অধ্যাপক ইউনুসের ন্যূনতম মজুরি প্রস্তাব গ্রহনযোগ্য নয়: এইচ টি ইমাম

প্যানেল সদস্য বাঁ থেকে: প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিনাত হুদা ওয়াহিদ, এবং বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ইকবাল হাসান মাহমুদ।
ছবির ক্যাপশান, প্যানেল সদস্য বাঁ থেকে: প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিনাত হুদা ওয়াহিদ, এবং বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ইকবাল হাসান মাহমুদ।

বিবিসির বাংলাদেশ সংলাপে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেছেন পোশাক শিল্পের জন্য আন্তর্জাতিক ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের যে প্রস্তাব বাংলাদেশে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ ইউনুস দিয়েছেন, সেটি গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রায় একি ধরনের মত দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ইকবাল হাসান মাহমুদ। যদিও তিনি ওই প্রস্তাব মেনে নিলেও বাংলাদেশে গার্মেন্ট ইন্ডাষ্ট্রী চালানো যাবে বলে মত দিয়েছেন।

ঢাকায় বিয়াম মিলনায়তনে সংলাপের আজকের পর্বে আরও আলোচক ছিলেন অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিনাত হুদা ওয়াহিদ।

একজন দর্শক জানতে চান সাভারে রানা প্লাজা ধসের ঘটনার পর নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস পোশাক শ্রমিকদের জন্য আন্তর্জাতিক ন্যুনতম মজুরির যে প্রস্তাব দিয়েছেন সেটি কি গ্রহণ করা যেতে পারে ?

প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেন ওই প্রস্তাবটি গ্রহনযোগ্য নয়। সবার জন্য সমান হলে ক্রেতারা বাংলাদেশে আসবে কেন ?

তিনি বলেন, মালিকদের কেউ কেউ হয়তো অতিরিক্ত করেন কিন্তু বাংলাদেশেও নিয়ম কানুন মেনে চলা অনেক কারখানা রয়েছে। তবে যারা ক্রেতা তাদের অনেক বড় দায়িত্ব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মি ইমাম বলেন, “সবার জন্য একি দর হলে অন্য কেউ আসবেনা। মজুরি বোর্ড হয়ে গেছে। আলোচনা চলছে। এখানে অনেক নিয়ম মেনে চলা কারখানা আছে। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদেরও অনেক বড় দায়িত্ব রয়েছে।”

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন প্রস্তাব যৌক্তিক এবং এতে পোশাক শিল্প চালানো যাবে।

তবে চীন এবং বাংলাদেশের জন্য সমান মজুরি হলে ক্রেতারা বাংলাদেশে আসবে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তাহলে ক্রেতারা বাংলাদেশে আসবেনা কারণ চীনাদের উৎপাদনশীলতা বেশি”।

একজন দর্শক বলেন, "শ্রমিকরা যেন স্বাচ্ছন্দময় জীবনযাপন করতে পারে তার আবেদন করছি"।

জিনাত হুদা ওয়াহিদ বলেন, "শ্রমিকরাই গার্মেন্টস শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। অধ্যাপক ইউনুসের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সুযোগ আছে। সরকার, গার্মেন্টস মালিক সবারই বিস্তারিত আলোচনা করা উচিত"।

রুহুল আমিন গাজী বলেন, "অধ্যাপক ইউনুসের প্রস্তাবটি ভালো। তিনি সঠিক প্রস্তাব দিয়েছেন। মালিকরা সবসময়ই শ্রমিকদের ঠকাচ্ছে। সঠিক মজুরি নিশ্চিত করতে এখুনি ব্যবস্থা নিতে হবে"।

সরকারে সমন্বয়হীনতা ?

আরেকজন দর্শকের প্রশ্ন ছিল সভা-সমাবেশ বন্ধ করা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রীদের ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য কি সরকারের মধ্যে সমন্বয়হীনতার বহিঃপ্রকাশ ?

