আটক করা রোলস-রয়েস গাড়ি খালাসে শুল্ক-জরিমানাসহ গুণতে হবে ৮৫ কোটি টাকা

গত জুলাই মাসে ঢাকার বারিধারা থেকে রোলস-রয়েস গাড়িটি আটক করেছিল শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর

ছবির উৎস, CUSTOMS INTELLIGENCE/FACEBOOK

ছবির ক্যাপশান, গত জুলাই মাসে ঢাকার বারিধারা থেকে রোলস-রয়েস গাড়িটি আটক করেছিল শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর
    • Author, সায়েদুল ইসলাম
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা

বাংলাদেশে শুল্ক আইন লঙ্ঘন করার অভিযোগে জব্দ করা একটি রোলস-রয়েস গাড়ির দাম ও জরিমানাসহ খালাসে ৮৫ কোটি টাকা গুণতে হবে আমদানিকারকদের।

গত জুলাই মাসে শুল্ক ঠিকভাবে পরিশোধ না করায় চট্টগ্রামের রোলস-রয়েস গাড়িটি ঢাকার বারিধারা থেকে আটক করে শুল্ক ও গোয়েন্দা অধিদপ্তর।

গত ১২ই অক্টোবর কাস্টমস কমিশনারের আদেশে গাড়িটির শুল্ক ও কর বাবদ ২৮ কোটি ২৯ টাকার পাশাপাশি ৫৭ কোটি টাকা জরিমানা দিতে বলা হয়।

ফলে সব মিলিয়ে গাড়িটি খালাস করতে হলে গুনতে হবে ৮৫ কোটি নয় লাখ টাকা। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে। তবে আমদানিকারক চাইলে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে পারবেন।

রোলস-রয়েস হচ্ছে যুক্তরাজ্যে তৈরি করা বিশ্বের অন্যতম দামী গাড়ি। বাংলাদেশে আমদানি করা গাড়িটি এসইউভি ধরনের । এটি ২০২১ সালে উৎপাদিত কালিনান মডেলের ৬,৭৫০ সিলিন্ডার ক্যাপাসিটির একটি গাড়ি।

রোলস-রয়েস গাড়ি নিয়ে যা ঘটেছে

গত জুলাই মাসে ঢাকার বারিধারা থেকে একটি রোলস-রয়েস গাড়ি জব্দ করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

সংস্থার মহাপরিচালক ফখরুল আলম বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ''চট্টগ্রাম ইপিজেডের একটি প্রতিষ্ঠানের আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধার আওতায় বেপজা থেকে অনুমতি নিয়ে গাড়িটি আমদানি করা হয়েছিল।"

"নিয়ম অনুযায়ী, ইপিজেডের পণ্যের ফ্যাক্টরিতে পণ্য নেয়ার পর সেটার কাস্টমস এক্সামিন, অ্যাসেসমেন্ট করা হয়। দেখা হয় যে, গাড়িটি রেয়াতি সুবিধা পাবে কিনা। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত জানানোর আগেই, কাস্টমসকে না জানিয়ে গাড়িটি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় নিয়ে আসেন আমদানিকারকরা।''

এরপর গোয়েন্দা সূত্রে খবর পেয়ে গাড়িটি বারিধারা থেকে জব্দ করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সদস্যরা।

চট্টগ্রাম ইপিজেডের বাংলাদেশ ও হংকং যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত জেড অ্যান্ড জেড ইনটিমেটস লিমিটেড গত এপ্রিল মাসে গাড়িটি আমদানি করে। নিয়ম অনুযায়ী, রপ্তানিমুখী শিল্পে ব্যবহারের জন্য ইপিজেডে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো গাড়ি আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেতে পারে।

শুল্কায়ন জটিলতায় বন্দরে আটকে থাকা গাড়ি অনেক সময় নিলামে বিক্রি করে থাকে বন্দর কর্তৃপক্ষ

