কাতার বিশ্বকাপ ২০২২: ফুটবলে সমকামীদের বিরুদ্ধে এত বিদ্বেষ কেন?

ফুটবল থেকে হোমোফোবিয়া দূর করার অনেক চেষ্টা চলছে, কিন্তু এই কাজ করতে অনেক সময় লাগবে বলে মনে হচ্ছে।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ফুটবল থেকে হোমোফোবিয়া দূর করার অনেক চেষ্টা চলছে, কিন্তু এই কাজ করতে অনেক সময় লাগবে বলে মনে হচ্ছে।
    • Author, ফার্নান্দো দুতার্তে
    • Role, বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস

ব্রাজিলের একজন ফুটবল দর্শক মিলি ল্যাকোম্ব যখন মাঠে খেলা দেখতে যান, চারপাশের পুরুষ দর্শকদের কাছ থেকে নানা ধরনের অপমানজনক লিঙ্গ-বিদ্বেষী মন্তব্য শুনতে হয়। এগুলো এতটাই বাজে যে তাকে স্টেডিয়াম ছেড়ে চলে যেতে হয়।

"আমার মনে আছে একবার সাও পাওলোতে আমি আমার গার্ল-ফ্রেন্ডের সঙ্গে একটা খেলা দেখতে গিয়েছিলাম", বলছিলেন তিনি।

"আমার পেছনে একটা লোক বসে ছিল। একটা গোল মিস হওয়ার পর সে ভীষণ রেগে গেল এবং আমার সীটের পেছনে লাথি মারতে শুরু করলো। আমি যখন পেছন ফিরে তার মুখোমুখি হলাম, সে আমাকে ধমক দিয়ে চুপ থাকতে বললো, তারপর আমাকে লেসবিয়ান বলে কুরুচিপূর্ণ ইঙ্গিত করলো।"

মিলি ল্যাকোম্বের বয়স ৫৫, তিনি ব্রাজিলের সমকামীদের পক্ষে লেখালেখি করেন। তিনি বলেন, স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখতে গিয়ে তার এত ধরনের বাজে অভিজ্ঞতা হয়েছে যে, তিনি এখন ঘরে বসে টিভিতেই খেলা দেখবেন বলে ভাবছেন। তবে এখনো একদম হাল ছেড়ে দিতে রাজী নন তিনি।

"স্টেডিয়ামে গিয়ে আমি কখনোই নিরাপদ বোধ করি না। একজন নারী হিসেবে না, একজন লেসবিয়ান হিসেবেও নয়। আমাদের বিরুদ্ধে এখানে যে কী পরিমাণ ঘৃণা-বিদ্বেষ রয়েছে, আমাদের যে কত ধরনের হয়রানি আর আগ্রাসী আচরণের মুখোমুখি হতে হয়, বলে বোঝাতে পারবো না", বিবিসিকে বলছিলেন তিনি।

"আমরা নারীরা এবং সমকামী বা এলজিবিটিকিউ কমিউনিটির সবাই ফুটবল ভালোবাসি, কিন্তু এই ফুটবলের লোকজন মনে হয় আমাদের ঘৃণা করে।"

পুরুষদের ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২২ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই এবারের স্বাগতিক দেশ কাতারের সমালোচনা বাড়ছে।

কাতার যেভাবে সমকামী নারী-পুরুষ, উভকামী এবং ট্রান্সজেন্ডার মানুষদের অধিকার দমন করে, সেটি বারে বারে সামনে এসেছে। এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের যারা কাতারে বিশ্বকাপ দেখতে যাবেন, তাদের নিরাপত্তা নিয়ে ইতোমধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটির কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছে, যে কোন মানুষ, তিনি যে জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ, যৌন পরিচয় বা জাতীয়তারই হোন না কেন, তাকে বিশ্বকাপে স্বাগত জানানো হবে। কিন্তু তারা আবার একই সঙ্গে এটাও বলেছে যে, "প্রকাশ্য স্থানে প্রেমের প্রকাশ ঘটানো আমাদের সংস্কৃতির অংশ নয়" এবং স্থানীয় রীতি-নীতি মেনে চলতে সবাইকে হুঁশিয়ার করে দেয়া হয়েছে।

এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের মানুষের ব্যাপারে স্বাগতিক দেশ কাতারের অবস্থান বেশ সমালোচিত হচ্ছে।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের মানুষের ব্যাপারে স্বাগতিক দেশ কাতারের অবস্থান বেশ সমালোচিত হচ্ছে।

