বাংলাদেশের অর্থনীতি: আইএমএফের ঋণ রাজনৈতিকভাবে কতটা চ্যালেঞ্জিং হতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের জন্য?

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ)

ছবির উৎস, Getty Images

    • Author, সায়েদুল ইসলাম
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের কাছে বাংলাদেশের সরকার যে প্রায় সাড়ে চারশো কোটি ডলার ঋণ চেয়েছে, সেই বিষয়ে আলোচনা করতে সংস্থাটির একটি প্রতিনিধি দল বুধবার বাংলাদেশে এসে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।

দশ সদস্যের এই প্রতিনিধি দলটি আগামী ৯ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবে।

সংস্থাটির পাঠানো বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই সফরে তারা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও আর্থিক সংস্কার ও নীতি নিয়ে আলোচনা করবে।

গত বেশ কয়েকমাস ধরে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছে। টাকার সাথে ডলারের বিনিময় হার অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। ঝুঁকিতে পড়েছে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার আয় ও ব্যয়ের ভারসাম্য ।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সেই সংকট সামলাতেই এখন আইএমএফের কাছে সাড়ে চারশো কোটি ডলার ঋণ চাইছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও ঋণ পাওয়ার চেষ্টা চলছে।

ঋণ পেতে আইএমএফের শর্তের বাস্তবায়ন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জন্য রাজনৈতিকভাবে কতটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে?

ভিডিওর ক্যাপশান, ডলারের ব্যবহার কোথায় ও কীভাবে হয় বাংলাদেশে?

"দরকার হলেও দরকষাকষির সুযোগ আছে"

অতীতে দেখা গেছে, যেকোনো দেশেই ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে আইএমএফ নীতিগত কিছু সংস্কারের শর্ত দিয়ে থাকে। অনেক সময় এসব কঠোর শর্ত দেয়া হয়, যার বাস্তবায়ন রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

আইএমএফের সঙ্গে এই ঋণের আলোচনাও শুরু হয়েছে এমন সময়, যখন দেশটি অর্থনৈতিক ও বৈদেশিক মুদ্রা সংকটে ভুগছে, অন্যদিকে সামনের বছর সাধারণ নির্বাচন হতে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশ ১৯৭২ সাল থেকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের একটি সদস্য দেশ। এর আগে একাধিকবার এই প্রতিষ্ঠান থেকে বাংলাদেশ ঋণ নিলেও তা কখনো ১০০ কোটি ডলারের সীমা পার হয়নি।

রেমিটেন্স কম আসা এবং রপ্তানি আয়ের তুলনায় জ্বালানি তেল, গ্যাস, খাদ্য পণ্যের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানি অনেক বেড়ে যাওয়ায় বৈদেশিক বাণিজ্যের ঘাটতি অনেক বেড়েছে। ফলে ব্যালেন্স অব পেমেন্ট নিয়েও দেশটি জটিলতায় পড়েছে।

পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার সংকট সামলাতে বাজারে ডলার ছেড়েছে বাংলাদেশে ব্যাংক। ফলে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আশঙ্কাজনকভাবে কমে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯শে অক্টোবর দেশে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৫.৯৮ বিলিয়ন ডলার।

পাশাপাশি আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে আরও ঋণ পেতে বাংলাদেশে যে আলোচনা শুরু করেছে, সেখানেও প্রভাবক হিসাবে কাজ করতে পারে এই ঋণ। তাই প্রতিনিধি দলের এই বাংলাদেশ সফরকে আইএমএফের শর্তগুলোর প্রতি সরকারের নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

ভিডিওর ক্যাপশান, বিশ্ব অর্থনীতিতে কীভাবে আধিপত্য করছে মার্কিন ডলার?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির শিক্ষক সায়মা হক বিদিশা বলছেন, দেশের অর্থনীতির জন্য ঋণটি জরুরি হলেও সরকারেরও দরকষাকষির সুযোগ রয়েছে।