মি: গাজী বলেন সমন্বয়হীনতার রয়েছে এতে কোন সন্দেহ নাই। কারণ মন্ত্রীরা এক ধরনের কথা বলছে আর এর বাইরে যারা রয়েছে সরকারি দলের তারা আরেক ধরনের কথা বলছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিনাত হুদা ওয়াহিদ বলেন ভিন্নমত হলে সমন্বয়হীনতার হবে কেন ? গণতন্ত্র অর্থই তো বিভিন্ন ধরনের মত প্রকাশ।

মিস জিনাত বলেন, “মন্ত্রী বা সরকারি উচ্চ পদে যারা আছেন তারা ভিন্নমত দিলে সমন্বয়হীনতার হবে কেন। বরং গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই তো হল একি দলের ভিতরে একটি বিষয় নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য”।

একজন দর্শক বলেন, “ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য ঘোলাটে পরিবেশ সৃষ্টি করছে। এর কারণে গণতন্ত্রের ধারা বিঘ্নিত হচ্ছে”।

আরেকজন দর্শক বলেন, “বোঝাই যাচ্ছে দলের মধ্যেই সমন্বয়হীনতার রয়েছে”।

অপর এক দর্শক বলেন মন্ত্রী সভার সিদ্ধান্ত ছাড়াই একজন মন্ত্রী সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ করার কথা বলেছেন এটা সাধারণ জনগণের কাছে কাম্য নয়।

মি: ইমাম হেফাজত ইসলামের অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক ঘটনাবলী উল্লেখ করে বলেন সরকার উৎখাতের একটি ষড়যন্ত্র তারা উদঘাটন করতে পেরেছিলেন। এজন্যই সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে এবং সভা সমাবেশে পূর্বানুমতির কথা বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গ সংলাপ

দর্শক শরীফ মোহাম্মদ সাইফুজ্জামান জানতে চান নির্বাচন কালীন সরকার প্রশ্নে যে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে তা সমাধানে দুই প্রধান দলের মধ্যে কি সদিচ্ছা আদৌ লক্ষ্য করা যাচ্ছে ?

মি: গাজী বলেন সংলাপের জন্য প্রধান দু রাজনৈতিক দলকেই এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, “সংলাপের কখনো আলো জ্বলে আবার কখনো নিভে। এভাবে দেশ চলতে পারেনা। আলো ঠিকমত জ্বালাতে হলে দু দলকেই এগিয়ে আসতে হবে। আমরা চাই শান্তি ও শৃঙ্খলা”।

মিস জিনাত বলেন, "এ মূহুর্তে সংলাপের কোন বিকল্প নেই। দুদলের মধ্যেই সদিচ্ছার অভাব আছে আবার কিছুটা আগ্রহও আছে"।

একজন দর্শক বলেন, "যখন বহির্বিশ্ব থেকে যখন চাপ আসে তখন দুদলই দেখা যায় বেশ উদ্যমী হয়"।

মি: ইমাম বলেন, " সংলাপে আগ্রহের কোন কমতি নেই। কারন নির্বাচনই ক্ষমতায় যাওয়ার একমাত্র পথ। তবে শুধু নির্বাচন নয় অনেক বিষয়েই সংলাপ হওয়া দরকার"।

মি: মাহমুদ বলেন, " প্রধান দু দলের মধ্যেই আস্থার অভাব থাকার কারণেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা বলা হচ্ছে। এজন্যই সংলাপ প্রয়োজন। তবে এর পরিবেশ সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে"।

টিভি ও পত্রিকা বন্ধ কি সমর্থনযোগ্য?

আইরিন আক্তার মুক্তি জানতে চান সরকারি পদক্ষেপের কারনে একটি দৈনিকি পত্রিকা ও দুটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধ হয়ে গেছে, এটি কি সমর্থনযোগ্য ?