ফুটবলে হোমোফোবিয়া বা সমকামিতার বিরুদ্ধে বিদ্বেষ নতুন নয়, এটা আছে গোটা ফুটবল দুনিয়া জুড়েই। এমনকি যেসব দেশের কর্তৃপক্ষ এলজিবিটিকিউ অধিকারের পক্ষে বলিষ্ঠ অবস্থান নিয়েছে, সেসব দেশেও।

ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসে অসহিষ্ণুতা বাড়ছে

বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশগ্রহণের সময় ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসের অধিনায়করা এলজিবিটিকিউ অধিকারের সমর্থনে রঙধনু আর্মব্যান্ড পরবেন, এটাই আশা করা হচ্ছে।

কিন্তু সেখানকার পেশাদার ফুটবলে এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের মানুষের বিরুদ্ধে ঘৃণা-বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ ক্রমশ বাড়ছে। ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেয়া হিসেব অনুযায়ী, গত এক বছরে (২০২১-২০২২) এরকম ১৩০টির বেশি ঘটনা পুলিশ তালিকাভুক্ত করেছে। পাঁচ বছর আগে পুলিশ যখন হতে এরকম তথ্য সংকলন শুরু করেছে, তারপর হতে এটাই সর্বোচ্চ সংখ্যা।

"আমি আমার গার্ল-ফ্রেন্ডদের সঙ্গে খেলা দেখতে গিয়েছি, তাদের চুমু খেয়েছি, কিন্তু একটা ফুটবল স্টেডিয়ামে একজন পুরুষ লোকের হাত ধরে বসে থাকতে আমি স্বস্তি বোধ করবো না", বলছেন পডকাস্ট প্রডিউসার এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড দলের সমর্থক টমি স্টুয়ার্ট, যিনি একজন বাই-সেক্সুয়াল। তিনি আরও বলেন, "আমি এমন এক মানুষ যার শারীরিক উচ্চতা ১ দশমিক ৮৫ মিটার, ওজন ৯৫ কেজি।"

স্টুয়ার্ট বলেন, যেসব খেলা তিনি দেখতে গিয়েছেন, সেখানে সমর্থকদের দিক থেকে তিনি সরাসরি কোন ঘটনা ঘটতে দেখেননি। তবে তার বিশ্বাস, ইংল্যান্ডে বা বাকী বিশ্বে একজন গড়পড়তা ফুটবল দর্শক সাধারণত যে ধরণের হন - বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পুরুষ, হেটারোসেক্সুয়াল এবং অনেক ক্ষেত্রেই মদ্যপ - তার মতো বিরাট গড়নের পুরুষ লোকের জন্যও তারা খুবই ভীতিকর।

অনেক ইংলিশ ফুটবল ক্লাবের এখন এলজিবিটিকিউ সমর্থক গোষ্ঠী আছে, কিন্তু তারপরও মাঠে গিয়ে খেলা দেখা তাদের জন্য ভীতিকর অভিজ্ঞতা।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, অনেক ইংলিশ ফুটবল ক্লাবের এখন এলজিবিটিকিউ সমর্থক গোষ্ঠী আছে, কিন্তু তারপরও মাঠে গিয়ে খেলা দেখা তাদের জন্য ভীতিকর অভিজ্ঞতা।

"আমি নিশ্চিত যে একজন নারী বা এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য পরিস্থিতিটা আরও কঠিন", বলছিলেন স্টুয়ার্ট।

"একদিন আমি একটি ম্যাচ দেখতে গিয়েছি, তখন দেখি আমার চারপাশের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড সমর্থকরা সমকামী-বিদ্বেষী গান গাইতে শুরু করলো। আমি খুবই অস্বস্তি বোধ করছিলাম।"

স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বর্ণ-বিদ্বেষ এবং সমকামী-বিদ্বেষ দমনে ইংলিশ ফুটবল কর্তৃপক্ষ গত কয়েক বছরে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। যেসব ফুটবল দর্শক বাজে আচরণ করবেন, তাদের পুলিশ এখন আটক পর্যন্ত করছে। কিন্তু স্টুয়ার্ট বলছেন, তারপরও সমকামিতার বিরুদ্ধে ঘৃণা থামেনি।

বাজে মেক্সিকান ওয়েভ

মেক্সিকো হচ্ছে আরেকটি দেশ, যারা এই সমস্যায় খাবি খাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার সঙ্গে পরবর্তী বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশ তারাও। স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে দর্শকরা যে 'মেক্সিকান ওয়েভ' বা ঢেউ তৈরি করেন, তা এই দেশের ফুটবল দর্শকদেরই সৃষ্টি। কিন্তু মেক্সিকোর ফুটবল দর্শকদের কুখ্যাতি আছে খেলার মাঠে সমকামী বিদ্বেষী গালাগালির জন্যও। সেটা থামাতে দেশটির ফুটবল কর্তৃপক্ষ অনেক বছর ধরে চেষ্টা করছে।

