বিএনপি ছাড়া নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবেনা : আওয়ামী লীগ এমপি

বাংলাদেশ সংলাপে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একজন সংসদ সদস্য বলেছেন বিরোধী দল বিএনপিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। সিলেটের মেয়র বলেছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘাত এড়াতে সরকারকেই দায়িত্ব নিতে হবে।
শনিবার সিলেটের নজরুল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংলাপের এ পর্বে দর্শকদের অনেকেই দুর্নীতি দমন কমিশনের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। ইলিয়াস আলী সহ গুম হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের খুঁজে পেতে সরকারের ভূমিকা এবং জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার রিভিউ-এর সুযোগ সহ বিভিন্ন ইস্যু আলোচনায় উঠে আসে।
সংলাপের এ পর্বে প্যানেল আলোচক ছিলেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হাফিজ আহমদ মজুমদার, সিলেটের মেয়র ও বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট থেকে প্রকাশিত দৈনিক পুণ্যভূমি পত্রিকার সম্পাদক মুকতাবিস-উন-নূর চৌধুরী এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক তাহমিনা ইসলাম।
অনুষ্ঠানে প্রথম প্রশ্ন করেন ইসরাত জাহান ইভা। তিনি জানতে চান পদ্মা সেতু প্রকল্পকে ঘিরে কথিত দুর্নীতির অভিযোগে কানাডায় বাংলাদেশের সাবেক একজন প্রতিমন্ত্রীর অভিযুক্ত হওয়ার বিষয়টি কি দুর্নীতি দমন কমিশনকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে ?
জবাবে সিলেটের মেয়র বলেন, “অবশ্যই এটা দুর্নীতি দমন কমিশনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে রেখেছে। সব জায়গায় প্রমাণিত হয়েছে মন্ত্রী দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন কিন্তু কমিশন কোন ব্যবস্থা নেয়নি। আসলে আগের চেয়ে দুর্নীতি এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে কমিশন কোনভাবেই কাজ করতে পারছেনা”।
মুকতাবিস-উন-নূর চৌধুরী বলেন, “কমিশন যেন অন্য কারো ইশারায় কাজ করে। নামে স্বাধীন হলেও কমিশন অন্যের ইঙ্গিতে পরিচালিত হচ্ছে, তাদের কোন নিজস্বতা নেই”।
তিনি বলেন, “সব সরকারের আমলেই কমিশন আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করে। কোন স্বাধীনতা তাদের নেই। কোন সদিচ্ছাও তাদের নেই”।
তাহমিনা ইসলাম বলেন, “যার নাম আসছে মানুষ সেটা বলেছে। কিন্তু আজ বিদেশের সংস্থা যখন বলছে তখন সুর পাল্টে যাচ্ছে। তাই বিষয়টি নিয়ে আমাদেরও চিন্তিত করেছে তাহলে কমিশনের কার্যকারিতা কোন দিকে এবং স্বাধীন ভাবে কাজ করছে কি-না। সেখানে যারা কাজ করছেন জানিনা তারা কতটুকু স্বাধীন ভাবে কাজ করছেন”।
হাফিজ আহমদ মজুমদার বলেন, “যাই করুক পদ্মা সেতু নিয়ে তার একটা সুষ্ঠু বিচার হোক। আশা করবো প্রকৃত তথ্য যেন বেরিয়ে আসে”।
তিনি বলেন, “কমিশন আগের চেয়ে স্বাধীন। আরও স্বাধীন হলে খুশী হবো। হয়তো কোন সংস্থার কার্যক্রমই আমাদের প্রত্যাশিত পর্যায়ে আসেনি। কিন্তু ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে”।
একজন দর্শক বলেন, “যে সরকার ক্ষমতায় আসে তার কথাতেই দুর্নীতি দমন কমিশন চলে”। আরেকজন দর্শক বলেন, “কমিশন সুষ্ঠুভাবে কোন কাজই করতে পারছেনা”।
কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড
সৈয়দা সাবেরা খাতুন জানতে চান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত আব্দুল কাদের মোল্লাকে সুপ্রিম কোর্ট মৃত্যুদন্ড দিয়েছে। এই রায় রিভিউ এর সুযোগ না পেলে কি তাঁর অধিকার লঙ্ঘিত হবে ?
মুকতাবিস-উন-নূর চৌধুরী বলেন, “সংবিধান অনুযায়ী রিভিউ এর সুযোগ থাকলে সেটা পাওয়া উচিত। না হলে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হবে’।
তাহমিনা ইসলাম বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান। তার রায়ের প্রতি সবার সন্মান দেখানো উচিত। আন্তর্জাতিক সংস্থা যাই বলুক দেশের সংবিধান বা আইন কি বলে সেটাও দেখতে হবে”।
একজন দর্শক বলেন, “রিভিউর সুযোগ পাওয়া উচিত। অন্যথায় বিচার প্রশ্নবিদ্ধ হবে ”। আরেকজন দর্শক বলেন, “৭১ এ যখন মানুষ মেরেছিল তখন কি আইন মেনেছিল ? তখন কি কাউকে জিজ্ঞেস করছিলো যে মারবে কি-না”।
হাফিজ আহমদ মজুমদার বলেন, “যেহেতু মৃত্যুদণ্ড সেহেতু আইনের শেষ সুযোগ তাকে দেয়া কর্তব্য বলে আমি মনে করি। আইনের সব সুযোগ দেয়া উচিত। তবে রায়কে কোনভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবেনা”।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “আশা করি তাকে রিভিউর সুযোগ দেয়া হবে। না পেলে অবশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে থাকবে”।
প্রসঙ্গ ইলিয়াস আলী
মো: আব্দুল হান্নান জানতে চান বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী সহ গুম হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে সরকারের আন্তরিকতার কি কোন ঘাটতি দেখা যাচ্ছে ?
