অধিকার অফিসে পশ্চিমা রাষ্ট্রদূত

- Author, সায়েদুল ইসলাম
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মোজেনা বুধবার ঢাকায় মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন।
এ সময় তার সাথে ছিলেন সুইজারল্যান্ড, সুইডেন, ক্যানাডসহ আরো কয়েকটি পশ্চিমা দেশের কূটনীতিক।
অধিকার কর্মকর্তারা বলছেন, আমেরিকান রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকরা ঐ সংগঠনের সার্বিক অবস্থা এবং আদিলুর রহমান খানের ব্যাপারে খোজঁখবর নিয়েছেন।
এর আগে জাতিসংঘও এক বিবৃতিতে অধিকারের সম্পাদক আদিলুর রহমান খানকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানায়।
গত মে মাসে ঢাকার শাপলা চত্বরে, হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সরকারি বাহিনীর সহিংসতার বিষয়ে মিথ্যা তথ্য প্রকাশের অভিযোগে মি. খানকে ১০ই অগাস্ট গ্রেফতার করা হয়।
তারপর থেকে সরকারের মন্ত্রীরা বলছেন, মিথ্যে তথ্য দিয়ে তিনি রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন।
কারণ, ঐ রাতের অভিযান সম্পর্কে অধিকার প্রতিবেদন তৈরি করেছে যেখানে ৬১ জন নিহত হয়েছে বলে বলা হয়েছে, কিন্তু তাদের কোন নাম ঠিকানা সংস্থাটি জানাতে পারেনি।
বাংলাদেশের তথ্য মন্ত্রণালয় ওই তালিকার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ চেয়ে চিঠি পাঠালেও অধিকার সে সময় বলেছিল, ওই ঘটনার তদন্তে বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন করলে তারা সেখানে তালিকা দেবে।
তবে আদিলুর রহমান খানকে গ্রেপ্তার এবং কার্যালয়ে তল্লাশির পর, অধিকারের কর্মকর্তারা বলছেন, হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘর্ষের সময় নিহত হয়েছে বলে যে ৬১ জনের যে তালিকা তারা তৈরি করেছেন তাদের নাম ঠিকানা সরকারের কাছে দেয়া না হলেও বাংলাদেশের কিংবা আন্তজার্তিক কোন মানবাধিকার সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কাছে দেয়ার বিষয়টি তারা বিবেচনা করছেন।
সংস্থাটির একজন জেষ্ঠ্য কর্মকর্তা তাসকীন ফাহমিনা বিবিসি বাংলাকে জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই তারা এই এমন সিদ্ধান্তের কথা ভাবছেন।
''আমাদের প্রধান কর্মকর্তারা বাইরে রয়েছে, তারা এলে, আশা করছি দুই একদিনের মধ্যেই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।''
তিনি বলেন, অধিকার কার্যালয় থেকে ল্যাপটপ আর কম্পিউটার জব্দ করার পরে সরকারের কাছে যেহেতু তালিকার একটি অংশ এর মধ্যেই রয়েছে, তাই এই ভিকটিম বা ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপত্তার বিষয়ে সরকারকে জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে।
পাশাপাশি তালিকাটা অন্য মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে থাকলে, তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি আরো জোরদার হবে বলে তিনি মনে করেন।