এমনকি মেক্সিকোর জাতীয় দলের সঙ্গে অন্য দেশের আন্তর্জাতিক ম্যাচের সময়ও এসব চিৎকার, গালাগালি শোনা গেছে।

বিশ্ব ফুটবল সংস্থা ফিফা ২০২১ সালের নভেম্বরে এ কারণে মেক্সিকোকে নির্দেশ দিয়েছিল, তাদের বিশ্বকাপের দুটি কোয়ালিফাইয়িং ম্যাচ দর্শক-শূন্য মাঠে হতে হবে। মেক্সিকোর কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, যারা এরকম অপরাধ করবে, তাদের ৫ বছরের জন্য মাঠে নিষিদ্ধ করা হবে। কিন্তু এবছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এক ম্যাচের সময় এই ঘটনা আবার ঘটেছে।

ইংল্যান্ডের জাস্টিন ফ্যাশানু ১৯৯০ সালে নিজেকে সমকামী বলে স্বীকার করেছিলে প্রকাশ্যে।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ইংল্যান্ডের জাস্টিন ফ্যাশানু ১৯৯০ সালে নিজেকে সমকামী বলে স্বীকার করেছিলে প্রকাশ্যে।

"আমরা মেক্সিকানরা তো এখন এই শ্লোগান বাইরে রফতানিও করার কুখ্যাতিও কুড়িয়েছি", এক সংবাদ সম্মেলনে অগাস্ট মাসে বলেছিলেন মেক্সিকান এলজিবিটি অধিকার কর্মী অ্যান্ডোনি বেলো। এই সমকামী-বিদ্বেষী শ্লোগান নাকি এখন ব্রাজিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের পেশাদার ফুটবল খেলার মাঠেও শোনা যায়।

"আমাদের খেলা থেকে এটা নির্মূল করতেই হবে", বলছেন তিনি।

এলজিবিটিকিউ খেলোয়াড়রা কোথায়?

পুরুষদের ফুটবল এখনো এমন এক ধরণের খেলা, যেখানে প্রকাশ্যে সমকামী বলে স্বীকার করেন এমন খেলোয়াড় অবিশ্বাস্য রকমের কম। আজ পর্যন্ত বিশ্বের সেরা কোন ফুটবল লীগের একজন মাত্র খেলোয়াড় তার ক্যারিয়ারে থাকা অবস্থায় প্রকাশ্যে নিজেকে সমকামী বলে স্বীকার করেছেন। ইংল্যান্ডের জাস্টিন ফ্যাশানু ১৯৯০ সালে এই ঘোষণা দিয়েছিলেন।

টমি স্টুয়ার্টের ধারণা, শত শত ফুটবলার আছেন, যারা সমকামী। "কিন্তু তারা একথা প্রকাশ করছেন না, কারণ যারা এটা প্রকাশ করেন, তাদের যে ধরণের হয়রানির শিকার হতে হয়, তা ভয়ংকর।"

"পুরুষদের ফুটবলে যে একটা বিরাট সমস্যা আছে, এটা হচ্ছে তার সবচেয়ে বড় লক্ষণ", বলছেন তিনি।

এ বছর কাতারে যে বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে, সেখানে এ পর্যন্ত একজন মাত্র খেলোয়াড় আছেন, যিনি প্রকাশ্যে নিজেকে সমকামী বলে স্বীকার করেন। তিনি হচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার জশ ক্যাভালো।

অস্ট্রেলিয়ার জশ ক্যাভালো। এ বছর কাতারের বিশ্বকাপে তিনি একমাত্র খেলোয়াড় যিনি প্রকাশ্যে নিজেকে সমকামী বলে স্বীকার করেন।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, অস্ট্রেলিয়ার জশ ক্যাভালো। এ বছর কাতারের বিশ্বকাপে তিনি একমাত্র খেলোয়াড় যিনি প্রকাশ্যে নিজেকে সমকামী বলে স্বীকার করেন।

পুরুষদের ফুটবলের এই চিত্রকে মেয়েদের ফুটবলের সঙ্গে তুলনা করে দেখা যাক। মেয়েদের ফুটবলে এযাবতকালের সবচেয়ে খ্যাতিমান ফুটবলারদের একজন যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড মেগান র‍্যাপিনো প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, তিনি লেসবিয়ান। তিনি বিয়ে করেছেন বাস্কেটবল খেলোয়াড় সু বার্ডকে।

