চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এই নির্বাচনে দেশটির প্রধান বিরোধীদল বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট অংশ না নিয়ে নির্বাচন ঠেকানোর ঘোষণা দিয়ে রেখেছে।
সারা দেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে অবরোধের পাশাপাশি বিরোধীরা ৪৮ ঘণ্টার হরতালও পালন করছে সারা দেশে। ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ভোট পূর্ববর্তী সহিংসতায় হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।
ভোটকেন্দ্রে হামলা, আগুন, ভোট-সরঞ্জাম লুট, অস্ত্র লুটের ঘটনার খবর আসছে বিভিন্ন জেলা থেকে।
নভেম্বরে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই প্রধান বিরোধী দল বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবীতে নানা কর্মসূচি পালন করেছে। চলেছে দেশি বিদেশী নানা তৎপরতা। কিন্তু তারপরও নির্বাচন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোন আপোস না হওয়ার প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিতর্কিত নির্বাচনের ভোটগ্রহণ।








