বাংলাদেশে মঙ্গলবার পাল্টাপাল্টি হরতালের ডাক

বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধে দন্ডিত জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর গোলাম আযমের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে মঙ্গলবার দেশব্যাপী হরতাল ডেকেছে গণজাগরণ মঞ্চ।
সোমবার বিকেলে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার এই ঘোষণা করেন।
বাম দলের অনুগত ছাত্র সংগঠনগুলো গণজাগরণ মঞ্চের এই হরতালের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছে।
ওদিকে গোলাম আযমের দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীও মঙ্গলবার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী সোমবার সারা দেশে হরতাল পালন করছে। সর্বশেষ এই ঘোষণার ফলে জামায়াতের হরতাল দ্বিতীয় দিনে গড়ালো।
বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষে নিহত ৩
গোলাম আযমের বিরুদ্ধে রায়ের প্রতিবাদে দলের ডাকা দেশব্যাপী হরতালে এ পর্যন্ত তিন ব্যক্তি নিহত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে বিজিবির গুলিতে একজন প্রাণ হারিয়েছে।
পুলিশ বলছে নিহত ব্যাক্তি জামায়াত ইসলামীর স্থানীয় কর্মী।
ওদেক কুষ্টিয়া থেকেও দু'জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির দাবি করছে নিহতরা তাদের কর্মী।
পুলিশ বলছে, ভোর রাতে গাছ কেটে রাস্তা অবরোধের চেষ্টার সময় এলাকার লোকজন তাদের ধাওয়া করে পিটুনি দেয়। এসময় দুইজন নিহত এবং একজন আহত হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এদিকে হরতাল চলার সময় বগুড়ায় ভাঙচুর ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়।
অন্যদিকে হরতাল চলাকালে জয়পুরহাটে রেললাইনের ফিসপ্লেট তুলে ফেলার খবর পাওয়া গেছে।
জয়পুরহাটের পুলিশ বলছে, রেল লাইনের কয়েকটি ফিসপ্লেট খুলে নিলে এক ঘন্টার জন্য রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকে।
পরে ফিস প্লেট তা পূণ:স্থাপন করলে এক ঘন্টা পর রেল চলাচল ঠিক হয়।
হরতালে ঢাকার চিত্র
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে কিছু সংঘর্ষ, ভাঙচুর এবং ককটেল বিস্ফোরনের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় পথচারী এবং সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।
হরতালের কারণে অনেক দোকানপাট এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও, রাস্তায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যানবাহন চলতে দেখা গেছে।
এদিকে রায়ের প্রতিবাদ জানিয়ে শাহবাগে আবারো অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ।
সোমবার দিনের শুরুতেই খুব ভোর নাগাদ ঢাকার কয়েকটি স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে ঝটিকা মিছিল এবং ভাঙ্গচুরের চেষ্টা চালায় হরতাল সমর্থকরা। যাত্রাবাড়ি, শাহজাহানপুর, মিরপুরসহ কয়েকটি স্থানে হরতালের সমর্থনে এসব ঝটিকা মিছিল বের হয়। এর মধ্যে মিরপুরে দুটি যাত্রীবাহী টেম্পোতে আগুন দেয়া হয়। এছাড়াও ডেমরা, জুরাইন এবং রায়েরবাজারসহ কয়েকটি স্থানে ককটেল বিস্ফোরনের ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ এসব হামলার জন্য জামায়াত এবং জামায়াতের ছাত্র সংগঠন শিবিরকে দায়ী করেছে। তবে পুলিশের সাথে হরতালকারীদের কিছুটা বড় আকারে সঘর্ষ হয়েছে যাত্রাবাড়িতে।সেখানে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরনের পর পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে। এসময় সেখানে উপস্থিত কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন।
পুলিশ বলছে, শিবিরের কয়েকজন কর্মী ককটেল বিস্ফোরণ ঘটালে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
তবে যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতের সাবেক আমীর গোলাম আযমের রায় ঘোষণার পর ঢাকায় এর প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামী বা শিবিরের কোন তৎপরতা দেখা যায়নি।
হরতাল চলাকালেও কোন সংঘবদ্ধ পিকেটিং না থাকায় জামায়াতের হরতাল সমর্থক কর্মী-সমর্থকদের সাথেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এদিকে গতকালই হরতাল প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছিল যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে আন্দোলনরত গণজাগরণ মঞ্চ। তবে সকালের দিকে খুব স্বল্প সংখ্যক মানুষেরই উপস্থিতি দেখা গেছে গণজাগরণ মঞ্চে।
দুপুর নাগাদ গোলাম আযমের রায় ঘোষণার পর তখন সেখানে উপস্থিত কয়েকশ’ আন্দোলনকারী শাহবাগ রাস্তার মোড়ে অবস্থান নেন। তারা রায়ের প্রতিবাদে স্লোগান দিতে থাকেন।
কিছুক্ষণ পর শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ থেকে গোলাম আজমের ফাঁসির দাবিতে অবস্থানের ঘোষণা দেয়া হয়।
এর কিছুক্ষণ পরেই একই দাবিতে সেখান থেকে মঙ্গলবার দেশব্যাপী হরতালের ডাক দেয় বাম ধারার ১০টি ছাত্র সংগঠন।








