বাংলাদেশে আদিলুর রহমান খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল

আদিলুর রহমান খান
ছবির ক্যাপশান, আদিলুর রহমান খানকে গ্রেপ্তার করা হয় ১০ই অগাস্ট
    • Author, রাকিব হাসনাত সুমন
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

বাংলাদেশে মানবাধিকার সংস্থা অধিকার-এর সম্পাদক আদিলুর রহমান খান সহ দুজনের বিরুদ্ধে হেফাজত ইসলামের মতিঝিল সমাবেশে অভিযান নিয়ে তথ্য বিকৃতির অভিযোগে আদালতে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দাখিল করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

পুলিশের দাবি তাদের তদন্তে অধিকার-এর বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন আদিলুর রহমানের স্ত্রী।

গোয়েন্দা পুলিশ বলছে মানবাধিকার সংস্থা অধিকার মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজত ইসলামের সমাবেশে আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ৬১ জন নিহত হওয়ার যে তালিকা প্রকাশ করেছে তা অসত্য এবং বিকৃত। যদিও অধিকার বলেছে তারা এ ধরনের কোন তালিকা প্রকাশ করেনি।

গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে আরও জানিয়েছেন মতিঝিলের অভিযান নিয়ে তথ্য বিকৃতির অভিযোগের তদন্ত শেষে অধিকারের সম্পাদক আদিলুর রহমান খান ও পরিচালক নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

মি: খান গত ১০ই অগাস্ট থেকে কারাগারে আটক রয়েছেন। অন্যদিকে নাসির উদ্দিন পলাতক বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

মি: ইসলাম দাবি করেন গত ৫ই মে মতিঝিলে পুলিশের অভিযানে কেউ নিহত হননি বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

অধিকার-এর বিষয়ে দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন এবং কোন্‌ প্রক্রিয়ায় তদন্তটি পরিচালিত হয়েছে সে সম্পর্কে গোয়েন্দা পুলিশ কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলছেন, রাতের ছবিকে তারা দিনের ছবি করেছে। বিভিন্ন জায়গায় লাশ দেখিয়েছে। এসব নিয়েই তারা তদন্ত করেছেন।

“পরে তাদের কম্পিউটার জব্দ করে ৬১ জনের তালিকা পাই। সামগ্রিক তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছি। অধিকার নিহতদের যে তালিকা করেছিলো তাতে অন্তত চারজন জীবিত ব্যক্তির নাম পেয়েছেন তারা। এছাড়া চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জে নিহতদের নামও তালিকায় রাখা হয়েছে।”

তবে আদিলুর রহমান খানের স্ত্রী সায়েরা রহমান খান বলেছেন আদালতে বিচারের মাধ্যমেই প্রমাণিত হবে পুলিশের দাবি সঠিক কি-না।

তিনি বলেন, “ডিবি মানে তো সরকার। তারা যদি আমাদের তথ্য বা রিপোর্ট ভুল মনে করে তাহলে সেটা বিচারের মাধ্যমেই প্রমাণ করতে হবে তাদের।”

নিহতের সংখ্যা নিয়ে গোয়েন্দা পুলিশের তদন্ত সম্পর্কে সায়েরা রহমান খান বলেন শুধু অধিকারই নয়, আরও অনেক দেশী-বিদেশী অনেক সংস্থা এবং সংবাদপত্র নিহতদের বিষয়ে নানা ধরনের সংখ্যা উল্লেখ করেছে।

তিনি বলেন, “শুধু তো অধিকার নয়, আরও অনেক সংস্থা নিহতের সংখ্যা উল্লেখ করেছিল। তাহলে সবাই বলুক তারা কীভাবে সেটা পেয়েছে।”

শাপলা চত্বর থেকে হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের সরিয়ে দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে অভিযান চালায়, তাতে ৬১ জন নিহত হয়েছে এমন তথ্য অধিকারের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল।

এরপর সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে তারা অধিকারের কাছে ‘নিহত’ ৬১ জনের নাম পরিচয় চেয়ে চিঠি দিলেও অধিকার তথ্য দিতে অস্বীকার করে।

এরপর গত ১০ অগাস্ট আদিলুর রহমান খানকে গ্রেপ্তার করা হয়।