মি: মাহমুদ বলেন, "প্রেস ফ্রিডম আছে বলে মনে হয়না। একজন সম্পাদক জেলে, এটা তো গণতন্ত্রের জন্য সহায়ক নয়।"

মিস জিনাত বলেন, "গণতন্ত্র কিন্তু লাগামহীন ঘোড়া নয়। পৃথিবীর কোথাও যা ইচ্ছা বলা যায়না। মিডিয়ার দায়িত্ব রয়েছে"।

দর্শকদের একাংশ
ছবির ক্যাপশান, দর্শকদের একাংশ

মি: গাজী বলেন, "গণতন্ত্রে বিশ্বাস করলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবেনা"।

মি: ইমাম বলেন, "গণমাধ্যম না হয়ে প্রচারের বুলেটিন হলে যা মানুষের মধ্যে হিংস্রতা, রক্তক্ষয় এবং এমন একটা অবস্থান সৃষ্টি হয়, উত্তেজনা বা নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করলে কি তাকে গণমাধ্যম বলবেন ?"

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে চলতি সপ্তাহে আলোচিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আপনার কী মতামত?:

যখন টিভি গুলো শাহবাগের প্রজন্ম চত্বর থেকে সরাসরি দেখাচ্ছিলো তখন কোন সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা হলোনা। তাহলে দিগন্ত আর ইসলামিক টিভি যখন হেফাজতের সমাবেশ সম্প্রচার করছিলো আর অন্য চ্যানেলগুলো এ সমাবেশ নিয়ে মিথ্যাচার করছিলো তখন দিগন্ত আর ইসলামিক টিভি বন্ধ করা হলো। অন্য টিভি কেন বন্ধ করা হলোনা ?

আবুল হাসনাত, রাজশাহী

বিবিসির অনুষ্ঠানটি দেখলাম। অনেকে সমাবেশের পক্ষে কথা বললেন। কিন্তু সমাবেশ থেকে যে ভাংচুর জ্বালাও পোড়াও হল সেটা না বলা দুর্ভাগ্যজনক।

কাজী আনোয়ারুল হক, রিয়াদ

রানা প্লাজার দুর্ঘটনায় আহতদের উপর আমরা ইয়ুথ ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জরিপ সম্পাদন করেছিলাম। জরিপ কাজ করতে গিয়ে তাদের অনেক অজানা কথা জানতে পারি যা আমাদের জন্য লজ্জাজনক। যাদের পরিশ্রমে এ দেশ স্বয়ংসম্পুর্ন অথচ তারা যে মজুরি পায় তাতে তাদের সংসারের চাকা চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। জনাব ইউনুস যে প্রস্তাব করেছেন তা অত্যান্ত যুক্তিযুক্ত এবং তার বাস্তবায়ন অপরিহার্য।

পারভেজ, ঢাকা

ড. ইউনুসের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা গেলে গার্মেন্ট সেক্টরের সমস্যা সমাধানের একটা পথ পাওয়া যেতো। এ ব্যাপারে এ সেক্টরের নীতিনির্ধারকরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একটা পথ বের করতে পারবেন বলে আশা করি।

মো: মোশারফ হোসেন, পাটগ্রাম

এক দলের বিভিন্ন নেতার মতপ্রকাশ যদি গণতান্ত্রিক হয় তবে বিভিন্ন দল এর সভা সমাবেশ কি গণতান্ত্রিক অধিকার নয় ?

রহিম, ঢাকা

সরকার তো আগে থেকেই অধ্যাপক ইউনুসকে চক্ষুশূল ভাবছে। সুতরাং ইউনুসের মতামত যত ভালোই হোক না কেন সরকার বা তাদের প্রতিনিধিরা এই প্রস্তাবের পক্ষে থাকবেনা এটাই সাভাবিক।

মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান, শেরপুর

মিস জিনাত এক প্রসঙ্গে বলেছেন ইসলামের নামে কেউ কিছু বলিলে ইসলামের কিছু আসে যায়না। আমি ও তার সাথে একমত ।

seikh farid, dubai