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ইলিয়াস আলীর পরিবারকে আশ্বস্ত করেছিলেন। কিন্তু ১৬ মাস পেরিয়ে গেছে। আমরা মনে করি সরকার জানে ইলিয়াস আলীর অবস্থা। সরকারকেই এর দায়িত্ব নিতে হবে”।
হাফিজ আহমদ মজুমদার বলেন, “ এ ধরনের ঘটনা অনেক হয়েছে। অনেককে উদ্ধার করা গেছে আবার কাউকে উদ্ধার করা যায়নি। কোন কিছু হলেই সরকারকে ব্যর্থ বলা ঠিক না। সরকার চেষ্টা করছে”।
তাহমিনা ইসলাম বলেন, “সরকারের সদিচ্ছার অভাব বলবোনা। সরকারের যে সংস্থা কাজ করছে তাদের উপর চাপও আছে। তবে বিষয়টা আরও জোরদার করা উচিত। ইলিয়াস আলী সম্ভাবনাময় ছিলেন রাজনীতির ক্ষেত্রে । তাই সরকারও নিশ্চয়ই গুরুত্ব দিয়ে দেখছে”।
মুকতাবিস উন নূর চৌধুরী বলেন, “সরকার জড়িত তা বলবোনা। তবে সরকারকেই দায়িত্ব নিতে হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ কার্যত ব্যর্থ”।
একজন দর্শক বলেন, “ শুধু সরকারকে দায়ী করলে হবেনা। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে ইলিয়াস আলী বলি হলে কাকে দায়ী করবো ?” আরেকজন দর্শক বলেন, “ইলিয়াস আলীর খবর যদি ১৬ মাসে না পাওয়া যায় তাহলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কি হবে ?”
চলমান রাজনীতি
মাফিজুছ সামাদ চৌধুরী জানতে চান বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি কি দেশটিকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে ?
তাহমিনা ইসলাম বলেন, “দেশ ইতোমধ্যেই সংঘাতের মধ্যেই আছে। সংকট আরও গভীর হোক আমরা তা চাইনা”।
একজন দর্শক বলেন, “আমরা শুধু সরকারকে দোষ দিচ্ছি। বিরোধী দলের ভূমিকার কথা বলছিনা”। আরেকজন দর্শক বলেন, “সংকট আগামীতে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। চাইবো তার আগেই যেন সরকার ও বিরোধী দল বসে সমস্যার সমাধান করেন”।
মুকতাবিস উন নূর চৌধুরী বলেন, “বাংলাদেশ ক্রমশ গভীর সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এ সংকটের সমাধানের কোন ইঙ্গিত আমরা দেখছিনা”।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “দেশ ক্রমান্বয়ে সংঘাতের দিকে যাচ্ছে। সংঘাত এড়াতে সরকারকেই দায়িত্ব নিতে হবে। বিরোধী দল সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু সরকারের ভয় কিসের ?”
মি: মজুমদার বলেন, “গ্রহণযোগ্য নির্বাচন না হলে সংঘাত এড়ানো যাবেনা। বিএনপিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবেনা। আমি বিশ্বাস করি শেষ পর্যন্ত একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে”।
তৈরি পোশাক শিল্পের মজুরি
পল্লবী সরকার জানতে চান বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত পোশাক শিল্পে সর্বনিন্ম মজুরি নির্ধারণে কি একধরণের তাল-বাহানা লক্ষ্য করা যাচ্ছে ?
হাফিজ আহমদ মজুমদার বলেন, “মজুরি ক্রমাগত বাড়ছে। আমি একটা গার্মেন্টের মালিক। আমি শ্রমিককে কম টাকা দিতে পারবোনা কারণ সে অন্য জায়গায় চলে যাবে। শ্রম বাজারে একটা প্রতিযোগিতা আছে। গার্মেন্ট মালিকরা বিদেশী ক্রেতাদের নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে আসতে পারছেনা”।
মুকতাবিস উন নূর চৌধুরী বলেন, “বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী ন্যূনতম মজুরি ৩৬০০ টাকা দিয়ে একটা ছোট পরিবারও চলতে পারেনা। আবার মালিকদের বিষয়টিও দেখতে হবে। উভয় পক্ষের মধ্যে একটা গ্রহণযোগ্য সমাধান দরকার”।
তাহমিনা ইসলাম বলেন, “আলোচনা চলছে। আশা করি একটা সমাধান আসবে”।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “ঢাকা বা আশপাশের এলাকায় ৩৬০০ টাকা কিছু না। এসব এলাকার জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনা করে মজুরি নির্ধারণ করা হোক”।
বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে চলতি সপ্তাহে আলোচিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আপনার কী মতামত?:
এ সরকার এক চোখ।
আরমান, গাজীপুর
গণতন্ত্র কাকে বলে, জনগণ যা চায় তাই তো ? তাহলে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থায় সবচেয়ে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে।
মো: আনোয়ার জাহিদ, ঢাকা।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া আমাদের দেশে অবাধ ও সুষ্ট নির্বাচন অসম্ভব ॥ বিএনপি আর আ-লীগ যেই হোক না কেনো ॥