ইংল্যান্ডের যে নারী দলটি ২০২২ সালে ইউরো কাপ জিতেছে, সেই দলে বেশ কয়েকজন আছেন, যারা লেসবিয়ান।

কিন্তু আফ্রিকায় এই বিষয়টি বেশ বিতর্কিত। বিবিসির রিয়েলিটি চেক ২০২১ সালে এক বিশ্লেষণে দেখেছে, যে ৬৯টি দেশের আইনে সমকামিতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়, তার অর্ধেকই হচ্ছে আফ্রিকায়। এর মধ্যে নাইজেরিয়াও আছে, আফ্রিকা মহাদেশের ফুটবলে যাদের নারী ফুটবল দলের জয়-জয়কার।

নাইজেরিয়ার নারী ফুটবল দল যখন ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হলো, তখন নাইজেরিয়ার ফুটবল ফেডারেশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট সেয়ি আকিনউনমি এজন্যে দলের ভেতরে "লেসবিয়ানিজমকে" দোষারোপ করেছিলেন।

"আমরা অনেক কিছু থেকে বঞ্চিত হচ্ছি"

ইন্দোনেশিয়ায় সমকামিতা আইনের চোখে অপরাধ নয়, কিন্তু সমকামীদের জন্য বিয়ে বা পালক সন্তান নেয়ার ক্ষেত্রে নানা রকম বিধি-নিষেধ দিয়ে রেখেছে।

মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর মতে, সেখানে ব্যাপক বৈষম্যও রয়েছে। জাকার্তার একজন এলজিবিটিকিউ মার্কেটিং কনসালট্যান্ট স্ট্যান যে কোন ফুটবল খেলা দেখতে যান না, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। গত মাসে জাভার একটি স্টেডিয়ামে এক দুর্ঘটনায় ১৩০ জন নিহত হওয়ার অনেক আগে থেকেই তিনি খেলার মাঠ এড়িয়ে চলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড মেগান র‍্যাপিনো (বামে) প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, তিনি লেসবিয়ান।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড মেগান র‍্যাপিনো (বামে) প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, তিনি লেসবিয়ান। ডানে তার স্ত্রী বাস্কেটবল খেলোয়ার্ড সু বার্ড।

"চার বছর আগে আমি একটি খেলা দেখতে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে যেভাবে মানুষ খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে সমকামী-বিদ্বেষী শ্লোগান দিচ্ছিল, তা শুনে আমি চমকে গেছি", বলছিলেন তিনি। স্ট্যান তার পুরো নাম জানাতে অস্বীকৃতি জানান।

"আমাদের জন্য এটা মোটেই নিরাপদ জায়গা নয়। এটা ভীষণ লজ্জাজনক ঘটনা। আমার মতো এলজিবিটিকিউ দর্শকরা, যারা আসলেই ফুটবল ভালোবাসেন, তারা অনেক কিছু থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।"

সমকামী বিদ্বেষের সর্বশেষ শক্ত ঘাঁটি

তবে আশার কথা হচ্ছে, বিশ্ব জুড়ে ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ এবং ফুটবল ক্লাবগুলো এখন তাদের প্রচেষ্টা জোরদার করছে যাতে এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের মানুষকে ফুটবলে সম্পৃক্ত করা যায় এবং তাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা-বিদ্বেষমূলক আচরণ বন্ধ করা যায়।

বিভিন্ন ফুটবল ক্লাবের এখন এলজিবিটিকিউ সমর্থক গোষ্ঠী আছে।

আরও পড়ুন:

তবে মিলি ল্যাকোম্ব মনে করেন, এজন্য সচেতনতা বাড়াতে অনেক শিক্ষামূলক কার্যক্রম নিতে হবে, যাতে করে ফুটবল যে কেবল পুরুষদের খেলা নয়, সেই ধারণা পাল্টানো যায়।

"ফুটবল ক্লাবের নারী সমর্থকদের জন্য নারীর শরীরের উপযোগী শার্ট আলাদা করে বানানো হচ্ছে, কিনতে পাওয়া যাচ্ছে, এটা তো মাত্র সেদিনের ঘটনা", বলছিলেন তিনি।

মিলি ল্যাকোম্ব বলেন, "মেয়েরা এবং এলজিবিটিকিউ মানুষেরাও ফুটবলের অংশ হতে চান, কিন্তু মনে হচ্ছে ফুটবল খেলা যেন এখনো নারীবিদ্বেষ এবং সমকামী-বিদ্বেষের সর্বশেষ শক্ত ঘাঁটি।"