কুকুর নিধন বন্ধের আহবান

ঢাকায় বছরে ২০ হাজার কুকুর মারা হয়
ছবির ক্যাপশান, ঢাকায় বছরে ২০ হাজার কুকুর মারা হয়

জলাতংক রোগ প্রতিরোধের নামে কুকুর নিধন বন্ধ করার আহবান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড সোসাইটি ফর দ্য প্রোটেকশন অব এনিম্যালস৻

বুধবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে জলাতংক দিবস পালনের প্রাক্কালে এই আহবান জানানো হয়৻

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে, বিশ্ব জুড়ে কুকুরের কামড়ে জলাতংক রোগে আক্রান্ত হয়ে বছরে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়৻

ওয়ার্ল্ড সোসাইটি ফর দ্য প্রোটেকশন অব এনিম্যালস বলছে, জলাতংক রোগ মোকাবেলায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যে কুকুর নিধন কর্মসূচী আছে তাতে প্রতিবছর ২০ মিলিয়ন কুকুর মারা হয়।

সংস্থাটি বলছে কুকুর নিধন না করে ভিন্ন উপায়ে জলাতংক রোগ মোকাবেলা করা যায়৻

বাংলাদেশের চিত্র

বাংলাদেশেও প্রতিবছর দুহাজারের বেশি মানুষ জলাতঙ্ক রোগে মারা যায়।

সরকারের রোগ নিয়ন্ত্রন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক বেনজীর আহমেদ বলেন অন্য অনেক রোগের সাথে তুলনা করলে বাংলাদেশে জলাতঙ্ক রোগে মারা যাবার হার নিয়ে উদ্বেগের কারন রয়েছে।

জলাতঙ্ক রোগ মোকাবেলার জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বেওয়ারিশ কুকুর নিধন কর্মসূচী আছে ।

বাংলাদেশেও ঢাকা সিটি করপোরেশন প্রতিবছর বিশ হাজারের মতো কুকুর নিধন করে বলে জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ডা: আজমত আলী।

তবে সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার এলাকায় কুকুরকে টিকা দান কর্মসূচীর আওতায় আনার জন্য বাংলাদেশ সরকার একটি পাইলট কর্মসূচী হাতে নিয়েছে।

ঢাকায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তা কাজী আকরাম বলেন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জলাতঙ্ক রোগ মোকাবেলার জন্য কুকুরকে টিকা দেয়া হয়৻ সেজন্য এটি বাংলাদেশেও সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

মি: আকরাম বলছেন কুকুর নিধন করলে কুকুরের সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। সেজন্য এ উপায় কার্যকরী নয়।

বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তারা বলছেন দক্ষিন এবং দক্ষিন-পূর্ব এশিয়ায় ভারতের পরে বাংলাদেশেই জলাতঙ্ক রোগে মৃত্যুর হার বেশি। রোগ নিয়ন্ত্রন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক আহমেদ বলেন কুকুরদের ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আনা বাংলাদেশের মতো দেশে কঠিন হলেও কুকুর নিধন যে ভালো উপায় নয় সেটি অনেকেই অনুধাবন করতে শুরু করেছেন।

সরকারী পরিসংখ্যানে দেখা যায় বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় তিন লাখ মানুষ কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়। আর যারা জলাতঙ্কে মারা যায় তাদের বেশিরভাগেরই রয়েছে সচেতনতার অভাব ।