''আইএমএফের এই ঋণটা যে যে কারণে চাওয়া হয়েছে, সেই কারণগুলোর দিকে যদি তাকাই, তাহলে দেখা যাবে, বৈশ্বিক মন্দার কারণে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এখন তো সংকটে আছেই, ভবিষ্যতেও আরও বেশি সংকটাপন্ন বলে দেখা যাচ্ছে। ফলে এখনি যদি আমরা ঋণটা নিয়ে নেই, সেটা দেশের অর্থনীতির জন্য একটা নিরাপত্তা হিসাবে কাজ করবে।''

কিন্তু বাংলাদেশের আর্থিক অবস্থা এখনো বেপরোয়া পর্যায়ে যায়নি বলে তিনি বলছেন। ফলে এই ঋণ নিয়ে দরকষাকষিরও সুযোগ আছে।

''তারা যেসব শর্তের কথা বলে, তার অনেকগুলো কিন্তু আমাদের দেশের অর্থনীতিবিদরা বলে আসছেন, সরকার নিজেও সেটার দরকার বোধ করে। যেমন করখাতের সংস্কার। কিন্তু হয়তো নানা কারণে তারা সেটা বাস্তবায়নে কঠোর হয়নি। এরকম শর্তগুলো নিয়ে তো আপত্তির কিছু নেই। কিন্তু কোন শর্ত নিয়ে যদি দ্বিমত থাকতে পারে অথবা জনপ্রিয় না হতে পারে বলে মনে হয়, সেসব নিয়ে কিন্তু সরকার কিছুটা দরকষাকষি করতে পারে,'' বলছেন অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা।

যখন কোন দেশ ব্যালেন্স অব পেমেন্ট বা রিজার্ভ নিয়ে সংকটে পড়ে, তখন সাধারণত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের দ্বারস্থ হয়।

কিন্তু আইএমএফ ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের আর্থিক খাতের সংস্কারের কিছু শর্ত দিয়ে থাকে।

ডলার

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ডলার সরবরাহ বাড়িয়ে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হলেও তা খুব একটা কাজে আসছে না

''সরকারের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে''

অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, কঠোর শর্তের কারণে বিশ্বের অনেক দেশ সাধারণত আইএমএফের ঋণ নিতে আগ্রহী হয় না। কারণ এসব শর্ত বাস্তবায়ন করতে দিয়ে অনেক সময় রাজনৈতিক দলগুলোকে দেশের ভেতরে বিরূপ পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।

তবে সারা বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শর্তের কথা জেনেও অনেক দেশ এখন আইএমএফের ঋণ সহায়তা চাইছে। বাংলাদেশ তার অন্যতম।

অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন,''আমি মনে করি, এসব শর্তের ব্যাপারে কিছুটা হলেও সরকারের সম্মতি আছে। তা না হলে তারা এতদূর যেত না। আইএমএফের স্টেটমেন্ট দেখে মনে হচ্ছে, তারাও আশাবাদী এখানে কিছু হবে। সরকারও চাপের মধ্যে আছে। কিছু করতে হলে তাদের দ্রুত করতে হবে। এখানে খুব বেশি দেরি করার সুযোগ সরকারের কাছে নেই,'' তিনি বলছেন।''

লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমেদ বলছেন, অর্থনৈতিক সংকটের কারণে এবার রাজনৈতিক ঝুঁকি থাকলেও আওয়ামী লীগ ঋণটি নিতে চায়।

তিনি বলছেন, ''খুব না ঠেকলে তো কোন দেশ আইএমএফের দ্বারস্থ হয় না। বাংলাদেশও এবার বিপদে পড়েই তাদের কাছে গেছে, বড় অংকের ঋণ চাইছে। এখন তাদের শর্তগুলো গিলতে হবে। দ্রুত আমাদের রিজার্ভ ফুরিয়ে যাচ্ছে। সামনে ১৪/১৫ মাস পরে নির্বাচন।''

''সরকারের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। তারা যেভাবে হোক আইএমএফকে খুশী করে ঋণটা পেতে চাইবে। তাদের এটা করতে হবে, কারণ যতক্ষণ সরকারে আছে, ততক্ষণ এটা করা ছাড়া তাদের উপায়ও নেই,'' বলছেন মি. আহমেদ।

