'গণবিচার এখনই বন্ধ করুন'

ছবির উৎস, focus bangla
- Author, কাদির কল্লোল
- Role, বিবিসি বাংলা
বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীতে বিদ্রোহের সময় হত্যাকান্ডের ঘটনায় গণহারে বিচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
সংগঠনটি এমন বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করে অভিযুক্তদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বিচারের দাবি জানিয়েছে।
সীমান্ত রক্ষী বাহিনীতে ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬শে ফেব্রুয়ারির বিদ্রোহে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যা করা হয়েছিলো৻
এখন বিদ্রোহের সময় হত্যাকান্ডের ঘটনায় বিচার কার্যক্রম চলছে।
পিলখানায় হত্যাকান্ডের মামলাটিতে সর্বশেষ বুধবার ৩১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এর আগে অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল ৪৩০ জনের বিরুদ্ধে ঢাকায় দায়রা জজের বিশেষ আদালতে।
এই বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
সংগঠনটির কর্মকর্তা মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেছেন, ‘বিদ্র্রোহের অভিযোগে আলাদা আলাদাভাবে অভিযোগ না এনে একসঙ্গে ছয় হাজারের বেশি জওয়ানের বিচার করা হয়েছে। একইভাবে হত্যা মামলাতেও ৮৪৭ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একসাথে একই অভিযোগে বিচার করা হচ্ছে।‘
তিনি বলেন, ‘অভিযুক্ত জওয়ানরা অনেক ক্ষেত্রে অর্থের অভাবে আইনজীবী নিয়োগ করতে পারেননি। আবার অনেক অভিযুক্ত মিলে একসঙ্গে হয়তো একজন আইনজীবী নিয়োগ করেছেন।‘ ফলে অভিযুক্তরা সঠিক আইনী সহায়তাও পাচ্ছে না বলে তারা মনে করেন।
মিস. গাঙ্গুলী উল্লেখ করেছেন, ‘যে মামলায় অভিযুক্তদের মুত্যুদন্ড হতে পারে, সেই মামলায় গণহারে বিচার চালানো সঠিক হচ্ছেনা বলে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ মনে করে৻‘
এই মানবাধিকার সংগঠনটি একটি বিবৃতির মাধ্যমে এখনই এ ধরনের গণবিচার বন্ধের জন্যে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছে৻
মিনাক্ষী গাঙ্গুলী উল্লেখ করেছেন, অভিযুক্তদের আলাদা আলাদাভাবে বা সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ না এনে একসঙ্গে বিচার করা হচ্ছে। একটি ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা ভূমিকা থাকে , সে ভাবে অভিযোগ এনে বিচার করা উচিত বলে তারা মনে করেন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের পক্ষ থেকে এসব বক্তব্য তাদের প্রতিনিধির মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের আইন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে জানানো হয়েছে।
হত্যা মালাটিতে আট’শ’র বেশি অভিযুক্ত রয়েছেন৻ তাদের মধ্যে এক’শ জনের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে কাজ করছেন ফারুক আহমেদ। তিনি বলেছেন, অভিযুক্তের সংখ্যা বেশি হওয়ায় অভিযোগ গঠনের প্রক্রিয়া সংক্ষিপ্ত করা হচ্ছে। এছাড়া বড় সংখ্যক অভিযুক্তের আইনজীবী হয়ে একা তার পক্ষেও সঠিক আইনি সহায়তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
হত্যা মামলাটিতে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মূল বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
আর বিদ্রোহের অভিযোগে সারাদেশে ৪৯টি আদালতে বিচার কাজ শেষ হয়েছে৻
বর্তমানে সাতটি আদালতে বিচার কার্যক্রম চলছে।








