আড়িয়াল বিল প্রতিবাদে পুলিশ নিহত

ছবির উৎস, Focus Bangla
বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জের আড়িয়াল বিলে নতুন বিমান বন্দর নির্মানের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সময় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন পুলিশ নিহত এবং ১২জন গুরুতর আহত হয়েছে ।
আড়িয়াল বিলে বিমানবন্দর নির্মানের সরকারী পরিকল্পনার প্রতিবাদে সোমবার সকালে শতশত মানুষ ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে।
এজন্য সকাল থেকে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে । আড়িয়াল বিল রক্ষা কমিটি নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে এ অবরোধের ডাক দেয়া হয়।
মুন্সিগঞ্জ জেলা পুলিশের একজন কর্মকর্তা হামিদুর রহমান জানিয়েছেন ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে একটি পুলিশের গাড়ির উপর অবরোধকারীরা আক্রমন করে৻
আক্রমনে পুলিশের একজন উপপরিদর্শক মতিউর রহমান নিহত এবং আরও বারোজন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়।

ছবির উৎস, Focus Bangla
বিক্ষোভ সামাল দিতে পুলিশের ঐ গাড়িটি ঢাকা থেকে যাচ্ছিল ।
স্থানীয় সাংবাদিক মনিরুজ্জমান উজ্জ্বল জানিয়েছেন অবরোধের এক পর্যায়ে পুলিশ ও অবরোধকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। বিক্ষোভকারীরা গাছ কেটে রাস্তা ফেলে অবরোধ তৈরী করে ।
আড়িয়াল বিল রক্ষা কমিটি নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে এ অবরোধের ডাক দেয়া হয়।
সহিংসতার আশংকায় সকাল থেকেই অতিরিক্ত পুলিশ মোতাযেন করা হয়েছে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে।
বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের একটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল নতুন আরেকটি আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর নির্মান করার যার নাম হবে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর।
ক্ষমতায় আসার পর ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রথমে এ বিমান বন্দরের জন্য প্রাথমিকভাবে স্থান নির্ধারন করা হয়।
কিন্তু পরে সেখান থেকে সরে এসে ঢাকার কাছে মুন্সিগঞ্জের আড়িযাল বিলে বিমান বন্দর নির্মান করার জন্য স্থান নির্ধারন করা হয়।

ছবির উৎস, Focus Bangla
প্রায় পঞ্চাশ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রস্তাবিত এ বিমান বন্দরের জন্য আড়িয়াল বিলে পচিঁশ হাজার একর জমি অধিগ্রহনের কাজ শুরু করে সরকার ।
এর বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে অনেকেই । তাদের দাবী আড়িয়াল বিলে বিমান বন্দর হলে তাদের ফসলী জমি নষ্ট হবে ।
তবে সরকার বলছে আড়িয়াল বিল এক ফসলী জমি ।
যারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে বলে জানানো হয় সরকারের তরফ থেকে।
বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন সচিব শফিক আলম মেহেদি কয়েকদিন আগে বিবিসিকে বলেন বিমান বন্দরের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের মধ্যে সাধারন মানুষের সম্পৃক্ততা নেই ।
মি: মেহেদি বলেন , “আড়িয়াল বিলে বিমানবন্দর না করে অন্য যে কোন জায়গায় বিমান বন্দর করলে এর চেয়ে বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতো।”
তিনি যুক্তি তুলে ধরেন বিমান বন্দর হলে স্থানীয় মানুষের কর্মস্থান হবে৻