তবে তিনি বলছেন, ''নির্বাচনের আগে আগে এটার সুযোগ বিরোধীরা নিতে চাইবে। তারা এটার কড়া সমালোচনা করবে, নির্বাচনের আগে এটা নিয়ে একটা উত্তাপ শুরু হবে। যদিও তারা এই পরিস্থিতি থাকলে তারাও একই পদক্ষেপ নিতো। সরকারে থাকলে এটা করা ছাড়া এখন করার কিছু নেই।''

বাণিজ্য উদারীকরণের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি লাভবান হয়েছে বলে মনে করেন অনেকে।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বাণিজ্য উদারীকরণের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি লাভবান হয়েছে বলে মনে করেন অনেকে।

কী শর্ত দিতে পারে আইএমএফ?

আইএমএফ কি কি শর্ত দিতে যাচ্ছে, কোন বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে, এ নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে পরিষ্কারভাবে কিছু জানানো হয়নি।

সর্বশেষ গত মার্চ মাসে বাংলাদেশ বিষয়ে আইএমএফ স্টাফ ও এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টরের পর্যালোচনা প্রতিবেদনে বাংলাদেশের আর্থিক ও অর্থনৈতিক খাতে বেশ কিছু সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা ধারণা করছেন, সেসব সুপারিশ বা শর্ত এবারের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।

এর মধ্যে রয়েছে:

  • বাংলাদেশের রাজস্ব ও কর নীতির সংস্কার করতে হবে। বিশেষ করে রাজস্ব বাড়াতে হবে। সেজন্য ব্যয়ভার সীমিত করতে হবে এবং ব্যয়ের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে।
  • আর্থিক ব্যবস্থায় আমানত ও ঋণের যে সীমা বেধে দেয়া আছে, সেটা তুলে দিতে হবে।
  • মুদ্রানীতির আধুনিকায়ন করতে হবে। মুদ্রাবাজারের ওপর কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ তুলে দিতে হবে।
  • রিজার্ভ যথেষ্ট থাকলেও সেটা সুরক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া এবং সতর্কতা নিতে হবে।
  • দেশের বিভিন্ন খাতের ভর্তুকি কমিয়ে আনতে হবে।
  • ব্যাংকিং খাতে বিধিমালার কঠোর বাস্তবায়ন ও নজরদারি জোরালো করতে হবে। বিশেষ করে আইনের প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে যাতে খেলাপি ঋণ হ্রাস পায়।
  • আর্থিক খাতের দুর্বলতা দূর করা এবং পুঁজি বাজার শক্তিশালী করে তুলতে হবে।
  • করোনাভাইরাসের সময়কার খরচের নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হলেও সেটা প্রকাশ করা উচিত।
  • রপ্তানির বহুমুখীকরণ, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে পদক্ষেপ নেয়া, উৎপাদন বাড়ানো, মানব সম্পদের উন্নয়ন ও দুর্নীতি বন্ধে পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ।
  • জলবায়ু পরিবর্তনে পদক্ষেপ ও তহবিল বরাদ্দে সংস্কার কার্যক্রমেরও পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে আইএমএফের প্রধান দফতর

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে আইএমএফের প্রধান দফতর

অর্থনীতিবিদরা ধারণা করছেন, এর মধ্যে রাজস্ব ও কর খাতের সংস্কার, আমানত ও ঋণের সুদ হারের সীমা তুলে দেয়া, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার ও জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত কয়েকটি শর্ত আইএমএফ ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।

ডলার সংকটের কারণে এর মধ্যেই মুদ্রাবাজারের ওপর থেকে কর্তৃত্ব অনেকটাই তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আইএমএফের পরামর্শ মেনে অতীতে যেমন বাংলাদেশের লোকসানে থাকা পাটকল বন্ধ করা হয়েছিল, তেমনি ভ্যাট ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল।

অর্থনীতির জন্য লাভজনক হলেও সেই সময় এসব সিদ্ধান্তে বিক্ষোভও হয়েছিল।

আইএমএফের শর্ত নিয়ে কী ভাবছে আওয়ামী লীগ?