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, শুল্কায়ন জটিলতায় বন্দরে আটকে থাকা গাড়ি অনেক সময় নিলামে বিক্রি করে থাকে বন্দর কর্তৃপক্ষ

কাস্টমস কমিশনারের বিচারাদেশে বলা হয়েছে, শুল্কমুক্ত সুবিধায় গাড়িটি আমদানি করা হলেও শুল্কায়ন হওয়ার আগেই সেটিকে অপসারণ করা হয়েছে। আবার শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাজ ছাড়া অন্য কোনও কাজে ব্যবহারের সুযোগ না থাকলেও প্রজ্ঞাপনের নিয়ম লঙ্ঘন করে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য নিজস্ব বাসভবনে রাখা হয়েছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, শুল্কমুক্ত সুবিধার জন্য প্রজ্ঞাপনে ২০০০ সিসি পর্যন্ত গাড়ি আমদানির কথা বলা হয়েছে। আবার যে প্রতিষ্ঠান আমদানি করবে, ইপিজেডে তার অন্তত পাঁচ বছর ধরে কার্যক্রম থাকতে হবে। এসব শর্ত পূরণ না হওয়ায় এই গাড়িটি শুল্কমুক্ত সুবিধার মধ্যে পড়বে না।

ফলে শুল্ককর সুবিধা না পাওয়ায় এই গাড়ির শুল্ককর দিতে হবে ২৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা। সেই সঙ্গে আমদানিকারককে ৫৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি বিমোচন জরিমানা (বাজেয়াপ্ত না করার জন্য অর্থদণ্ড) করা হয়েছে ৪০ লাখ টাকা। গাড়িটি খালাস করতে হলে সব মিলিয়ে আমদানিকারককে ৮৫ কোটি নয় লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে।

আমদানি নথিতে গাড়িটির দাম দেখানো হয়েছে দুই লাখ ডলার বা প্রায় সোয়া দুই কোটি টাকা।

সাধারণত এ জাতীয় একটি গাড়িতে শুল্কায়িত মূল্যের আটগুণ শুল্ককর দিতে হয়। অর্থাৎ গাড়ির মূল্য এক টাকা হলে শুল্ক দিতে হবে আট টাকা।

কী বলছেন আমদানিকারকরা

জেড অ্যান্ড জেড ইনটিমেটস লিমিটেড হচ্ছে বাংলাদেশের অনন্ত গ্রুপ ও হংকংয়ের ব্রিলিয়ান ওয়েমন ট্রেডিং লিমিটেডের যৌথ মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠান।

অনন্ত গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ জহির বিবিসি বাংলাকে বলছেন, আইনের সব নিয়মনীতির ভেতরে থেকেই তারা গাড়িটি আমদানি করেছেন।

''ইপিজেডের রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান হিসাবে আইনেই আমাদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ দেয়া হয়েছে। সেসব নিয়ম মেনেই আমরা বেপজার অনুমতি নিয়ে এটা আমদানি করেছি। ফ্যাক্টরিতে আনার পর ইন্সপেকশনও হয়েছে। যে কোম্পানির কথা বলা হয়েছে, সেটা আমরা ২০১৭ সালে কিনলেও অপারেশনে আছে ২০০৭ সাল থেকে।''

তিনি জানান, কন্টেইনার থেকে গাড়িটি খোলার পর কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দেখা যায়। এরপর সেটা মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্টদের মৌখিকভাবে জানিয়েই ঢাকায় মেরামতের জন্য পাঠানো হয়েছিল। এখানে কীভাবে আইনের ব্যত্যয় হয়েছে, তা তারা বুঝতে পারছেন না।

''আমরা যা কিছু করেছি, আইনের মধ্যে থেকেই করেছি। এখানে কোন ইস্যু হওয়ার কথা নয়। আমরা অবশ্যই ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবো, '' বলছেন শরীফ জহির।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর: