কীটনাশকের বিষেই ১৪ শিশুর মৃত্যু

ছবির উৎস, no credit
- Author, সায়েদুল ইসলাম
- Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলায় লিচু খেয়ে যে ১৪ শিশু মারা গেছে, তারা মূলত কীটনাশকের বিষক্রিয়ার শিকার হয়েছেন বলেই চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন।
চিকিৎসকরা জানান, তারা মোটামুটি নিশ্চিত যে লিচুতে যে কীটনাশক ব্যবহার করা হয়, সেই কীটনাশকের বিষক্রিয়ার শিকার হয়েছেন তারা।
এ মাসের শুরু থেকে ২৪ তারিখের মধ্যে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একই ধরণের সমস্যা নিয়ে ১৫টি শিশু ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে ১৩ জনই ভর্তির কয়েক ঘন্টার মধ্যেই মারা গেছে। একজন এদের বয়স ২ থেকে ১০ বছরের মধ্যে।
হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ওয়ারেশ সরকার বিবিসিকে জানান, তাঁরা প্রথমে বুঝতে পারছিলেন না ঠিক কি রোগে আক্রান্ত হয়েছে এসব শিশু।
“প্রথমে যখন একজন দুজন রোগী আসতে শুরু করে, আমরা প্রথমে ভাবছিলাম নিপাহ ভাইরাস। কিন্তু রোগটির লক্ষণগুলো ঠিক এই ভাইরাসের সাথে মিলছিল না। তখন আমরা তাদের হিস্ট্রি শুনে জানলাম, তারা সবাই আসছে এমন এলাকা থেকে যেখানে লিচুর বাগান রয়েছে।”
এত বেশি শিশুর মৃত্যুর পর চিন্তিত হয়ে তাঁরা ঢাকায় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটে খবর পাঠান।
সেখান থেকে একটি টিম এসে দিনাজপুরের আক্রান্ত এলাকাগুলোয় গবেষণা চালিয়ে সনাক্ত করে, লিচুতে মেশানো বিষাক্ত কীটনাশকের কারণেই এসব শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, অল্পবয়সী এসব শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায়, অতিরিক্ত পরিমাণের কীটনাশক মেশানো এসব লিচু খেয়ে তারা আক্রান্ত হয়েছেন।
মি. রহমান বলছেন, পোকামাকড় ঠেকাতে লিচুসহ অনেক ধরণের ফল এবং সব্জিতেই কীটনাশক মেশানো হয়। লিচু যখন বাতাসে গাছ থেকে মাটিতে পড়ে ফেটে যায়, তখন কীটনাশকের বিষ ফলে মিশে যায়। আক্রান্ত এলাকার শিশুরা, এরা এসব গাছপালার নিচে খেলে, তারা এসব লিচু খেয়ে বিষে আক্রান্ত হয়।
তিনি জানান, এর আগে ২০০৮ সালে নওগাঁয়, তার পরের বছর ধামরাইতে ঠিক এভাবে কীটনাশক মেশানো সবজি খেয়ে কয়েকজন মারা যান। এ নিয়ে তখন আলোচনা হলে, কীটনাশকের অতিরিক্তি ব্যবহার কিছুটা কমে আসে।
দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, এ জাতীয় ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ কম। কারণ সরকার অনুমোদিত বিক্রেতারাই কীটনাশক বিক্রি করে থাকেন। আবার কৃষকরা তাদের ফসল রক্ষার জন্যেই বাধ্য হয়ে কীটনাশক ব্যবহার করেন। কখনো কখনো কৃষকদের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণেই এ জাতীয় ঘটনা ঘটেছে।
এজন্যে তাঁরা কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি চেষ্টা করছেন বলে জানান।
বিষাক্ত কীটনাশক থেকে বাঁচতে কৃষক ও ভোক্তা, উভয়কেই সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ড. মাহমুদুর রহমান।
তিনি বলেন, অপরিমিত কীটনাশক ব্যবহারের কারণেই ফল বা সবজি বিষাক্ত হয়ে যায়। এগুলো যদি কৃষি দপ্তরের পরামর্শ অনুযায়ী, যথাযথ নিয়ম মেনে ছিটানো হয়, তাহলে সেটি আর ফলে মেশে না। আবার ভোক্তাদের উচিত ফল বা সবজি খাবার আগে ভালো করে সেটি ধুয়ে নেয়া। তাহলেও এসব বিষ এড়ানো যায়।
মি. রহমান বলছেন, পোকা থেকে ফসল বাচাতে কৃষক কীটনাশক ব্যবহার বন্ধ করতে পারবে না। তবে সতর্কতা রক্ষা করা গেলে এ জাতীয় ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে।