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা মাহবুব উল আলম হানিফ বিবিসি বাংলাকে বলছেন, সরকার এমন কোন সিদ্ধান্ত নেবে না, যা জনগণের জন্য ভালো হবে না।

তিনি বলছেন, ''তাদের আলোচনার বিষয়বস্তু কি, আমাদের ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে তারা কী ধরনের শর্ত দেবেন নাকি দেবেন না, তা আমাদের কাছে এখনো পরিষ্কার নয়। তবে আমরা মনে করি, জনগণের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে যেটা ভালো হয়, সরকার সেরকম সিদ্ধান্ত নেবেন।''

''কোন সংস্থা বা কোন প্রতিষ্ঠান যদি এমন কোন শর্ত দেয়, যেটা দেশের অগ্রগতিতে বাধা হতে পারে অথবা জনগণের মধ্যে কষ্ট তৈরি করতে পারে, অবশ্যই সরকার সে ধরণের কোন প্রস্তাবে সম্মত হবে না,'' বলছেন মি. হানিফ।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আইএমএফ যেসব শর্ত দেবে, তার অনেকগুলো বাস্তবায়নের জন্য বেশ কিছুটা সময় পাবে বাংলাদেশ। যেমন রাজস্ব খাতের সংস্কারে হয়তো তিন বা চার বছর সময় পাওয়া যাবে।

আবার কিছু কিছু পদক্ষেপ আশু নেয়ার জন্য বলতে পারে সংস্থাটি। যেমন বর্তমানে আমানত ও ঋণে যে ৬ এবং ৯ শতাংশ সুদের হার রয়েছে, সেটা তুলে দিতে বলতে পারে। এর দ্রুত বাস্তবায়ন চাইতে পারে আইএমএফ।

আইএমএফ ও বিশ্ব্যাংকের শর্ত মেনে বাংলাদেশে লোকশানের মুখে থাকা পাটকল বন্ধ করা হয়েছিল।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, আইএমএফ ও বিশ্ব্যাংকের শর্ত মেনে বাংলাদেশে লোকশানের মুখে থাকা পাটকল বন্ধ করা হয়েছিল।

আর্থিক সংস্কার করতে গেলে সেটা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হলেও অনেক সময় জনসাধারণের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। যেখানে সামনের বছর নাগাদ বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে, সেখানে এসব সংস্কার কতটা বাস্তবায়নে আগ্রহী হবে সরকার?

অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর বলছেন, ''আসলে দেশের অর্থনীতি যে অবস্থায় দাঁড়িয়েছে, তাতে এসব সংস্কার করা ছাড়া, আইএমএফের শর্ত মানা ছাড়া সরকারের সামনে বড় কোন বিকল্প নেই। কারণ সেটা করতে গেলে শুধু আইএমএফ নয়, বিশ্বব্যাংক বা এডিবির মতো অন্য সংস্থাগুলোর আস্থা হারাবে সরকার। আবার দেশের রিজার্ভ, ব্যালেন্স অব পেমেন্টের ঘাটতি আর মুদ্রাবাজারের যে অবস্থা, তাতে সরকারের একার পক্ষে বেশিদিন টেনে নিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।''

রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আইএমএফের শর্ত খুব বেশি কঠোর হলেও তাতে যদি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটে, তাতে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া কম হবে।

ফলে রাজনৈতিক কারণে সাধারণ নির্বাচনের সময় এ নিয়ে আলোচনাও হতে পারে।

কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, এখনো নির্বাচনের জন্য এক বছরের বেশি সময় বাকি রয়েছে। তার আগেই দেশের অর্থনৈতিক সংকট সামলাতে হবে বর্তমান সরকারকে। সেই সঙ্গে সংকট সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনের মুখোমুখি হওয়ার চেয়ে কিছু সংস্কার করে স্থিতিশীল অর্থনীতি নিয়ে নির্বাচনে যাওয়াই আওয়ামী লীগের জন্য রাজনৈতিকভাবে বেশি লাভজনক হবে।

তারা বলছেন, দলটি হয়তো সেই পথই বেছে নিয়েছে।